শিরোনাম:

রূপপুর কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে আগস্টে: তথ্য উপদেষ্টা

রূপপুর কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে আগস্টে: তথ্য উপদেষ্টা

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে চলতি বছরের আগস্টে জাতীয় গ্রিডে ৩শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এ কথা জানিয়েছেন ।

তিনি বলেন, এই প্রকল্প থেকে বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ হবে এবং প্রায় ২ কোটি মানুষ এর সুফল পাবে।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে পিআইডি’র সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।

জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে ১ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল মজুত রয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আরও ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসবে।

বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ সারিও নেই, ফলে শিগগিরই সংকটের বিষয়টি দূর হবে।

ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গত মাসে ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকার বরাদ্দে ১৪টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে।

এর মধ্যে ৫টি নতুন এবং ৫টি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সড়ক যোগাযোগ ও স্থানীয় প্রশাসন উন্নয়নমূলক এসব প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। তবে জ্বালানি মূল্যের কারণে যানবাহনের ভাড়া বেড়েছে, যদিও ঢাকার বাস ও মিনিবাসের সরকারি ভাড়া অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানান তিনি।

সীমান্ত হত্যা ৭৫ শতাংশ কমেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি পুরোপুরি শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে এটি সম্ভব হবে।

হাম বিষয়ে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ৯৪ লাখ ২৩ হাজার ৭৯৯ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। শিশুমৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, টিকাদান কর্মসূচি সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

গণমাধ্যম প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, গণমাধ্যমে ভুল তথ্য ও অপতথ্য প্রচার কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। তারা সরকারের যৌক্তিক সমালোচনা করুক, তবে ভুল তথ্য প্রচার গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, দেশে জঙ্গি রয়েছে, তবে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি যে জনগণকে আতঙ্কিত হতে হবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতীত সরকারের সময়ে জঙ্গি নিয়ে অতিরঞ্জিত প্রচার হয়েছে। আবার অন্তর্বর্তী সরকারের ‘দেশে জঙ্গি নেই’- এ বক্তব্যও সঠিক ছিল না।

তিনি জানান, গত দুই মাসে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকার কঠোর অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানায়, আজ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ফিজিক্যাল স্টার্টআপ (ফুয়েল লোডিং) উদ্বোধন করবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদও উপস্থিত থাকবেন।

ফুয়েল লোডিং শেষে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে ৩শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে আগামী জানুয়ারিতে পূর্ণ সক্ষমতায় ১২শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় সঞ্চালন লাইনে যুক্ত হবে।

দ্বিতীয় ইউনিটের বিদ্যুৎ ২০২৭ সালের শেষ দিকে গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

রূপপুর কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে আগস্টে: তথ্য উপদেষ্টা

গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে রাষ্ট্রে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, যে রাষ্ট্রে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকার নেই, সেই দেশ কখনোই একটি গণতান্ত্রিক মানবিক রাষ্ট্র হতে পারে না বা হয়ে উঠতে পারে না।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে শহিদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি ন্যায়বিচার, আইনের শাসন এবং সবার জন্য সমান বিচারপ্রাপ্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই সভার আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর বাংলাদেশের জনগণ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এই গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে রাষ্ট্রে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। আর এই ন্যায়বিচার সবার জন্যই প্রযোজ্য। একজন মানুষও যাতে অর্থের অভাবে এক্সেস টু জাস্টিস থেকে বঞ্চিত না হয়। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকার লিগ্যালি কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। একজন ভুক্তভোগী টাকার অভাবে আইনজীবী সহায়তা নিতে পারবে না-এমনটা যেন না হয়, সেটি সরকার চেষ্টা করবে সর্বতোভাবে নিশ্চিত করতে।

আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান নয়, এমন মানুষদের জন্য এক্সেস টু জাস্টিস নিশ্চিত করতে সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, ন্যায়বিচারের কথা শুধু আইনের বইয়ে নয়। এটি প্রতিটি মানুষের জীবনেই সত্য এবং বাস্তব হয়ে উঠুক। এটি বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা। ন্যায়বিচার কখনোই কেবল আদালত কেন্দ্রিক নয়, কোনো প্রক্রিয়া নয়। এটি একটি জীবন্ত মূল্যবোধ। যা রাষ্ট্রের প্রতিটি নীতি, প্রতিটি সিদ্ধান্ত এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে অবশ্যই প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ন্যায়পরায়ণতা তখনই অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন আইন মানুষের উপর প্রয়োগের একটি যান্ত্রিক উপায় না হয়ে বরং তাদের মর্যাদা সংরক্ষণ এবং প্রাপ্ত অধিকার নিশ্চিত করার একটি গভীর নৈতিক অঙ্গীকারের রূপ নেয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাসেও এই ন্যায়বোধ একটি শক্তিশালী প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। যেহেতু ন্যায়বিচার প্রাপ্তি প্রতিটি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। সেই অধিকার যাতে প্রত্যেকটি মানুষ চর্চা করতে পারে তাদেরকে সরকার যথাসাধ্য লিগ্যাল এইড দেবে। এ লক্ষ্যে এরইমধ্যে সরকার সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন এনেছে।

লিগ্যাল এইড ব্যবস্থায় মামলা নিষ্পত্তির বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বে একটি কথা বিশেষভাবে প্রচলিত। সেটি হচ্ছে জাস্টিস ডিলেড ইজ জাস্টিস ডিনাই। অর্থাৎ বিচার বিলম্ব মানেই বিচার অস্বীকার। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মামলার আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে এরইমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় কয়েক হাজার বা তারও বেশি হবে, হাজারেরও বেশি হবে…বিরোধ-বিবাদ স্বল্প সময় এবং খুব কম খরচে আদালতের বাইরেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক মাস বা বছরের পরিবর্তে বরং কয়েকটি বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানগুলো করা সম্ভব হয়েছে। এতে আদালত চাপ কমেছে। সরকারের খরচও হ্রাস পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় মানুষ সমস্যা হলে প্রাথমিকভাবে সঠিক পরামর্শ না পাওয়ার কারণে একদিকে সাধারণ বিরোধ বড় হয় এবং পরে তা জটিল রূপ ধারণ করে। ফলে অনেক সময় মানুষ বিচার বিমুখ হয়ে যায় কিংবা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। সুতরাং মানুষ যেন সহজে প্রাথমিক আইনি পরামর্শ গ্রহণ করতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারের লিগ্যাল এইড হেল্পলাইন আরো কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে ব্যক্তিগতভাবে একজন নাগরিক হিসেবে আমি সেটি আশা করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, এক্সেস টু জাস্টিস। প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। রাষ্ট্রের কোনো নাগরিক অর্থের অভাবে আইনের আশ্রয় কিংবা ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত থাকবে এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনোভাবেই কাম্য বা প্রত্যাশিত নয়।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আমাকেও দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন আমি নিজে কারাগারে এমন অনেককে দেখেছি, যারা শুধুমাত্র আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ার কারণে বছরের পর বছর ধরে বিনা বিচারে কারাগারে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন বা হয়েছেন। একজন মানুষ অর্থের অভাবে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়া একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাম্য নয়।

তিনি বলেন, যেকোনো রাষ্ট্র এবং সমাজের অগ্রগতি ও শান্তির ভিত্তি হচ্ছে ন্যায়বিচার। সব যুগেই মানুষ যা চেয়েছে তা হলো বৈষম্যহীন একটি সমাজ ব্যবস্থা। যেখানে তারা সমমর্যাদা এবং অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। সমতা সহমর্মিতা এবং পারস্পরিক আস্থা একটা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষঠ জন্য অবশ্যই অপরিহার্য।

ন্যায়বিচার শুধু আদালত বা আইনের বিষয় নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল শক্তি। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়ে দেশের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার উপরে প্রতিষ্ঠার শক্ত ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিক সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ায় সুগম করতে লিগাল এইড ফার্ম তৈরি করেছিলেন।

অনুষ্ঠানে সেরা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে ঢাকার সায়েম খান ও রাজশাহীর নীলিমা বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ক্রেস্ট ও সম্মাননা গ্রহণ করেন।

এছাড়া, সারাদেশে লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘সমাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি সেল ব্র্যাককে মনোনীত করা হয়। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা পত্র ও ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে আইন মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, আইনগত সহায়তা অধিদফতরের মহাপরিচালক মনজুরুল হাসান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ অন্যান্য অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

ভারতীয় ভিসা নিয়ে সুখবর দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রূপপুর কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে আগস্টে: তথ্য উপদেষ্টা

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের ভিসা প্রাপ্তি সহজতর হওয়া এবং বর্তমান স্থবিরতা কাটিয়ে শিগগিরই তা স্বাভাবিক হওয়ার সুখবর দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। প্রতিবেশী এই রাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে সরকারের পক্ষ থেকে নানামুখী তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর ইকবালের লিখিত প্রশ্নের জবাবে সরকারের এমন অবস্থান ও আশাবাদের কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উত্থাপিত হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান সম্পর্ক সৌহার্দ্য, বন্ধুত্ব ও সংহতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এই সম্পর্কের মূল ভিত্তি হচ্ছে অভিন্ন মূল্যবোধ, ঐতিহাসিক সংযোগ এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সুদৃঢ় বন্ধন। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই সার্বভৌম সমতা, ন্যায্যতা এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থকে সমুন্নত রেখে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের বিষয়ে ড. খলিলুর রহমান সংসদকে অবহিত করে জানান, ভারতের সঙ্গে ভিসা প্রক্রিয়া সহজতর করতে সরকার ইতোমধ্যেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি ভারত সফরে সেদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ওই বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ ও ব্যবসায়িক ভিসার প্রক্রিয়া পুনরায় স্বাভাবিক করার বিষয়ে জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুতই ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

ওয়াসার পানি নিয়ে অসন্তোষ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের

রূপপুর কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হবে আগস্টে: তথ্য উপদেষ্টা

ওয়াসার পানি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর কাকরাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে বিশ্ব পানি দিবসের আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “আমার খুব কষ্ট হয় যখন শুনি ওয়াসার পানি খারাপ।”

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “সেদিন চিফ হুইপ বললেন, সংসদের পানি খাওয়া যায় না। ঢাকা শহরের সবচেয়ে বড় সংকট এখন নিরাপদ পানি। বাংলাদেশকে বাঁচাতে এসব নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে হবে সবাইকে।”

তিনি আরও বলেন, দেশের নদীগুলোকে দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। এ বিষয়গুলো আমাদের ঠিক করতে হবে এবং পরিবর্তন আমাদেরকেই আনতে হবে। আমরা যে বড় বড় দামি গাড়িতে চড়ি, তা সব জনগণের করের টাকায়। তাই জনগণের সমস্যার সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

মির্জা ফখরুল বলেন, ডিপ টিউবওয়েল ব্যবহারের পরিবর্তে সারফেস ওয়াটার ব্যবহারে অভ্যস্ত হতে হবে। সেক্ষেত্রে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণেও জোর দিতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, সারা বিশ্বে নিরাপদ পানির অভাব রয়েছে। নিরাপদ পানির জন্য অনেক যুদ্ধ-বিগ্রহও হয়। পরবর্তী বিশ্বযুদ্ধ নিরাপদ পানির জন্য হওয়ার আলামত দেখা যাচ্ছে।

×