শিরোনাম:

স্টারমারের পদত্যাগ চাইলেন ৭০ এমপি

স্টারমারের পদত্যাগ চাইলেন ৭০ এমপি

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর পদত্যাগের চাপ আরও তীব্র হয়েছে। সোমবার (১১ মে) চারজন সংসদীয় সচিব পদত্যাগ করার পাশাপাশি লেবার পার্টির ৭০ জনের বেশি এমপি প্রকাশ্যে তার সরে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

গত সপ্তাহের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর স্টারমার লন্ডনে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। তবে সেই বক্তব্য দলীয় ক্ষোভ প্রশমনে ব্যর্থ হয়েছে। দলের অনেক নেতার মতে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্টারমার তার কর্তৃত্ব হারিয়েছেন এবং ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যদের মধ্যেও স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাবানা মাহমুদসহ অন্তত তিনজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী তাকে পদত্যাগের একটি সময়সীমা নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন।

অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট্টে কুপার সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলেছেন। উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড লামিও একই সুরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।

পদত্যাগকারী কর্মকর্তাদের দাবি, স্টারমারের প্রতি দলীয় এমপিদের আস্থা প্রায় শেষ হয়ে গেছে এবং এ বার্তা সাধারণ জনগণের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে।

তবে ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেও স্টারমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি এখনই পদত্যাগ করতে রাজি নন। লন্ডনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে নেতৃত্ব পরিবর্তন দেশে আরও ‘বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ইউক্রেন ও ইরানকে ঘিরে বৈশ্বিক উত্তেজনার সময়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভোটার ও দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে স্টারমার বলেন, তিনি নিজেকে আরও সাহসী ও গতিশীল নেতা হিসেবে প্রমাণ করবেন এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে জরুরি পদক্ষেপ নেবেন।

তবে তার এ বক্তব্যের পরও দলের ভেতরে পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। অনেক কনিষ্ঠ মন্ত্রী আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি তুলেছেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যে পদত্যাগ করা কর্মকর্তাদের স্থলে নতুন নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন স্টারমার। তবে পরিবেশমন্ত্রী স্টিভ রিড ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলির মতো হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া তার পক্ষে এখন প্রকাশ্যে খুব কম নেতাকেই অবস্থান নিতে দেখা যাচ্ছে।

স্টারমারের ঘনিষ্ঠরা সতর্ক করে বলেছেন, বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির মতো ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তন করলে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লেবার পার্টির বড় সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও কিয়ার স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্ব এখন গুরুতর সংকটের মুখে রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স

আন্দোলনকারীদের হত্যার পর হাসিনার কান্না ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায়: স্পিকার

স্টারমারের পদত্যাগ চাইলেন ৭০ এমপি

আন্দোলনকারীদের হত্যার পর হাসিনার কান্নার নাটক ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে লিখিত থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দীন আহমদ। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের কাজ পরিদর্শনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হাফিজ উদ্দীন আহমদ বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধ, জুলাই অভ্যুত্থানসহ গণতন্ত্রের জন্য বাঙালির দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ইতিহাস জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে স্থান পেয়েছে। আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে এ জাদুঘর খুলে দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তিনি জানান, গণতন্ত্রের জন্য বাঙালির আত্মত্যাগ বিশ্বের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তারা হাসিমুখে গণতন্ত্রের জন্য জীবন দেয়া বীরদের উদাহরণ।

তিনি আরও জানান, জুলাই জাদুঘরে স্থান পেয়েছে গণভবন দখলের চিত্র, শহিদদের পকেটে রাখা চিঠি এবং হাসিনার খুনের নির্দেশের কল রেকর্ডসহ গণতন্ত্রের জন্য বাঙালির দীর্ঘ আন্দোলনের নানা চিত্র।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: এবার এককভাবে লড়বে জামায়াত?

স্টারমারের পদত্যাগ চাইলেন ৭০ এমপি

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগতভাবে নয়, এককভাবেই অংশ নিতে আলাদা পথে হাঁটতে পারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা বলছেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রতিটি দলের নিজস্ব সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। সে কারণেই স্থানীয় পর্যায়ে আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কৌশল নিয়েছে জামায়াত।

এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ঢাকা দক্ষিণের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, দলের নির্বাহী পরিষদ ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে—স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটের রাজনীতি করা হবে না। তিনি বলেন, “প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে নিজস্ব অবস্থান ও সাংগঠনিক শক্তি আরও মজবুত করার সুযোগ তৈরি করতেই পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।”

জামায়াতের এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দলটির দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে মাঠপর্যায়ে নিজেদের শক্তি যাচাই ও বিস্তারের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে চায় দলটি।

এ বিষয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোটগত সমঝোতা বা নির্বাচনী ঐক্য নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা হয়নি। প্রতিটি দল নিজস্ব প্রক্রিয়ায় প্রার্থী বাছাই করছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে অংশ নিয়েছিল এনসিপি। তবে স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা প্রার্থী দিলেও এতে রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি বা জোটে কোনো ধরনের মনোমালিন্যের আশঙ্কা নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় দলগুলোর পাশাপাশি ইসলামভিত্তিক দলগুলোর মধ্যেও এখন নতুন কৌশল ও অবস্থান নির্ধারণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জামায়াতের একক নির্বাচনী সিদ্ধান্ত সেই পরিবর্তনেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করবে না সরকার: অর্থমন্ত্রী

স্টারমারের পদত্যাগ চাইলেন ৭০ এমপি

আর্থিক খাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ স্টার্ট-আপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির উদ্বোধনী ও ফান্ড ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজার, বিনিয়োগ বাজার এবং সামগ্রিক আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বাজারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, অর্থনৈতিক খাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ খাতকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিচালনা করা হবে বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে দেশের ৩৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক নিয়ে চালু হওয়া বাংলাদেশের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচালিত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্মের- প্রথম ফান্ডের উদ্বোধন করা হয়। প্রায় ৪২৫ কোটি টাকা সমমূল্যের প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রতিশ্রুত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করলো এই প্ল্যাটফর্ম। ফান্ডটি সিড, লেট-সিড এবং সিরিজ-এ পর্যায়ের স্টার্টআপে বিনিয়োগ করবে।

×