শিরোনাম:

ইরানের সঙ্গে সম্পর্কে ভারতের ৪ কোম্পানিকে নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে সম্পর্কে ভারতের ৪ কোম্পানিকে নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং দেশটি থেকে জ্বালনি তেল ক্রয়ের অভিযোগে ৪ ভারতীয় কোম্পানিকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত কাল সোমবার মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে এ তথ্য।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া কোম্পানিগুলো হলো ‘পোর্টিস পার্টনার এলএলপি’, ‘সদাশিব ওভারসিজ লিমিটেড’, ‘পিআর সফটটেক প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং ‘প্রাক্রুতিস ইনফ্রা ইমপেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’।

পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতের এই চার কোম্পানি ইরান থেকে আমদানি, মজুত, স্থানান্তর, বিক্রয় এবং ইরানকে তেল রপ্তানিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত বিভিন্ন ভূমিকায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত।

আরও বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধাভিযান ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ অভিযানের অংশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যেসব ব্যক্তি ও কোম্পানি ইরানের সামরিক বাহিনী এবং জ্বালানি খাতের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে সংশ্লিষ্ট— তাদের সবার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতাতেই ভারতের এই চার কোম্পানিকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ আগস্ট ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন প্রসিডেন্ট ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরানকে আমি ছাড়া আর কেউ চুক্তির জন্য এত সুযোগ-সুবিধা, এত ছাড় দেয়নি। এটা তাদের জন্য দুঃখজনক যে তারা চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে আজ আমি ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান ঘোষণা করছি। এ অভিযান এতটা বিধ্বংসী হবে যে এর আগে কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমন অভিযান হয়নি। এটা হবে একটি অর্থনৈতিক যুদ্ধ এবং এর জেরে ইরান আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে অভূতপূর্ব মাত্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।”

ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ইরানের প্রতি মিত্রভাবাপন্ন দেশগুলোকে হুঁশিয়ারিও দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প; বলেন, ুআমি আরও ঘোষণা করছি যে (অভিযান চলাকালে) কোনা দেশ যদি তার অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্য, বিমান বন্দর অথবা সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যকে ইরানকে কোনো প্রকার সহযোগিতা প্রদান করে, সেক্ষেত্রে সেই দেশকেও ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি ভুগতে হবে। তেল চোরাচালান, পণ্য বিনিময় লাইন, নগদ অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, জাহাজ নিবন্ধন, ভুয়া কোম্পানি – এই সবকিছু এখন থেকে বন্ধ হতে হবে। সূত্র : এএনআই

দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের উদ্বোধন

আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি: প্রধানমন্ত্রী

ইরানের সঙ্গে সম্পর্কে ভারতের ৪ কোম্পানিকে নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র

দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা দেশের তরুণ সমাজ যদি দেশকে পরিবর্তন করতে চায় তাহলে করা সম্ভব। আমাদের তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন করতে পারে, সেটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে। পরিবর্তনের সূচনা সেখান থেকেই তরুণ সমাজ করেছে। আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি।’

আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী সারা দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘একটা দেশের তরুণ সমাজ যদি দেশকে পরিবর্তন করতে চায় তাহলে করা সম্ভব। ‘তাই তাদের কাছে আমার আহ্বান, আসুন এবার রাষ্ট্রকে, দেশকে আমরা পুনর্গঠন করি। আগামী তিন মাসে আমাদের ডেঙ্গুর সমস্যা আমরা সমাধান করার চেষ্টা করি। হয়তো আমরা শতভাগ পারব না, কিন্তু অন্তত ৮০ শতাংশ আমরা পারব।’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং সরকারি, বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগকে সমন্বিত করার লক্ষ্যে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠান প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, বাংলাদেশের স্কাউটসের সংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ, বিএনসিসি’র সদস্য সংখ্যা ২২ হাজার। এ ছাড়া প্রাথমিক স্কুল, মাদ্রাসা ছাড়াও সারা দেশে হাইস্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। আর প্রাথমিক স্কুল ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় রয়েছে আড়াই কোটি শিক্ষার্থী।’

তিনি বলেন, ‘এ ছাড়া আজ অনলাইনে প্রায় সবগুলো জেলা এখানে কানেক্টেড আছে। গার্লস গাইড, বিএনসিসি স্কাউটস, ভলান্টিয়ারসহ আপনাদের সবার কাছে আমি একটি সাহায্য চাই। সেটি হলো, এই দেশটাকে আমাদের গড়ে তুলতে হবে। আমরা সবাই আজকে এখানে একত্রিত হয়েছি। আমরা একটি লক্ষ্য নিয়ে একত্রিত হয়েছি। সেটি হলো দেশ গড়ার লক্ষ্য।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা জানি, কীভাবে ডেঙ্গু হয়। ভাঙারি, কাগজপত্র বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকে, প্লাস্টিক ও মাটির বিভিন্ন জিনিস পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে পানি জমে এই ডেঙ্গু বহনকারী এডিস মশার তৈরি হয়। কাজেই আমরা সকলে মিলে চেষ্টা করলে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘এই মাঠে আমরা যত মানুষ আজকে উপস্থিত আছি, প্রত্যেকে পানি খাই এবং প্রত্যেকে যদি একটা করে কিছু মাঠে ফেলে দিই এখনে হয়তো কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু এই ময়লাগুলা আস্তে আস্তে জমা হয়ে আবর্জন হবে। সেখান থেকে রোগ জীবাণু তৈরি হবে। আপনি বা আপনার প্রিয়জন অসুস্থ হয়ে যাবে।

‘তাই আসুন আমরা নিজেকে সুস্থ রাখি। নিজের পরিবারকে সুস্থ রাখি। নিজের সমাজকে সুস্থ রাখি। নিজের দেশকে আমরা সুস্থ রাখার চেষ্টা করি। এই কাজটা কিন্তু খুব কঠিন না।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আজকে হয়তো আপনাদের একটু কষ্ট হবে। কিন্তু প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা যদি আমরা নিজের বাসা, স্কুল, কলেজ বা প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য কাজ করি তাহলে অবশ্যই দ্রুত এই পরিবর্তন আনতে আমরা সক্ষম হব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা রাস্তাঘাট দিয়ে যখন যাই, দেখি বহু মানুষ অসচেতনভাবে যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলছে। তাদের সচেতন করতে হবে। যারা ময়লা করবে, যারা আবর্জনা তৈরি করবে, আমাদের তাদের নিরুৎসাহিত করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘তাই কথা একটাই। কাজ, কাজ, আর কাজ। এবং পরিচ্ছন্ন, পরিচ্ছন্ন আর পরিচ্ছন্নতাই হতে হবে আমাদের আগামী দিনের মূল লক্ষ্য।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন কমিটি’র আহ্বায়ক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।

এছাড়াও আরও বক্তব্যদেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করল ইরাক

ইরানের সঙ্গে সম্পর্কে ভারতের ৪ কোম্পানিকে নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করল ইরাক। ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার ঘটনার পর সতর্কতামূলক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ইরানের সঙ্গে সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরাক। ইরাক ও ইরানের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ শালামচেহ এবং চাজ্জাবেহ সীমান্ত ক্রসিংগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ইরাক-ইরান দুটি সরকারের নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইরাক সরকার ইরান সীমান্তের শলামচেহ পারাপার কেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে বড় ধরনের অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

এর আগে শুক্রবার সৌদি আরব অভিযোগ করে, ইরাক থেকে উৎক্ষেপিত ড্রোন দিয়ে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ‘পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে’ হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর নিরাপত্তার কারণে পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে পশ্চিমাঞ্চলের বন্দর পর্যন্ত তেল পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই পাইপলাইন। হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে উপসাগরীয় তেল সরবরাহ ব্যবস্থায়ও এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

ভারতের বাধার কারণে ব্রিকসের দুয়ারে আটকে পাকিস্তান

ইরানের সঙ্গে সম্পর্কে ভারতের ৪ কোম্পানিকে নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র

পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৩ সালে ব্রিকসের সদস্য হতে আবেদন করে, মূলত তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার উদ্দেশ্যে। ব্রিকস (BRICS) জোটে যোগদানের জন্য পাকিস্তানের চেষ্টা ভারতের বিরোধিতার কারণে মূলত ঝুলে রয়েছে।

পাকিস্তান ব্রিকসের সদস্যপদের জন্য ৩ বছর আগেআবেদন করেছে, জোটের দুই প্রভাবশালী সদস্য চীন ও রাশিয়া ইসলামাবাদকে সবুজ সংকেতও দিয়েছে কিন্তু শুধমাত্র ভারতের আপত্তির কারণে এ জোটের সদস্য হতে পারছে না পাকিস্তান।

গত তিন বছরে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত এই চারটি দেশ প্রাথমিক সদস্য থেকে স্থায়ী সদস্যে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান এখনও প্রাথমিক সদস্যপদই পায়নি।

তীব্র অর্থনৈতিক চাপে থাকা পাকিস্তান মূলত ব্রিকস জোটের সদস্যপদ চাইছে নিজেদের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে। পাকিস্তানের জাতীয় অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য অনুসারে, বর্তমানে দেশিটির বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৭০ ভাগ।

এছাড়া দিনে দিনে ব্রিকসের দক্ষিণ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী অর্থনৈতিক জোট হয়ে উঠতে থাকাও পাকিস্তানের সদস্যপদের আবেদনের অন্যতম কারণ।

২০২৩ সালের নভেম্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মুমতাজ জাহরা বালোচ জানিয়েছিলেন, পাকিস্তান বৈশ্বিক দক্ষিণের এ প্রধান জোটে যোগ দিতে চায়। তিনি বলেছিলেন, ব্রিকসের ‘বেশিরভাগ’ সদস্যের সঙ্গে পাকিস্তানের উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে।

পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিকসে যোগ দেওয়ার আবেদন করেছে জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমরা বিশ্বাস করি, ব্রিকসে যোগ দিয়ে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপক্ষীয়তাকে পুনরুজ্জীবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

×