দুর্গম পাহাড়ে আলোর দিশারী নিপা ত্রিপুরা
নিপা ত্রিপুরা : ছবি সংগৃহীত
নিপা ত্রিপুরা হলেন খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের একজন অনন্য এবং অনুপ্রেরণাদায়ী নারী ইলেকট্রিশিয়ান, যিনি পুরুষতান্ত্রিক পেশার বৃত্ত ভেঙে পাহাড়ি জনপদে আলোর দিশারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি নিজের দক্ষতা দিয়ে প্রত্যন্ত পাহাড়ি গ্রামগুলোর ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ ও সোলারের আলো পৌঁছে দিচ্ছেন।
বাংলাদেশ সরকারের অর্থ বিভাগের অধীন ঝওঈওচ প্রকল্পের আওতায় ‘পিকেএসএফ’ এর মাধ্যমে খাগড়াছড়ির ‘আনন্দ ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারে’ ৩ মাসের আবাসিক প্রশিক্ষণ নেন নিপা ত্রিপুরা । নিপা ত্রিপুরা সম্পূর্ণ পুরুষপ্রধান ‘ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স’ ট্রেডে ভর্তি হন। যেখানে ২৫ জনের ব্যাচে মাত্র ২ জন নারী ছিলেন। শুরুতে বিদ্যুতের তার ও শক খাওয়ার ভয় থাকলেও প্রশিক্ষকদের সহায়তায় অদম্য সাহসের সাথে তিনি নিজের ভয়কে জয় করেন।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার গাছবান অমৃতপাড়া গ্রামের নিপা ত্রিপুরার গল্পটা আর দশজনের মতো নয়। পাহাড়ি জনপদের অনেক মেয়ের ভবিষ্যৎ যেখানে বিয়ে ও সংসারের প্রচলিত গণ্ডিতে আটকে যায়, সেখানে ২২ বছর বয়সি নিপা স্বপ্ন দেখেছেন ভিন্ন কিছু করার।
কৃষক বাবার সঙ্গে জুমের ক্ষেতে কাজ করার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই বিদ্যুতের তার, সুইচবোর্ড ও নষ্ট বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির প্রতি ছিল তার গভীর আগ্রহ। সেই আগ্রহই একসময় তাকে করে তুলেছে দুর্গম পাহাড়ের এক আত্মনির্ভর তরুণী।
বড় বোনের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর ভাইয়ের সঙ্গে বাবার কৃষিকাজে সহযোগিতা করতে শুরু করেন নিপা। পরিবারের আর্থিক অনটনের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। ২০২১ সালে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি।
জীবিকার তাগিদে খাগড়াছড়ি শহরের একটি কারুপণ্যের দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন নিপা। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) বাস্তবায়িত বাংলাদেশ সরকারের অর্থ বিভাগের আওতায় খাগড়াছড়ির আনন্দ ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারে ‘ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স’ বিষয়ে তিন মাসের প্রশিক্ষণে ভর্তি হন নিপা।
পুরুষপ্রধান এই কারিগরি প্রশিক্ষণে শুরুতে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা অস্বস্তি ও ভয় কাজ করত নিপার মধ্যে। প্রশিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতা ও নিয়ম মেনে কাজ শেখার ফলে ধীরে ধীরে সেই ভয় কেটে যায়। নিজের ওপর বিশ্বাস বাড়তে থাকে।
নিপা জানান, পিকেএসএফ – প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করে মূলধারার অর্থনীতিতে কাজ করছে। দারিদ্র্য বিমোচন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীদের অন্তর্ভুক্ত করে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
তবে নিপার ত্রিপুরার স্বপ্ন এখানেই শেষ নয়। নিজের উপার্জনের একটি অংশ নিয়মিত সঞ্চয় করছেন তিনি। ভবিষ্যতে খাগড়াছড়ির নিজের এলাকায় একটি ‘সোলার প্যানেল বিক্রয় ও সার্ভিসিং সেন্টার’ গড়ে তুলতে চান। তার লক্ষ্য শুধু নিজের কর্মসংস্থান নয়, এলাকার বেকার যুবকদের জন্যও কাজের সুযোগ তৈরি করা।

আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি: প্রধানমন্ত্রী













