যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিতীয় দফায় সোমবার ফের বৈঠকে বসতে পারে!
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং বিশ্বজুড়ে বিপর্যস্ত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি শুরু করেছে পাকিস্তান। সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, সোমবার এই ঐতিহাসিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে। এর আগে গত ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফার বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছিল।
প্রথম দফার আলোচনা ব্যর্থ হলেও হাল ছাড়েনি পাকিস্তান। দুই দেশকেই পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফেরাতে গত কয়েকদিন ধরে রুদ্ধদ্বার কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছেন পাক নীতিনির্ধারকরা। বর্তমানে দুই দেশই দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে, যা পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে নতুন গতি দিয়েছে।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গত বুধবার থেকে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফরে রয়েছেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির গত বুধবার তেহরানে পৌঁছে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নিবিড় আলোচনা চালিয়েছেন।
আলোচনাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ইসলামাবাদ ও পার্শ্ববর্তী রাওয়ালপিন্ডিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাদেশিক পর্যায় থেকে হাজার হাজার পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য তলব করা হয়েছে। গতবার ১০ হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হলেও এবার সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৈঠককে ঘিরে ইসলামাবাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংলগ্ন বাজারগুলো বন্ধ রাখা হতে পারে। যাতায়াতের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের ইঙ্গিত দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আলোচনার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি জানান, যদি ইসলামাবাদে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তবে তিনি সেখানে সশরীরে উপস্থিত হতে পারেন। ট্রাম্প অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তেহরান আলোচনার প্রায় সব শর্তই মেনে নিয়েছে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, প্রয়োজন হলে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে, যদিও তার বিশ্বাস এর আগেই একটি স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। প্রথম দফার বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স জানিয়েছিলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ত্যাগ না করাই ছিল প্রধান বাধা। অন্যদিকে, ইরানি প্রতিনিধি দলের প্রধান মহম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেছিলেন যে, প্রতিপক্ষ তাদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
আগামী ২২ এপ্রিল বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। তার আগেই ইসলামাবাদের এই দ্বিতীয় দফার বৈঠকটি বিশ্বশান্তি ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য চূড়ান্ত ভাগ্যনির্ধারক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: সিএনএন

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে আইএমএফ-এর শর্তের সম্পর্ক নেই : অর্থমন্ত্রী











