নেপাল ও তিব্বতে প্রাণহানি বেড়ে ৬৩৩
নেপাল ও তিব্বতে প্রাণহানি বেড়ে ৬৩৩। ছবি : সংগৃহীত
নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে ভয়াবহ হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৬৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রসুয়া এবং সীমান্তের অপর পাশে চীনের তিব্বত প্রদেশের গিরং জেলায় ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল বা হড়পা বানের পর থেকে এ পর্যন্ত ৬৩৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার এসব মরদেহের মধ্যে ৬২৬ টি নেপাল এবং বাকি ৭টি তিব্বতের।
অন্যদিকে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটিতে অন্তত এক হাজার ৯২৪ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৫১৭ বিদেশি নাগরিক। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ থেকে নিখোঁজ ও মৃতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত নতুন ভিডিওতে সীমান্তের তিব্বত অংশে ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ভিডিওতে উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের কাদা ও পাথরে ভরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে এবং ‘কেউ আছেন ?’ বলে ডাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকালে পর্বত পেরিয়ে, খাড়া পাহাড় বেয়ে এবং প্রবল স্রোতের নদী পার হয়ে উদ্ধারকারী দল অবশেষে স্থলসীমান্তে তিব্বতের দুর্যোগের কেন্দ্রস্থল গিরং বন্দরে পৌঁছায়। তিব্বতে সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে চীন জানিয়েছে, বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধান কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে গতকাল শুক্রবার এক প্রতিবেদেন চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছে নতুন একটি ব্যারিয়ার হ্রদের সন্ধান মিলেছে এবং যে কোনো সময়ে সেটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যারিয়ার হ্রদের পানির প্রভাবে ভোতিকোশি নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল সিসিটিভির প্রতিবেদনে।
লাসার একটি অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকারী দলের প্রধান জৌ মিংছি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিকে আরও বলেন, সেখানে ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছুই ছিল না। পুরোনো সীমান্ত গেটের আশপাশের এলাকাটি ঘন কাদায় ঢেকে গিয়েছিল, পা ফেললেই কাদায় দেবে যাচ্ছিল।
নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে পর্যটক ও যানবাহন চলাচলের জন্য গিরং বন্দর ছিল অন্যতম প্রধান সীমান্তপথ। স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বন্দরটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। গিরং বন্দরের আশপাশে উদ্ধার তৎপরতার দায়িত্বে থাকা কমান্ড টিম ঢালগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে ড্রোন ও পর্যবেক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে কাছাকাছি কাজ করা উদ্ধারকারীদের আগাম সতর্ক করা হবে।
আবহাওয়ার অনুকূল স্বল্প সময়কে কাজে লাগিয়ে নিখোঁজদের মধ্যে কেউ জীবিত আছেন কিনা, তা খুঁজে দেখার চেষ্টা চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দলগুলো। একই সঙ্গে সড়কটি আবার চালু করার কাজও চলছে।

আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি: প্রধানমন্ত্রী










