শিরোনাম:

মনিটরিং নেই, সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ

মনিটরিং নেই, সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ

সরবরাহ ভালো থাকলেও রাজধানীর সবজির বাজারে অস্থিরতা দেখা গেছে। আগের সপ্তাহের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে সবজি। একই সঙ্গে বাজারে দামের ওঠানামার মধ্যে ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সরবরাহ ভালো থাকায় ডিমের চাহিদা কমেছে, ফলে খুচরা বাজারে এক ডজন ডিমের দাম কমে এসেছে। তবে ডিমের দামে এই স্বস্তির বিপরীতে মাছ ও মুরগির বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। আগের কয়েক সপ্তাহের মতোই মাছের দাম চড়া রয়েছে, আর মুরগির বাজার রয়েছে স্থিতিশীল অবস্থায়।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং বাজার সংশ্লিষ্ট ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

শীতকালীন সবজি শিম প্রকারভেদে ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারগুলোতে টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা, দেশি গাজর ৫০ টাকা, মূলা কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, সালগম ৮০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা এবং লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজি বরবটি ১৪০ টাকা, বেগুন প্রকারান্তরে ৬০ থেকে ১০০ টাকা, কচুরলতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ১৪০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং ধুন্দল ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আগারগাঁও বাজারে বাজার করতে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মামুন বলেন, এই শীতে সবজি কিনে স্বস্তি পাওয়ার কথা, কিন্তু কোনো সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার নিচে মিলছে না।

সামনের দিনে এটি আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। বাজারে এখন কোনো মনিটরিং নেই। যদি মনিটরিং থাকতো, এই শীতে সবজি দাম অনেক কম থাকতো। সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে।
এসব বাজারে কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পেঁপে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়ো ৪০ টাকা, দেশি শসা ১২০ টাকা এবং খিড়া ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বাজারগুলোতে লেবুর হালি ১০ থেকে ৩০ টাকা, দেশি ধনেপাতা ১০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারগুলোতে লাল শাক আঁটিতে ১০ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ৩০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৩০ টাকা, পালং শাক ২ আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে নতুন আলু ৩০ টাকা, পুরানো আলু ২০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ পুরাতন কেজিতে ১৩০ টাকা, ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ৮০ টাকা, নতুন পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং পেঁয়াজ কলি ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে দেশি আদা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, চায়না আদা ২২০ টাকা, রসুন দেশি ১৪০ টাকা এবং ইন্ডিয়ান ১৮০-২০০ টাকা এবং দেশি মসুর ডাল ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাসখানেক আগেও একই ডিমের দাম ছিল ১২০ টাকা। সাদা ডিমের দাম ১২০ থেকে ১২৫ টাকা এবং দেশি হাঁসের ডিম ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় মিলছে।

ডিম ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতকালে শাকসবজি ও দেশি মাছের সরবরাহ বাড়ায় ডিমের ওপর চাপ কমে যায়। ফলে দামও কিছুটা নামছে। পাইকারি বাজারে প্রতিটি ডিমের দাম বর্তমানে ৮ টাকার নিচে নেমে এসেছে।

রামপুরা বাজারের খুচরা ডিম বিক্রেতা হৃদয় মিয়া বলেন, ডিমের দাম কমলেও বিক্রি খুব একটা বাড়েনি। বাজারে এখন মাছ ও সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় অনেকেই ডিম কম কিনছেন। সে কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে না।

এদিকে মাংসের বাজারে গরু ও খাসির দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। গরুর মাংস আগের মতোই ৭৫০ থেকে ৯৫০ টাকা, খাসির মাংস ১,২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহ বা মাসের ব্যবধানে এ দাম অপরিবর্তিত থাকলেও, ক্রেতারা বলছেন, অপরিবর্তিত মানে স্থিতিশীল নয়- এখনকার এই দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

অন্যদিকে মুরগির বাজারে দামে কোনো বড় পরিবর্তন নেই। আজকের বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি। বিক্রেতারা বলছেন, মুরগির সরবরাহ ও চাহিদা-দুটোই প্রায় সমান থাকায় দাম আগের জায়গাতেই স্থির রয়েছে।

লাল লেয়ার মুরগি ৩০০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা, ব্রয়লার কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৭০ থেকে ৫৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বনশ্রী এ ব্লক কাঁচাবাজারের বাজারের মুরগি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, শীতের কারণে খামারিরা মুরগি দীর্ঘদিন ধরে রাখতে চান না। নিয়মিত বাজারে মুরগি আসছে। আবার বড় ধরনের চাহিদাও নেই। তাই দামে তেমন কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।

মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, আগের কয়েক সপ্তাহের মতোই দাম চড়া অবস্থায় রয়েছে। সরবরাহ থাকলেও দামে তেমন কোনো স্বস্তি নেই। এসব বাজারে ইলিশ ৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি মাছ ১০০০ টাকা, এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাস ১৭০ থেকে ২০০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৩০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৫০০ টাকায় এবং পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আল মামুন বলেন, মাছের বাজারে দরদাম করার সুযোগ প্রায় নেই। যে দাম বলা হয়, সেই দামেই কিনতে হয়। ডিমের দাম কমেছে, সেটা ভালো। কিন্তু মাছের দামে কোনো স্বস্তি না থাকায় বাজেট মেলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ডিমের ক্ষেত্রে সরবরাহ বাড়া ও বিকল্প পণ্যের উপস্থিতি দামে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। তবে মুরগির বাজারে সেই চাপ তৈরি হয়নি। ফলে ডিমে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, মুরগির বাজারে ক্রেতারা এখনো অপেক্ষার মধ্যেই রয়েছেন, দাম কমার আশায়।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা

মনিটরিং নেই, সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমে আসায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগের মতো চাপ আর নেই। টানা কয়েকটি সেশনে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ায় বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুবাইসহ আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমতে শুরু করে।

দুবাই জুয়েলারি গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের দাম গ্রামপ্রতি নির্ধারিত হয়েছে ৫৫৩ দিরহাম, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ২ দিরহাম কম। একই সময়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নেমে এসেছে গ্রামপ্রতি ৫১২.২৫ দিরহামে।

অন্য ক্যারেটের স্বর্ণের মধ্যে ২১ ক্যারেট বিক্রি হয়েছে ৪৯১ দিরহাম, ১৮ ক্যারেট ৪২১ দিরহাম এবং ১৪ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ছিল গ্রামপ্রতি ৩২৮.২৫ দিরহাম। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম দাঁড়ায় ৪,৫৯০ ডলারে, যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সময় সকাল ৯টায় প্রায় ০.৮ শতাংশ কম। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সাময়িক দরপতন হলেও স্বর্ণের সামগ্রিক চাহিদা এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এর আগের দিন বুধবার স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল।

সেঞ্চুরি ফাইন্যান্সিয়ালের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা বিজয় ভালেচা বলেন, ‘প্রত্যাশার চেয়ে কম মার্কিন মূল্যস্ফীতি তথ্যের ফলে এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ দুই দফা সুদহার কমাতে পারে-এমন প্রত্যাশা জোরালো হয়েছে। পাশাপাশি ফেডের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ এবং চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের খবরে ডলার চাপে রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইরানে সহিংস বিক্ষোভ, ভেনেজুয়েলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চাপ, তেহরান ঘিরে শুল্ক হুমকি এবং ইউক্রেন যুদ্ধ—সব মিলিয়ে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনো বেশি, যা স্বর্ণের দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা বাড়িয়ে দিচ্ছে।’

২৬৮ আসনে এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের

মনিটরিং নেই, সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে যাচ্ছে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৬৮ আসনে প্রার্থীরা মাঠে কাজ করছেন। তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন। তারা কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বেলা ৩টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, আমরা এ দেশের ইসলামপন্থি জনতার আবেগের সঙ্গে কিছুতেই প্রতারণা করতে পারি না। আমরা ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য, ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য, ইসলামের আলোকে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্যে দীর্ঘদিন যাবৎ এখানে কাজ করে আসছি। আমরা এ থেকে বিচ্যুত হতে পারি না। এজন্য আপনারা লক্ষ্য করেছেন যে, গতকালকে ১১ দলীয় জোটের ব্যানারে যেখানে আমরাও ছিলাম, সেখানে একটি সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। সেখানে আসন বণ্টন হয়েছে। সেখানে আমাদের দীর্ঘদিনের পথ চলা, ৫ আগস্ট পরবর্তী সারা দেশে আমরা ইসলামপন্থি শক্তি একসঙ্গে করার জন্য যে চেষ্টা-সাধনা করেছিলাম। আমরা দেখেছি শেষ পর্যায়ে এসে আমাদের যে লক্ষ্য ছিল, সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ার একটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই শঙ্কা থেকে আমরা চিন্তা করলাম, আমাদের ইসলামের পক্ষের একটি বাক্সকে আমাদের হেফাজত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা জানি সামনে আমাদের পথচলা হয়ত মসৃণ নাও হতে পারে। কারণ আমরা ক্ষমতার রাজনীতি সেভাবে করি না। আমাদের মূল লক্ষ্য ইসলাম। ইসলামকে আমরা আগে রাখি। আমরা নীতি-আদর্শের রাজনীতি করি। সেখানে আমরা দেখছি, নীতি-আদর্শের প্রশ্নে, রাজনৈতিক প্রশ্নে, ইনসাফের প্রশ্নে আমরা বৈরিতার শিকার হয়েছি। সেজন্য আমরা আজ আপনাদের সামনে ঘোষণা দিতে বাধ্য হচ্ছি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭০টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। এর মধ্যে আপিলে দুইজন বাতিল হয়েছে। বাকি ২৬৮ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী এখন পর্যন্ত মাঠে কাজ করছেন। আমরা তাদের নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি, তারা নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। একজনও তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না।

এর আগে, ইসলামী আন্দোলনের ঐক্য প্রক্রিয়ায় থাকা না থাকা নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দিনভর নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে এদিন দুপুরে মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের জরুরি বৈঠক হয়। এতে যোগ দেয়নি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

বৈঠক শেষে জামায়াতের নেতারা জানিয়েছিলেন, রাতের সংবাদ সম্মেলনে দলটির প্রতিনিধি থাকতে পারেন। কিন্তু, তারা না আসায় সে গুঞ্জন আরও শক্তিশালী হয়। তাই সবার চোখ ছিল দলটির আজকের সংবাদ সম্মেলনের দিকে।

তবে, সমঝোতা বিষয়ে এখনো সমাধানের পথ দেখছেন জামায়াতসহ অন্যান্য দলের নেতারা। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এখনো আশাবাদী। প্রয়োজনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই সরকার গণভোটের পক্ষ নিয়ে থাকে: শফিকুল আলম

মনিটরিং নেই, সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ

নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব মো. শফিকুল আলম। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় হযরত শাহ ছৈয়দ আহমদ গেছু দরাজ শাহ পীর কল্লা (রাঃ) এর মাজার পরিদর্শন ও জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

এ সময় শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিং কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন। পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তাবাহিনীর প্রস্তুতিসহ পোস্টাল ব্যালটের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। এখন বলা যেতে পারে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের জন্য অপেক্ষামাত্র।

তিনি আরও বলেন, যারা গণভোট নিয়ে সমালোচনা করছেন তাদের জানার পরিধি কম। কারণ পৃথিবীর যে সমস্ত দেশে গণভোট হয়েছে সেখানে সরকার গণভোটে হ্যাঁ অথবা না এর পক্ষ নিয়ে থাকে। যেহেতু এই সরকার সংস্কারের পক্ষে তাই হ্যাঁ ভোটের পক্ষে কথা বলছে। মূলত সংস্কারের সমষ্টিগত প্যাকেজ হচ্ছে গণভোট। যাতে এদেশে অপশাসন অথবা স্বৈরাচার ফিরে না আসে কিংবা শেখ হাসিনার মত দৈত্য-দানব না হয় সেজন্য গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে হবে।

শফিকুল আলম বলেন, ‘রিকনসিলিয়েশন নিয়ে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। আওয়ামী লীগের তরফ থেকে কোনো সরি বলতে শুনেছেন? গতকাল (বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি) আওয়ামী লীগের একজন মন্ত্রী এক ধরনের মকারি করছিলেন। শহিদের রক্ত নিয়ে ওনারা মকারি করেন। তাদের মধ্যে কোনো ধরনের অনুতপ্তের লক্ষণ আমরা দেখি না। তাদেরকে কে বাংলাদেশের সোসাইটিতে জায়গা দেবে? খুনিদেরকে কেউ জায়গা দেয়? খুনিদের জায়গা জেলখানায়।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কার বিষয়ে শফিকুল আলম বলেন, রুমিন ফারহানার আশঙ্কা অমূলক। এই সরকারের কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব নেই। আমরা আমাদের কাজ দিয়েই তা প্রমাণ করব।

গণভোট প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, ‘গণভোটে মানুষ হ্যাঁ ভোট দিয়ে রেডকার্ড দেখাবেন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে। রেডকার্ড দেখাবেন ১৬ বছর যে গুম-খুনের রাজনীতি হচ্ছিলো তার বিরুদ্ধে। তারা হ্যাঁ ভোট দিচ্ছেন সুশাসনের জন্য।’

প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘এবছর যে নির্বাচন হচ্ছে এরকম শান্তিপূর্ণ নির্বাচন খুব কম হয়েছে। আগের নির্বাচনগুলোতে বিরোধীদের কাছে ভিড়তেই দেয়নি। বিরোধী দলের নেতাদের ধরে যে শহরে আছে অন্য শহরে পাঠিয়ে দিয়েছে, জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছে।’

এবছরের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন শফিকুল আলম।

×