শিরোনাম:

হাম-রুবেলাসহ ১০ ধরনের টিকার নতুন চালান এসেছে

হাম-রুবেলাসহ ১০ ধরনের টিকার নতুন চালান এসেছে

বাংলাদেশে হাম-রুবেলা ও ওরাল পোলিওসহ ১০ ধরনের টিকার নতুন চালান দেশে পৌঁছেছে। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নিজে উপস্থিত থেকে টিকার এই চালান গ্রহণ করেন।

‎‎আজ বুধবার (৬ মে) বেলা পৌনে ১২টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১০ ধরনের টিকার এই নতুন চালান পৌঁছায়।

এই টিকা চলমান নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির সংকট নিরসনে কাজ করবে। সম্প্রতি হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এই চালানটি জরুরি ভিত্তিতে আনা হয়েছে। এছাড়াও নিয়মিত স্টকের টিকাগুলো ‘জরুরি ক্যাম্পেইনে’ ব্যবহার করায় টিকার সংকট তৈরি হয়।

হাম-রুবেলা-ওরাল পোলিও ছাড়াও এই চালানে বিসিজি, পেন্টাভ্যালেন্ট, পিসিভি ও টাইফয়েড টিকাও দেশে পৌঁছেছে।

চালান গ্রহণ শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ১৫ লাখ ডোজ হামের টিকা দেশে পৌঁছেছে। আগামী দিনে আর কোনো টিকার সংকট তৈরি হবে না।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২৪ দিনের মধ্যে এই টিকা দেশে এনে ইতিহাস গড়েছে সরকার। আগামী ১০ মে’র মধ্যে হামসহ ১০ ধরনের ১ কোটি ৮ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে আসবে বলে জানান তিনি।

শান্তর সেঞ্চুরি ও মোমিনুলের হাফ-সেঞ্চুরিতে প্রথম দিন বাংলাদেশের

হাম-রুবেলাসহ ১০ ধরনের টিকার নতুন চালান এসেছে

৩১ রানের মধ্যে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরি এবং মোমিনুল হকের হাফ-সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিন আজ নিজেদের করে রেখেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। দিন শেষে ৮৫ ওভারে ৪ উইকেটে ৩০১ রান করেছে টাইগাররা।

শান্ত ১০১ এবং মোমিনুল ৯১ রানে আউট হন। ৪৮ রানে অপরাজিত আছেন মুশফিকুর রহিম।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ১৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সপ্তম ওভারের প্রথম বলে পাকিস্তান পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ক্যাচ দেন টাইগার ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। ২টি চারে ৮ রান করেন তিনি।

১১তম ওভারের শুরুতেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। পাকিস্তানের আরেক পেসার হাসান আলির বলে সালমান আগাকে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। ১৩ রান করার পথে ২টি বাউন্ডারি মারেন তিনি।

দলীয় ৩১ রানের মধ্যে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর পাকিস্তান বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মোমিনুল হক ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তৃতীয় উইকেটে ৯৫ বলে ৭০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে প্রথম দিনের সেশন শেষ করেন তারা। এসময় বাংলাদেশের স্কোর ছিল-২ উইকেটে ১০১ রান। মোমিনুল ৩১ এবং শান্ত ৩৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।

মধ্যাহ্ন বিরতির পর হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মোমিনুল ও শান্ত। হাফ-সেঞ্চুরির পর রানের গতি বাড়িয়ে সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন শান্ত। চা-বিরতির আগ মুহূর্তে ৪০ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে নবম সেঞ্চুরির দেখা পান তিনি। টেস্টে সর্বশেষ আট ইনিংসে চতুর্থ সেঞ্চুরি করলেন শান্ত। ২০২৫ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে গল টেস্টের দুই ইনিংসে দুটি এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিলেটে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ পাঁচ সেঞ্চুরির রেকর্ডও গড়েন শান্ত।

সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পরের ডেলিভারিতে পাকিস্তান পেসার মোহাম্মদ আব্বাসের বলে লেগ বিফোর আউট হন শান্ত। ১২টি চার ও ২টি ছক্কায় ১৩০ বলে ১০১ রান করেন শান্ত। তৃতীয় উইকেটে মোমিনুলের সাথে ২৫৭ বল খেলে ১৭০ রানের জুটি গড়েন শান্ত। টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড গড়েন মোমিনুল ও শান্ত।

দলীয় ২০১ রানে শান্ত ফেরার পর ক্রিজে মোমিনুলের সঙ্গী হন মুশফিকুর রহিম। দলের রানের চাকা সচল রাখার পাশাপাশি টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন মোমিনুল। কিন্তু নার্ভাস নাইন্টিতে থামতে হয় তাকে। পাকিস্তান স্পিনার নোমান আলির বলে লেগ বিফোর আউট হওয়ার আগে ১০টি চারে ২০০ বলে ৯১ রান করেন বাঁ-হাতি ব্যাটার মোমিনুল। টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবার নব্বইয়ের ঘরে থামলেন তিনি। আগের তিন ইনিংসেও হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছিলেন মোমিনুল। মুশফিকের সাথে চতুর্থ উইকেটে ৭৫ রান যোগ করেন মোমিনুল।

দিনের ৭৪তম ওভারে মোমিনুল ফেরার পর পাকিস্তানের বোলারদের সাবধানে খেলতে থাকেন মুশফিক ও লিটন দাস। তাতে অপরাজিত থেকেই দিনের খেলা শেষ করেন তারা। ৭০ বলে ২৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন মুশফিক- লিটন। ৬টি চারে মুশফিক ৪৮ এবং লিটন ৮ রানে অপরাজিত আছেন।

বল হাতে পাকিস্তানের আফ্রিদি-হাসান-আব্বাস ও নোমান ১টি করে উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :
বাংলাদেশ ৩০১/৪, ৮৫ ওভার (শান্ত ১০১, মোমিনুল ৯১, মুশফিক ৪৮*, আব্বাস ১/৫১)।

মাদক নিয়ন্ত্রণে ১০ বছরের চুক্তি করলো বাংলাদেশ ও পাকিস্তান

হাম-রুবেলাসহ ১০ ধরনের টিকার নতুন চালান এসেছে

মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার এবং অপব্যবহার রোধে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (ইন্টেরিয়র মিনিস্টার) সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি নিজ নিজ দেশের পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় উভয় দেশ মাদক পাচার এবং মাদক সংক্রান্ত অর্থ পাচার রোধে একে অপরকে প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে। এছাড়া মাদক অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তি, পাচারকারী সংস্থা এবং পাচারের নতুন পদ্ধতি ও রুট সম্পর্কে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে দুই দেশ।

চুক্তির উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:
তথ্য আদান-প্রদান: মাদক পাচারকারী ব্যক্তি, অপরাধী সংগঠন এবং মাদক লুকানোর নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য বিনিময় করা হবে।

যৌথ কার্যক্রম: মাদক পাচার রোধে উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পারস্পরিক অনুরোধে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা এবং ‘কন্ট্রোলড ডেলিভারি অপারেশন’-এর মতো সমন্বিত অভিযান চালাবে।

প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি: মাদক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল বিনিময়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।

প্রযুক্তিগত সহায়তা: লুকানো মাদক শনাক্ত করার প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম এবং স্নিফার ডগ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হবে।

ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ: নিয়মিত ও অপারেশনাল তথ্য বিনিময়ের জন্য বাংলাদেশের পক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং পাকিস্তানের পক্ষে এএনএফ ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে।

গোপনীয়তা রক্ষা: আদান-প্রদানকৃত সকল তথ্য ও নথিপত্রের কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে এবং তৃতীয় কোনো পক্ষকে তা জানানো হবে না।

এই চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকে ১০ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে পরবর্তীতে এর মেয়াদ বাড়ানো যাবে। এই সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের নাগরিকদের জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেছে।

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ৭

হাম-রুবেলাসহ ১০ ধরনের টিকার নতুন চালান এসেছে

গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ৪৯৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৮ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি খুলনা ১ জন ও সিলেটে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৮২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ২১২ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৪৬ হাজার ৭১০ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে এই সময়ে মোট ৬ হাজার ৪৯০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৩২ হাজার ৮৬২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ২৯ হাজার ১৫২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

×