শিরোনাম:

এপ্রিলে ৪৬৩ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০৪

এপ্রিলে ৪৬৩ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০৪

গত এপ্রিল মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪৬৩টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪০৪ জন এবং আহত হয়েছেন ৭০৯ জন। এই সময়ে ৭টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। ৩৪টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার (৬ মে) সংবাদ মাধ্যমে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো ‘এপ্রিল মাসের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে’ এসব তথ্য জানা যায়। ফাউন্ডেশনটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১১৩ জন, বাসের যাত্রী ৩০ জন, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-লরি-ট্রলি-ট্রাক্টর আরোহী ৫১ জন, প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস আরোহী ২৪ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা) ৬১ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র) ১০ জন এবং রিকশা-বাইসাইকেল আরোহী ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৬৫৯টি। এরমধ্যে বাস ৮৪টি, ট্রাক ৯১টি, কাভার্ডভ্যান ২২টি, পিকআপ ২৩টি, ট্রাক্টর ১২টি, ট্রলি ১৪টি, লরি ৬টি, ট্যাঙ্ক লরি ২টি, সিটি কর্পোরেশনের ময়লাবাহী ট্রাক ১টি, মাইক্রোবাস ১৯টি, প্রাইভেটকার ১৭টি, জিপ ৩টি, মোটরসাইকেল ১৫৩টি, থ্রি-হুইলার ১১২টি (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৪৩টি (নসিমন-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র), রিকশা ১৩টি, বাইসাইকেল ৮টি এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৩৬টি।

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ২৩.৫৪ শতাংশ, প্রাণহানি ২৫.২৪ শতাংশ; রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১১ শতাংশ, প্রাণহানি ১০.৩৯ শতাংশ; চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ২২.৪৬ শতাংশ, প্রাণহানি ২৩.২৬ শতাংশ; খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ১৩.১৭ শতাংশ, প্রাণহানি ১২.৩৭ শতাংশ; বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৬.৯১ শতাংশ, প্রাণহানি ৫.৯৪ শতাংশ; সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ২.৫৯ শতাংশ, প্রাণহানি ২.৯৭ শতাংশ; রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ১২.৭৪ শতাংশ, প্রাণহানি ১৫.০৯ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৫.৩৯ শতাংশ, প্রাণহানি ৪.৭০ শতাংশ ঘটেছে।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১০৯টি দুর্ঘটনায় ১০২ জন নিহত হয়েছেন। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ১২টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৩৬টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৬৭ জন আহত হয়েছেন।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে— ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন; ত্রুটিপূর্ণ সড়ক; বেপরোয়া গতি; চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা; বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা; মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল; তরুণ-যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো; জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা; দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; বিআরটিএ-র সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজিকে।

সুপারিশ হিসেবে বলা হয়েছে— জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন করে বিআরটিএ, বিআরটিসি ও ডিটিসিএ তার অধীনে এনে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দিতে হবে; সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাঠামোগত সংস্কার ও বিশেষজ্ঞ নিয়োগের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে; মোটরযানে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করতে হবে; মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন সড়ক থেকে অপসারণ করতে হবে; রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশন করে কোম্পানিভিত্তিক আধুনিক বাস চালু করতে হবে; বিআরটিসির বাস বাড়িয়ে সরকারি পরিবহন সক্ষমতা উন্নত করতে হবে; দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বাড়িয়ে তাদের বেতন, কর্মঘণ্টা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে; মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য সার্ভিস রোডসহ নিরাপদ ডিজাইন নিশ্চিত করতে হবে; সব রেল ক্রসিংয়ে গেটকিপার নিয়োগ দিতে হবে; সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতায় বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখতে হবে; প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ বাড়াতে হবে এবং সড়ক, রেল ও নৌ পরিবহন একত্রে এনে অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে।

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে চায় সরকার: মির্জা ফখরুল

এপ্রিলে ৪৬৩ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০৪

বর্তমান সরকার প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে চায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ সকালে রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে আয়োজিত ‘সি.ও.এম.পি.এ.এস.এস. ডায়ালগ, চ্যাপ্টার-১: দ্য ওয়েস্টার্ন ক্যালিব্রেশন’ শীর্ষক এক সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ট্যাকটিকস রিসার্চ (আইএসটিআর) আয়োজিত এ সংলাপে বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় কাজ করছে বর্তমান সরকার। গ্যাস উত্তোলন বাড়াতে আগামী তিন মাসের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগের পথে প্রধান বাধা সরকারি সংস্থাগুলোর ধীরগতি। এ সমস্যা কাটিয়ে দেশকে বিনিয়োগবান্ধব করতে কাজ করছে সরকার। তার মতে, বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক বিনিয়োগের জন্য একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জ্বালানি খাতের অগ্রগতি এবং নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে আমরা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছি। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আমরা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই এবং তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করতে সরকার প্রস্তুত।

তিনি বলেন, একটি টেকসই ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ চলছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এ সময় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি আগের তুলনায় এখন অনেক ইতিবাচক। এতে দেশের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকার দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।’

সমসাময়িক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক এবং বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সেমিনারে বিদেশি ডেলিগেটসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহ ও আস্থার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করা হয়।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র সৃষ্টির বিষয়েও মতবিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক, গবেষক ও বিশিষ্টজনেরা।

অস্ত্র উদ্ধারে ডিসিদের কঠোর নির্দেশ দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এপ্রিলে ৪৬৩ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০৪

বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় ইস্যু করা প্রায় ১০ হাজার লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র এখনও জমা পড়েনি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এসব অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, জেলা পর্যায়ে এসব মামলার তালিকা চাওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো এক মাসের মধ্যেই নিরপরাধ ব্যক্তিদের নাম এসব মামলা থেকে প্রত্যাহার করা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেসব রাজনৈতিক মামলা দায়ের হয়েছে, সেগুলোও স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয়া হবে।

অস্ত্র লাইসেন্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর লাইসেন্সধারীদের অস্ত্র জমা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সময় পার হলেও বিপুলসংখ্যক অস্ত্র এখনও মাঠ পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি জানান, এসব অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনে মামলা দায়েরের জন্য মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় বা নীতিমালা উপেক্ষা করে যেসব অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাতিলের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জেলা পর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে যেসব লাইসেন্স ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে প্রমাণিত হবে, কেবল সেগুলোর অস্ত্রই বাজেয়াপ্ত করা হবে।

তবে ২০০৯ সালের আগে ইস্যু করা বৈধ লাইসেন্সধারীরা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের অস্ত্র ফেরত পাবেন বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ঈদকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ঈদের সাত দিন আগে পুলিশ সদর দপ্তরে একটি মনিটরিং সেল চালু করা হবে, যাতে নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা যায়। যেসব জেলায় ফেরিঘাট রয়েছে, সেখানে ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের গাড়ি থেকে নামিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

কুরবানির চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গ্রামীণ পর্যায়ে ৭ দিন চামড়া সংরক্ষণের জন্য বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করা হবে।

এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে পুশব্যাকের মতো ঘটনা এড়াতে সীমান্তে সতর্ক থাকতে বিজিবিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

গণমাধ্যমে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে: তথ্যমন্ত্রী

এপ্রিলে ৪৬৩ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০৪

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যমে প্রকৃত পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা গেলেই এই খাতের বিদ্যমান অনেক সমস্যার সমাধান স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ‘সরকার জনগণকে অবাধ ও সঠিক তথ্য সরবরাহের নিশ্চয়তা দিতে এবং অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দিতে বদ্ধপরিকর।’

আজ (বুধবার) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাতে প্রতিনিধি দলটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মন্ত্রীর কাছে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘আমাদের পলিসি হচ্ছে এনালগ কিন্তু চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ডিজিটাল।’

তিনি বলেন, ডিজিটাল যুগের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রচলিত নীতিমালার আধুনিকায়ন প্রয়োজন। সরকার কোনো কিছু চাপিয়ে না দিয়ে বরং ‘ফেসিলিটেটর’ বা সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে চায়।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যার স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে একটি ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠন করা হবে।

তবে এক্ষেত্রে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে সুস্থ ঐকমত্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, অংশীজনদের গঠনমূলক পরামর্শ এই কমিশনকে কার্যকর করতে সহায়ক হবে।

সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় বিজেসি চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ, সদস্য সচিব ইলিয়াস হোসেন এবং ট্রাস্টি সদস্য রেজোয়ানুল হক, তালাত মামুন ও নূর সাফা জুলহাজ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধি দলের নেতারা ব্রডকাস্ট মিডিয়ার ডিজিটালাইজেশনের প্রয়োজনীয়তা, সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিভিন্ন সংকটের কারিগরি ও নীতিনির্ধারণী দিক তুলে ধরেন।

তথ্যমন্ত্রী তাদের প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

×