‘দলে জামায়াতের আদর্শের বিস্তার ঘটেছে’ অভিযোগ তুলে এনসিপি নেতার পদত্যাগ
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান দলে জামায়াতে ইসলামীর আদর্শিক বিস্তার ও “মুজিববাদী” তকমা দেওয়ার অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর ) রাতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর পাঠানো এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
আব্দুর রহমান অভিযোগ করেছেন যে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী ও রাজনৈতিক সমঝোতা বর্তমানে আদর্শিক ঐক্যে রূপ নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে একে সাময়িক রাজনৈতিক কৌশল বলা হলেও বর্তমানে দুই দলের বক্তব্যের কোনো পার্থক্য নেই। দলটির কেন্দ্র থেকে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত জামায়াতী আদর্শের বিস্তার ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক জোট ও আদর্শিক জোট আলাদা থাকবে—এমন প্রত্যাশায় এত দিন দলে থাকলেও এখন সেই পার্থক্য আর দেখছেন।
আবদুর রহমানের অভিযোগ, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নিয়ে এনসিপির নেতা-কর্মীদের অবস্থান জামায়াত-শিবিরের বক্তব্যের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।
শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী ১৫ আগস্ট তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্ট দেওয়ার পর দলের কয়েকজন তাকে ‘আওয়ামী লীগ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, এ ধরনের আচরণ তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। সব মিলিয়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে নৈতিক ও আদর্শিকভাবে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
আবদুর রহমান একসময় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।
২০২২ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটি সম্প্রসারণের সময় তাঁকে সদস্য করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। অভ্যুত্থানের পর এনসিপিতে যোগ দেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এনসিপির প্রাথমিক প্রার্থী তালিকায় শরীয়তপুর-১ আসনে তার নাম ছিল। পরে ১১-দলীয় ঐক্যের শরিক হিসেবে এনসিপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাকে আর মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।
দল ছাড়ার প্রসঙ্গে আবদুর রহমান একটি জাতীয় দৈনিককে বলেন, নির্বাচনের আগে জামায়াতের সঙ্গে জোটকে সাময়িক রাজনৈতিক সমঝোতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু এখন দুই দলের বক্তব্যে তেমন পার্থক্য দেখা যাচ্ছে না। আদর্শগতভাবেও তারা এক হয়ে যাচ্ছে বলে তার মনে হয়েছে।
১৫ আগস্টের পোস্ট ঘিরে সহকর্মীদের কাছ থেকে ‘আওয়ামী লীগ’ তকমা পাওয়ায় কষ্ট পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তারপরেও আবদুর রহমানের অভিযোগের সঙ্গে একমত নন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার।
শুক্রবার রাতে দেশের একটি গণমাধ্যমকে সারোয়ার তুষার বলেন, আবদুর রহমান দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় ছিলেন এবং দেশের বাইরে চলে গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে মত প্রকাশ করতেও দেখা গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
সারোয়ার তুষারের ভাষ্য, পুনর্গঠিত কমিটিতে আবদুর রহমানকে রাখা হবে না—এমন বিষয় জানার পরই তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
জামায়াতের সঙ্গে আদর্শিক দূরত্ব কমে যাওয়ার অভিযোগকে গুরুত্বহীন উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এটাই যদি পদত্যাগের মূল কারণ হতো, তাহলে নির্বাচনের আগে অন্যদের দল ছাড়ার সময় তিনি কেন সরে যাননি।

গার্ড অব অনার শেষে পারিবারিক কবরস্থানে সাংবাদিক শফিকুর রহমান শেষ নিদ্রায়

















