জামায়াত আমিরের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির ভার্চুয়াল বৈঠক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ) জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিশেষ শুল্ক সুবিধা এবং মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আজ (শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ এবং পরিচালক এমিলি অ্যাশবি। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে বৈঠকে যুক্ত ছিলেন দলের যুক্তরাষ্ট্র মুখপাত্র প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাকিবুর রহমান।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার জানান, গত সপ্তাহে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং বাংলাদেশের পারস্পরিক শুল্কহার হ্রাসের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে রাষ্ট্রদূতের এই ব্যক্তিগত ও বিশেষ উদ্যোগের জন্য ডা. শফিকুর রহমান তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা বা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত মানবসৃষ্ট (ম্যানমেড) ফাইবার ব্যবহার করে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ১০০ শতাংশ বিশেষ শুল্ক সুবিধা দেয়ার একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।
ডা. শফিকুর রহমান এই প্রস্তাবকে উভয় দেশের জন্য একটি ‘উইন-উইন’ ফর্মুলা হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘এর ফলে একদিকে যেমন বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও শিল্প খাতও সরাসরি উপকৃত হবে।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য একটি অত্যন্ত দৃঢ় ও শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই এই চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করছে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের পর যদি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করে, তবে তার দল এই চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করতে আন্তরিকভাবে কাজ করবে।’
ডা. শফিকুর রহমান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন (ডিএফসি)-এর তহবিলে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ারের সমর্থনের কথা জেনে তারা আনন্দিত। তিনি বলেন, ‘সরকারি বিনিয়োগে ডিএফসি অর্থায়নের সুযোগ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ দ্রুত সম্প্রসারণে একটি অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম হবে।’
বৈঠকের শেষে ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ারকে সশরীরে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ দুই দেশের অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা













