শিরোনাম:

ইরানের প্রতি হুমকি ‘অস্থিরতা’ বৃদ্ধি করেছে: জাতিসংঘ কর্মকর্তা

ইরানের প্রতি হুমকি ‘অস্থিরতা’ বৃদ্ধি করেছে: জাতিসংঘ কর্মকর্তা

জাতিসংঘের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গতকাল বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের হুমকি বিক্ষোভ-বিধ্বস্ত দেশটিতে ‘অস্থিরতা’ আরও বাড়াচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

গত সপ্তাহে ইরান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কিছু সরকার বিরোধী বিক্ষোভে কেঁপে উঠে।

যদিও দমন-পীড়ন ও এক সপ্তাহব্যাপী ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মুখে এই বিক্ষোভগুলো কিছুটা কমে গেছে বলে মনে হচ্ছে।

গত বুধবার পর্যন্ত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভের জন্য গ্রেফতার ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে দিচ্ছিল।

জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব মার্থা পোবি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছেন, আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে বিভিন্ন প্রকাশ্য বক্তব্য, যা ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই বাহ্যিক মাত্রা ইতোমধ্যেই জ্বলন্ত পরিস্থিতির অস্থিরতা বৃদ্ধি করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘পরিস্থিতির অধিকতর অবনতি ঘটা ঠেকানোর জন্য, যে কোনও প্রচেষ্টা নেওয়া উচিত।’

সভায় ইরানের প্রতিনিধি গোলাম হোসেইন দারজি ওয়াশিংটনকে ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভগুলোকে ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে শোষণের’ অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘অস্থিরতা পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যেই’ ট্রাম্প মন্তব্য করে যাচ্ছেন।

ইরানি‑আমেরিকান সাংবাদিক মাসিহ আলিনেজাদ বলেছেন, ইরানের সকল মানুষ ধর্মীয় শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ।’

আলিনেজাদকে ওয়াশিংটন নিরাপত্তা পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।

জামায়াত আমিরের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির ভার্চুয়াল বৈঠক

ইরানের প্রতি হুমকি ‘অস্থিরতা’ বৃদ্ধি করেছে: জাতিসংঘ কর্মকর্তা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ) জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিশেষ শুল্ক সুবিধা এবং মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আজ (শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ এবং পরিচালক এমিলি অ্যাশবি। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে বৈঠকে যুক্ত ছিলেন দলের যুক্তরাষ্ট্র মুখপাত্র প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাকিবুর রহমান।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার জানান, গত সপ্তাহে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং বাংলাদেশের পারস্পরিক শুল্কহার হ্রাসের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে রাষ্ট্রদূতের এই ব্যক্তিগত ও বিশেষ উদ্যোগের জন্য ডা. শফিকুর রহমান তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা বা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত মানবসৃষ্ট (ম্যানমেড) ফাইবার ব্যবহার করে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ১০০ শতাংশ বিশেষ শুল্ক সুবিধা দেয়ার একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।

ডা. শফিকুর রহমান এই প্রস্তাবকে উভয় দেশের জন্য একটি ‘উইন-উইন’ ফর্মুলা হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘এর ফলে একদিকে যেমন বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও শিল্প খাতও সরাসরি উপকৃত হবে।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য একটি অত্যন্ত দৃঢ় ও শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই এই চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করছে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের পর যদি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করে, তবে তার দল এই চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করতে আন্তরিকভাবে কাজ করবে।’

ডা. শফিকুর রহমান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন (ডিএফসি)-এর তহবিলে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ারের সমর্থনের কথা জেনে তারা আনন্দিত। তিনি বলেন, ‘সরকারি বিনিয়োগে ডিএফসি অর্থায়নের সুযোগ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ দ্রুত সম্প্রসারণে একটি অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম হবে।’

বৈঠকের শেষে ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ারকে সশরীরে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ দুই দেশের অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে।

শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা

ইরানের প্রতি হুমকি ‘অস্থিরতা’ বৃদ্ধি করেছে: জাতিসংঘ কর্মকর্তা

কুয়াশা চিরে দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের ঝলমলে আলো স্থায়ী হওয়ায় কিছুটা বেড়েছে তাপমাত্রা। সেই সঙ্গে কমেছে শীতের অনুভূতি। তবে এখনো ৭ ডিগ্রির ঘরেই রয়েছে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এই অবস্থায় নতুন করে দুঃসংবাদ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দেশের ৩ জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ বিস্তার লাভ করতে পারে। পাশাপাশি আগামী দু’দিনে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে বাড়তে পারে শীতের অনুভূতি।

দেশের তিন জেলা- দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে মাঘের শুরুতেই দাপট দেখাচ্ছে হাড়কাঁপানো শীত। আজ (শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি) পঞ্চগড়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

টানা ১১ দিন ধরে জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। ভোর থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে পথঘাট, ফলে মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে যানবাহন।

এদিকে আজ সকাল ৯টায় মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন ৯দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছে। এসময় বাতাসের আদ্রতা ৮৫ শতাংশ।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, ‘চলমান শৈত্যপ্রবাহ এখনো এক সপ্তাহ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে থাকার সম্ভাবনা।’

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানান আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কিছু কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। তবে এই দু’দিনে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে।

এই আবহাওয়াবিদ আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে দিনাজপুর, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম ও চুয়াডাঙ্গা জেলার উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় তা অব্যাহত থাকার পাশাপাশি বিস্তার লাভ করতে পারে। এরমধ্যে শুক্রবার সারাদেশে দিন-রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। পাশাপাশি শনিবারও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

এদিকে রোববার থেকে আগামী মঙ্গলবার (১৮-২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। তবে এই ৩ দিনে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। এরমধ্যে রোববার ও সোমবার সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে মঙ্গলবার তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।

মনিটরিং নেই, সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ

ইরানের প্রতি হুমকি ‘অস্থিরতা’ বৃদ্ধি করেছে: জাতিসংঘ কর্মকর্তা

সরবরাহ ভালো থাকলেও রাজধানীর সবজির বাজারে অস্থিরতা দেখা গেছে। আগের সপ্তাহের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে সবজি। একই সঙ্গে বাজারে দামের ওঠানামার মধ্যে ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সরবরাহ ভালো থাকায় ডিমের চাহিদা কমেছে, ফলে খুচরা বাজারে এক ডজন ডিমের দাম কমে এসেছে। তবে ডিমের দামে এই স্বস্তির বিপরীতে মাছ ও মুরগির বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। আগের কয়েক সপ্তাহের মতোই মাছের দাম চড়া রয়েছে, আর মুরগির বাজার রয়েছে স্থিতিশীল অবস্থায়।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং বাজার সংশ্লিষ্ট ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

শীতকালীন সবজি শিম প্রকারভেদে ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারগুলোতে টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা, দেশি গাজর ৫০ টাকা, মূলা কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, সালগম ৮০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা এবং লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজি বরবটি ১৪০ টাকা, বেগুন প্রকারান্তরে ৬০ থেকে ১০০ টাকা, কচুরলতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ১৪০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং ধুন্দল ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আগারগাঁও বাজারে বাজার করতে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মামুন বলেন, এই শীতে সবজি কিনে স্বস্তি পাওয়ার কথা, কিন্তু কোনো সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার নিচে মিলছে না।

সামনের দিনে এটি আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। বাজারে এখন কোনো মনিটরিং নেই। যদি মনিটরিং থাকতো, এই শীতে সবজি দাম অনেক কম থাকতো। সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে।
এসব বাজারে কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পেঁপে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়ো ৪০ টাকা, দেশি শসা ১২০ টাকা এবং খিড়া ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বাজারগুলোতে লেবুর হালি ১০ থেকে ৩০ টাকা, দেশি ধনেপাতা ১০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারগুলোতে লাল শাক আঁটিতে ১০ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ৩০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৩০ টাকা, পালং শাক ২ আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে নতুন আলু ৩০ টাকা, পুরানো আলু ২০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ পুরাতন কেজিতে ১৩০ টাকা, ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ৮০ টাকা, নতুন পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং পেঁয়াজ কলি ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে দেশি আদা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, চায়না আদা ২২০ টাকা, রসুন দেশি ১৪০ টাকা এবং ইন্ডিয়ান ১৮০-২০০ টাকা এবং দেশি মসুর ডাল ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাসখানেক আগেও একই ডিমের দাম ছিল ১২০ টাকা। সাদা ডিমের দাম ১২০ থেকে ১২৫ টাকা এবং দেশি হাঁসের ডিম ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় মিলছে।

ডিম ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতকালে শাকসবজি ও দেশি মাছের সরবরাহ বাড়ায় ডিমের ওপর চাপ কমে যায়। ফলে দামও কিছুটা নামছে। পাইকারি বাজারে প্রতিটি ডিমের দাম বর্তমানে ৮ টাকার নিচে নেমে এসেছে।

রামপুরা বাজারের খুচরা ডিম বিক্রেতা হৃদয় মিয়া বলেন, ডিমের দাম কমলেও বিক্রি খুব একটা বাড়েনি। বাজারে এখন মাছ ও সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় অনেকেই ডিম কম কিনছেন। সে কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে না।

এদিকে মাংসের বাজারে গরু ও খাসির দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। গরুর মাংস আগের মতোই ৭৫০ থেকে ৯৫০ টাকা, খাসির মাংস ১,২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহ বা মাসের ব্যবধানে এ দাম অপরিবর্তিত থাকলেও, ক্রেতারা বলছেন, অপরিবর্তিত মানে স্থিতিশীল নয়- এখনকার এই দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

অন্যদিকে মুরগির বাজারে দামে কোনো বড় পরিবর্তন নেই। আজকের বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি। বিক্রেতারা বলছেন, মুরগির সরবরাহ ও চাহিদা-দুটোই প্রায় সমান থাকায় দাম আগের জায়গাতেই স্থির রয়েছে।

লাল লেয়ার মুরগি ৩০০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা, ব্রয়লার কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৭০ থেকে ৫৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বনশ্রী এ ব্লক কাঁচাবাজারের বাজারের মুরগি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, শীতের কারণে খামারিরা মুরগি দীর্ঘদিন ধরে রাখতে চান না। নিয়মিত বাজারে মুরগি আসছে। আবার বড় ধরনের চাহিদাও নেই। তাই দামে তেমন কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।

মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, আগের কয়েক সপ্তাহের মতোই দাম চড়া অবস্থায় রয়েছে। সরবরাহ থাকলেও দামে তেমন কোনো স্বস্তি নেই। এসব বাজারে ইলিশ ৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি মাছ ১০০০ টাকা, এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাস ১৭০ থেকে ২০০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৩০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৫০০ টাকায় এবং পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আল মামুন বলেন, মাছের বাজারে দরদাম করার সুযোগ প্রায় নেই। যে দাম বলা হয়, সেই দামেই কিনতে হয়। ডিমের দাম কমেছে, সেটা ভালো। কিন্তু মাছের দামে কোনো স্বস্তি না থাকায় বাজেট মেলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ডিমের ক্ষেত্রে সরবরাহ বাড়া ও বিকল্প পণ্যের উপস্থিতি দামে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। তবে মুরগির বাজারে সেই চাপ তৈরি হয়নি। ফলে ডিমে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, মুরগির বাজারে ক্রেতারা এখনো অপেক্ষার মধ্যেই রয়েছেন, দাম কমার আশায়।

×