পাঁচ দিনের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল
ছবি ; সংগৃহীত
টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল নেমেছে। তবে সম্প্রতি উখিয়ার ইনানী সৈকতের পাটুয়ারটেক এলাকার একটি কাঠের রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর, জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ও তদারকিতে বাড়তি নজরদারি বাড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর দিন সকাল থেকেই শহরের সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলী পয়েন্টে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিকেলে লাবণী পয়েন্টে দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে এবং চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
পাঁচ দিনের লম্বা ছুটির শুরুতে ইতিমধ্যে লাখো পর্যটক কক্সবাজারে এসে পৌঁছেছেন। কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির মতে, এই ছুটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড় লাখ পর্যটক আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে মোট পর্যটকের সংখ্যা ৭ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ অহিদুর রহমান জানান , পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সমুদ্রসৈকতসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশের দল দায়িত্ব পালন করছে একইসঙ্গে গোয়েন্দা তৎপরতাও অব্যাহত আছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটনশিল্পের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা প্রশাসনের অগ্রাধিকার।
পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নেওয়া বা তাদের হয়রানি করা হচ্ছে কি না, এ ছাড়া আবাসনের ক্ষেত্রে কোনো অব্যবস্থাপনা আছে কিনা তা নজরদারিতে রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পাটুয়ারটেকের রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর পর্যটকদের মধ্যে মূল শহরের ভেতরের হোটেলগুলোতে থাকার প্রতি আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। ফলে উপকূলবর্তী বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের কাঠের তৈরি রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে বুকিংয়ের চাপ কিছুটা কমেছে।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেখতে এসেছেন পর্যটক নিতাই শর্মা। তিনি বলেন, কক্সবাজার পছন্দের জায়গা, আর এখানে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রতিমা বিসর্জন হয়। উৎসবের পাশাপাশি ঘোরাঘুরি হয়ে গেলো, তাই পরিবার নিয়ে চলে এসেছি। আবহাওয়াসহ সার্বিক পরিবেশ খুবই চমৎকার লাগছে।
চট্টগ্রাম থেকে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে আসা পর্যটক মামুন ইসলাম বলেন, কক্সবাজারে এলে সমুদ্রের সামনে দাঁড়ালে অন্য রকম এক অনুভূতি হয়। সকাল-বিকেল সৈকতে ঘোরাঘুরি, ছবি তোলা আর ঢেউ দেখা—এসবের মধ্য দিয়েই ছুটির সময়টা কাটছে।
সৈকতে সমুদ্রস্নান নিরাপদ করতে পর্যটক সমাগম হওয়া পয়েন্টগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন সি-সেইফ লাইফগার্ডের সদস্যরা।
সি-সেইফের উদ্ধারকর্মী মো. সেলিম উদ্দীন বলেন, সাগরে নামার সময় পর্যটকদের সতর্ক থাকতে হবে। লাইফগার্ডদের নির্দেশনা মেনে নির্ধারিত এলাকায় গোসল করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, পাঁচ দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে ৫ লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম হতে পারে। এরই মধ্যে শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও কটেজের প্রায় ৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, পাঁচ দিনের ছুটিতে প্রতিদিন গড়ে লক্ষাধিক পর্যটক আসতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। শহর এলাকার অধিকাংশ হোটেল-মোটেল পর্যটকে পরিপূর্ণ, তাদের সেবায় যাতে কোনো ঘাটতি না থাকে সে লক্ষে সমিতির পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গত ১৭ অক্টোবর উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ১০ জন পর্যটক, ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্তকতা ও বাড়তি নজরদারি আরোপ করা হয়েছে।
সমুদ্রসৈকত, হিমছড়ি ঝরনা, দরিয়ানগর, ইনানী ও পাটুয়ারটেকসহ সব পর্যটন এলাকায় ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে। হোটেল বা রেস্তোরাঁগুলো যাতে পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম বা বাড়তি ভাড়া আদায় করতে না পারে, তা কঠোরভাবে নজরদারি করা হচ্ছে।

সুস্থ্য হয়ে উঠছেন ইলিয়াস কাঞ্চন, নিতে হচ্ছে না কেমোথেরাপি














