শিরোনাম:

আধুনিক প্রযুক্তিতে হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গড়তে পারে সবুজ বাংলাদেশ

আধুনিক প্রযুক্তিতে হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গড়তে পারে সবুজ বাংলাদেশ

ড. নাসির খান : যুক্তরাজ্য প্রবাসী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরামর্শক

 

দেশে প্রতিদিন যে পরিমাণ বর্জ্য উৎপাদন হচ্ছে তার প্রায় ২০ শতাংশই মেডিকেল বর্জ্য। ঢাকায় দৈনিক তৈরি ১৪ টন মেডিকেল বর্জ্য, অব্যবস্থাপনায় ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের চিকিৎসা চাহিদা মেটাতে যেখানে স্বাস্থ্যব্যবস্থা হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে চিকিৎসা বর্জ্য নিরাপদ ব্যবস্থাপনার অভাব জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের উপর এক গুরুতর বিপর্যয় ডেকে আনছে। আধুনিক এ প্রযুক্তির মেশিনের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাত্র ৩০ মিনিটেই মেডিকেল বর্জ্যকে সাধারণ বর্জ্যে পরিণত করা সম্ভব। এতে করে একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখে, অন্যদিকে এটি পরিবেশবান্ধবও। এ নিয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরামর্শক ড. নাসির খান পাঠিয়েছেন তার সুচিন্তিত পরামশর্ক একটি লেখা তা এখানে তুলে ধরা হলো :

 

Wikipedia, ২০২৩ এর হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে আনুমানিক ৫৮১৬ টি সরকারি, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক চালু আছে। বর্তমানে এর সংখ্যা হয়ত আরও অনেক বেশী। অপরদিকে Association of Bangladesh Private Clinic and Diagnostic centre এর হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৭৪৬৫ টি প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগন্সটিক সেন্টার তালিকাভুক্ত আছে। আবার এর বেশীর ভাগই ঢাকায় অবস্থিত। অন্যদিকে সরকার সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে আনুমানিক ১৬৪৩৮ টি কমিউনিটি ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং প্রায় ৩০০০০ সেটেলাইট ক্লিনিক স্থাপন করেছেন। এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হয় যা প্রতিদিন এলোমেলোভাবে সারা দেশে বিভিন্ন স্থানে ফেলা হয়। খুব কম সংখক হাসপাতালেই বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থাপনা স্থাপিত আছে।

হাসপাতাল হতে উৎপন্ন বর্জ্য সঠীক ও স্বাস্থ্য সম্মত ভাবে ব্যবস্থাপনা করা না হলে, তা জনসাস্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হয়। সাধারনত, প্রতিটি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে জনপ্রতি (রুগী হিসাবে) দৈনিক ০.২০ কেজি থেকে ০.৫০ কেজি পর্যন্ত বর্জ্য উৎপন্ন হয়ে থাকে। উৎপন্ন সব বর্জ্যই জনস্বাস্থ্যের জন্য সমান ক্ষতিকারক এমন নয়, এর মধ্যে মাত্র ১৫-২০% উৎপন্ন বর্জ্য জনসাস্থের জন্য খুব ক্ষতিকর হয়ে থাকে। কিন্তু, উৎপন্ন বর্জ্য সঠিকভাবে উৎপত্তিস্থলে পৃথকিকরনের (Segregation at source) মাধ্যমে সংগ্রহ করা না হলে, সব বর্জ্যই ক্ষতিকারক হিসাবে পরিণত হয়ে থাকে। সাধারণতঃ হাসপাতাল বর্জ্যের সরাসরি বা পরোক্ষ সংস্পর্শ থেকে নানারকম জটিল রোগব্যাধি সমাজে ছড়াতে পারে, তা এমনকি হেপাটাইটিস বি ও সি, এইচআইভি/এইডস এবং ক্যানসার ও।

 

শুধুমাত্র হাসপাতাল থেকেই এসব রোগবালাই ছড়ায় তা না, বরং বিক্ষিপ্ত ভাবে হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে উৎপত্তিস্থলে পৃথকিকরন (Segregation at source) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তা না হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যাপ্তি এবং খরচ দুইই বৃদ্ধি পাবে। পৃথকিকরনের পর, উপরোক্ত ছক অনুযায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে হবে।

 

মুলতঃ ইনসিনারেশন (Incineration) হচ্ছে ৮৫০-১২০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় বর্জকে ভস্মিভুত করণ বা পুড়িয়ে ফেলা, আর অটোক্লেভিং (Autoclaving) হচ্ছে বাষ্পের উপস্থিতিতে নির্ধারিত তাপে (১২১-১৩৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড) ও চাপে (১৫ পি এস আই) বর্জ্যকে সিদ্ধ করে জীবাণু মুক্ত করা ( অনেকটা প্রেশার কুকারের মত )। হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে উপরোক্ত দুইটিই মূল পদ্ধতি।

আজকাল, ছোট বড় সব আকারের ইনসিনারেটর (Incinerator) বা অটোক্লেভ (Autoclave) আন্তর্জাতিক বাজারে পাওয়া যায়। ফলে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এ সব প্রকল্প যে কোন হাসপাতাল একক ভাবে অথবা সম্মিলিতভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে, সরকারি নির্দেশনাই যথেষ্ট। অনেকে মনে করেন, ইনসিনারেটর পদ্ধতি ব্যাবহারে বায়ু দূষণ হয়, কিন্তু এই ধারণা সঠিক নয়, উন্নত প্রযুক্তির ইনসিনারেটর ব্যাবহার করলে তাতে ইউরোপিয়ান মানমাত্রার বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সংযুক্ত থাকে। অন্যদিকে আধুনিক প্রযুক্তির অটোক্লেভে শ্রেডার (Shredder) সংযুক্ত থাকে যাতে বর্জ্যগুলি পরিশোধনের পর ছোট ছোট টুকরা আকারে বের হয় যাতে কেউ এর পুনঃব্যবহার করতে না পারে।

অনেকে মনে করে থাকেন, শুধুমাত্র অটোক্লেভ ব্যবহার করে পুরাপুরি হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা যায় । কিন্তু আসলে তা সত্যি না, যেমন অস্ত্রোপচার থেকে উৎপন্ন মানবদেহের অংশবিশেষ, অব্যবহৃত, বাতিক্রিত বা মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ, সুই ও ব্যবহৃত ধারালো সামগ্রী ইত্যাদি ইনসিনারেশন করা জরুরী। তাই ইনসিনারেটর এবং অটোক্লেভ সমন্বয়ে অথবা শুধুমাত্র ইনসিনারেটর ব্যবহার করে হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রকল্প গ্রহন করতে হবে।

ভারতে অনেকস্থানে শুধুমাত্র অটোক্লেভ ব্যাবহার করার প্রচলন আছে। এই ক্ষেত্রে তারা হলুদ তালিকার বর্জ্য মাটির নীচে পুঁতে রাখে, আর নীল এবং কালো তালিকার বর্জ্য অটোক্লেভ করে। তাতে পরবর্তীতে এই ধারালো এবং বাতিক্রিত বা মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ সংক্রান্ত বর্জ্য থেকে পুনরায় সংক্রমণ হওয়ার আশংকা থাকে।

ইউরোপে বেশিরভাগ দেশ শুধুমাত্র ইনসিনারেটর ব্যবহার করে (যেমন যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন ইত্যাদি), আবার কিছু দেশ ইনসিনারেটর এবং অটোক্লেভ দুটিই ব্যবহার করে থাকে (যেমন ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ড ইত্যাদি)। তবে, কোন সংস্থা বা সরকার যদি গৃহস্থালী বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ (Municipal Waste to Electricity) প্রকল্প বাস্তবায়ন করে, তবে হাসপাতালের সব ধরনের বর্জ্য ও একই সাথে পুড়িয়ে ফেলা যাবে।

একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে, হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধুমাত্র যন্ত্রপাতি স্থাপন নয়, এটি একটি সমন্বিত পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা। এখানে বর্জ্য সংগ্রহ থেকে চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত জড়িত সবাইকেই যথাযথভাবে প্রশিক্ষন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালনার কাজ দক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এইমুহূর্তে, জনসাস্থের কথা বিবেচনায় রেখে অনতিবিলম্বে হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমন্বিত প্রকল্প গ্রহন করা জরুরী।

আজকের শিক্ষার্থীরাই জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব: রাষ্ট্রপতি

আধুনিক প্রযুক্তিতে হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গড়তে পারে সবুজ বাংলাদেশ

আজকের তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীরাই জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বঙ্গভবন পরিদর্শনে আসা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে বঙ্গভবন পরিদর্শনে আসা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি জারি হওয়া ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের বঙ্গভবন ভ্রমণ সংক্রান্ত নীতিমালা’২০২৬’-এর আওতায় প্রথমবারের মতো মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা বঙ্গভবন পরিদর্শন করলেন। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠানটির ৭ম থেকে ৯ম শ্রেণির বাছাই করা সেরা শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা পরিদর্শনে অংশ নেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা বঙ্গভবনের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। পরে বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন এবং তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। নতুন প্রজন্মকে বঙ্গভবন ও রাষ্ট্রের ইতিহাস-ঐতিহ্য বিষয়ে আগ্রহী করে তুলতে অভিনব এ আয়োজনে পরিদর্শনে আসা শিক্ষার্থীরা এই প্রথম রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কুশল বিনিময় ও অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতার সুযোগ পান।

রাষ্ট্রপতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্যে গুরুজন ও শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান করার পাশাপাশি সন্তানের জন্য বাবা-মায়ের আত্মত্যাগের কথা স্মরণে রেখে নিজেদের গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নিজেদের সুশিক্ষিত ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে যেমন বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ হবে, তেমনি জাতির প্রত্যাশাও পূরণ হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গভবন শুধু একটি ভবন নয়, এটি রাষ্ট্রের প্রতীক, ইতিহাসের স্বাক্ষী।

ভবিষ্যতে পালাক্রমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বঙ্গভবন পরিদর্শনে নিয়ে আসা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গভবন নিয়ে, রাষ্ট্র নিয়ে, ভবিষ্যতের নেতৃত্ব নিয়ে যেন তোমাদের আগ্রহ সৃষ্টি হয়, সে জন্যই আজ তোমাদের এই পরিদর্শন।’

এ সময় রাষ্ট্রপতি বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত শিক্ষায় দক্ষ হয়ে নতুন নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতির সচিব ও প্রেস সচিবসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গার্ড অব অনার শেষে পারিবারিক কবরস্থানে সাংবাদিক শফিকুর রহমান শেষ নিদ্রায়

আধুনিক প্রযুক্তিতে হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গড়তে পারে সবুজ বাংলাদেশ

বিশিষ্ট সাংবাদিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমানের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ২টায় ফরিদগঞ্জের বালিথুবা আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা ও গার্ড অব অনার অনুষ্ঠিত হয়।

বিশিষ্ট সাংবাদিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমানের দ্বিতীয় জানাজা নিজ গ্রামে। ছবি : সংগৃহীত

জানাজার আগে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে জানাজা শেষে, তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এর আগে গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীতে নিজ বাসার বাথরুমে হার্ট অ্যাটাক করে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন শফিকুর রহমান। পরে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ শফিকুর রহমান :

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ শফিকুর রহমান ২৪ অক্টোবর ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি হৃদরোগে (স্ট্রোক) আক্রান্ত হয়ে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত অবস্থায় তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। স্বাধীনতার পর তিনি পত্রিকাটিতে স্থায়ীভাবে যোগ দেন এবং টানা ৩২ বছর কর্মরত থাকার পর ২০০২ সালে অবসর নেন।

তিনি ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকও নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘সিটিজেন টিভি’-র চেয়ারম্যান ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। সাংবাদিকতায় উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য তিনি যুক্তরাজ্য, জাপান ও জার্মানি সফর করেন।

ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার’২০২৬ পেলেন মাহমুদা চৌধুরী ও মেজবাউর রহমান সুমন

আধুনিক প্রযুক্তিতে হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গড়তে পারে সবুজ বাংলাদেশ

ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার গ্রহণ করছেন মাহমুদা চৌধুরী । ছবি : এসএম নাসির

দেশের প্রথম চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকা সিনেমা’র সম্পাদক এবং প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রেসিডেন্টের পরিচালক ফজলুল হক স্মরণে আজ দুপুর ১২টায় চ্যানেল আই-এর স্টুডিওতে ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার ২০২৬ প্রদান করা হয়।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে অনুষ্ঠানে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ফজলুল হকের পরিবারের সদস্যসহ দেশবরেণ্য ব্যক্তিরা। এ বছর পুরস্কার পেলেন চলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় মাহমুদা চৌধুরী এবং চলচ্চিত্র পরিচালনায় মেজবাউর রহমান সুমন। পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা সহ নগদ অর্থ তুলে দেয়া হয়।

চলচ্চিত্র পরিচালনায় পুরস্কার গ্রহণ করছেন মেজবাউর রহমান সুমন তার মায়ের সাথে

দেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতা ও চলচ্চিত্র নির্মাণে চলচ্চিত্র অঙ্গণের কীর্তিমান ব্যক্তিত্ব ফজলুল হকের সৃষ্টিশীল সংগ্রামী জীবন অনুকরণ, অনুস্মরণীয়  বলে মন্তব্য করেছেন উপস্থিত ব্যক্তিত্বরা।

২০০৪ সালে কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন প্রবর্তিত এই পুরস্কার দেশের চলচ্চিত্র পরিচালনা ও সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়। চলচ্চিত্রকার ও সাংবাদিক ফজলুল হকের স্মৃতি রক্ষার্থে প্রবর্তিত এই পুরস্কার দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

ফজলুল হক স্মৃতি কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানের শুরুতে ফজলুল হককে নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ সময় স্মরণ করা হয় প্রয়াত শিশুসাহিত্যিক আমিরুল ইসলামকেও।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফজলুল হক স্মৃতি কমিটির আহ্বায়ক বলেন, ২০০৪ সাল থেকে এই পুরস্কার একটি সম্মানজনক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। চলচ্চিত্র পরিচালক ও চলচ্চিত্র সাংবাদিকদের একত্র করা এবং তাদের অবদানকে সম্মান জানানোই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

চিলচ্চিত্র পরিচালক ও সাংবাদিকদের সাথে মাহমুদা চৌধুরী

অনুষ্ঠানে আনন্দ আলো সম্পাদক রেজানুর রহমান প্রস্তাব দেন ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কারপ্রাপ্তদের নিয়ে একটি ক্লাব গঠনের । তার বিশ্বাস এ প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্মিলিত উদ্যোগের সম্ভাবনা উঠে আসবে।

অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম বলেন, নতুন প্রজন্মকে তার কর্ম ও অবদানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়েই ফজলুল হকের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব। ফজলুল হক নতুন প্রজন্মের জন্য যে পথ তৈরি করে গেছেন, সেই পথ ধরেই তাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চলচ্চিত্র পরিচালক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) সাবেক সভাপতি ও কবি রাজু আলীম, চলচ্চিত্র পরিচালক মতিন রহমান। বক্তারা ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কারপ্রাপ্তদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী নতুনদের পাশে দাঁড়ান এবং তাদের এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন।

ফজলুল হকে’র পুত্র ফরিদুর রেজা সাগর সেই ভালোবাসা ও ঐতিহ্য বহন করে চলেছেন বলেও উল্লেখ করে চলচ্চিত্র প্রযোজক হাবিবুর রহমান খান বলেন, সিনেমার প্রতি ফজলুল হকের যে গভীর ভালোবাসা ছিল: তারা ফজলুল হকের দেখানো সেই পথেই এগিয়ে চলেছেন।

পুরস্কার গ্রহণের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে মাহমুদা চৌধুরী বলেন, অনুষ্ঠানে সবার আনন্দ দেখে তিনিও অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। পুরস্কার গ্রহণের এই মুহূর্ত তার কাছে আনন্দের ও ভালো লাগার।

অন্যদিকে, চলচ্চিত্র পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন বলেন, হাওয়া চলচ্চিতের সাফল্যেরপর  তার চলচ্চিত্র ‘রইদ’  ছবিটি নির্মাণের অনুপ্রেরণা এসেছে তার মায়ের গল্প থেকে। আর তিনি আপ্লুত মায়ের সঙ্গে একসাথে এই পুরস্কারটি গ্রহণ করতে পেরে। এর আয়োজকদের তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগে ফজলুল হক বৃত্তি প্রবর্তন করা হয়েছে। একই বিভাগে ফজলুলকে নিয়ে প্রবন্ধ প্রতিযোগীতায় প্রথম স্থান অধিকারী শুভ সেনকে এই অনুষ্ঠানে ক্রেস্ট এবং অর্থমূল্য দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।

ফজলুল হক:

আজ সোমবার ২৬ অক্টোবর ফজলুল হক’র প্রয়াণ দিবস। ফজলুল হক বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ও প্রথম চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকা ‘সিনেমা’র সম্পাদক এবং দেশের প্রথম শিশু চলচ্চিত্র ‘প্রেসিডেন্ট’-এর পরিচালক ফজলুল হক।

১৯৩০ সালের ২৬ মে বগুড়ায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেয়া ফজলুল হক ১৯৯০ সালের ২৬ অক্টোবর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৫০ সালে ফজলুল হক সম্পাদিত ‘সিনেমা’ পত্রিকার যাত্রা শুরু হয়। বগুড়া থেকে প্রকাশিত হয় পত্রিকাটি। এটিই দেশের চলচ্চিত্র বিষয়ক প্রথম পত্রিকা। সিনেমা পত্রিকাই দেশের প্রথম চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার দ্বার উন্মোচন করে।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সংগঠক ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন ফজলুল হক। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে কথিকা লিখতেন। আকাশবাণী কলকাতায় পদ্মা-মেঘনা-যমুনা নামে নাটক রচনা ও পরিচালনা করেন। আকাশবাণীতে তিনি মণি হক নামে অনেক অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন।

১৯৭২ সালে তিনি বাংলা ভাষাকে সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে ঘড়ির ডায়ালে বাংলায় সময় লেখা ‘বাংলা ঘড়ি’ চালু করেন। ১৯৭৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পায় তার চলচ্চিত্র ‘উত্তরণ’ , যেটি তিনি ১৯৬০ সালে ‘আজান’ নামে চিত্রনাট্য লেখা শুরু করেছিলেন।
১৯৭৬ সাল থেকে তিনি কলকাতায় বসবাস শুরু করেন। এখানে বসবাস কালে ‘চিত্রসারথী’ নাম নিয়ে দুটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এর মধ্যে একটি লোককাহিনি ভিত্তিক চলচ্চিত্র সাতভাই চম্পা একটি।

ফজলুল হক ও রাবেয়া খাতুন দম্পতির জ্যেষ্ঠপুত্র ফরিদুর রেজা সাগর শিশু সাহিত্যিক ও টিভি ব্যক্তিত্ব এবং ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লি. ও চ্যানেল আই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ছোট ছেলে ফরহাদুর রেজা প্রবাল বাংলাদেশ টেলিভিশনের এক সময়ের জনপ্রিয় উপস্থাপক ও বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী স্থপতি, বড় মেয়ে কেকা ফেরদৌসী বিশিষ্ট রন্ধনবিদ ও ছোট মেয়ে ফারহানা মাহমুদ কাকলী।

×