বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে, দেশে ভরি কত?
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম সামান্য কমেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তেলের দাম বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে করে মূল্যবান ধাতুর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কিছুটা কমেছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮০৯ দশমিক ৭১ ডলারে দাঁড়ায়। আর জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারস ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৮২৯ দশমিক ৪০ ডলারে নেমে আসে।
টেস্টিলাইভ-এর গ্লোবাল ম্যাক্রো বিভাগের প্রধান ইলিয়া স্পিভাক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছিল স্বর্ণের বাজার। কিন্তু সেই যুদ্ধবিরতিতে আস্থা হ্রাস পাওয়ায় আজ স্বর্ণের দাম কমেছে।’
দেশের বাজারে গত বুধবার ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়। এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম গিয়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা। আজ সোমবারও (২০ এপ্রিল) এই দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে।
সবশেষ গত বুধবার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৫৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩২ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ২৩ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সঙ্গে এবার দেশের বাজারে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। এবার ভরিতে ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৬৫ টাকা।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৭৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৩৪ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ১৯ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ১৫ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।

দেশে জ্বালানি সংকটের জন্য দায়ী বিগত সরকার: তথ্যমন্ত্রী















