কোস্ট গার্ডের বহরে যুক্ত করা হবে হেলিকপ্টার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তায় কাজ করছে কোস্ট গার্ড। বর্তমান সরকার কোস্ট গার্ডের সার্বিক উন্নয়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এই বাহিনীর বহরে হেলিকপ্টার সার্ভিস যোগ করা হবে। এতে করে অতীতের তুলনায় বহুগুণ সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে কোস্ট গার্ডের।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের নেতৃত্বে বেগম খালেদা জিয়া কোস্ট গার্ড প্রতিষ্ঠা করেন। এই বাহিনী এখন জনগণের আস্থার জায়গায় পরিণত হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নজরদারি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বে সব দেশেই প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে নিজস্ব ইন্টেলিজেন্স উইং থাকে। কোনো সদস্য দেশবিরোধী বা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখতে মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স কাজ করে। এ ধরনের ঘটনায় প্রচলিত সামরিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যা নতুন কিছু নয়।
সেনাবাহিনীর মাঠে থাকার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা হয়তো আপডেট নন। আমরা ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের (গ্রাজুয়াল উইথড্র) মধ্যে আছি। একসঙ্গে পুরো ফোর্স প্রত্যাহার করা যায় না। ইতোমধ্যে অনেকাংশে কমানো হয়েছে এবং শিগগিরই তা আরও সীমিত আকারে নামিয়ে আনা হবে। তবে প্রয়োজনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকারের চাহিদা অনুযায়ী তারা ভবিষ্যতেও কাজ করবে।
পুলিশ সদরদপ্তরের বিশেষ সতর্কতামূলক চিঠি জারির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি। তবে জাতীয় দিবস বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কী পয়েন্ট ইনস্টলেশন) ঘিরে সবসময় স্ট্যান্ডার্ড অপারেশনাল প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং বিভিন্ন বাহিনীর সহায়তা নেওয়া হয়। যা অতীতেও ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় এলাকার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়েও কাজ করছে বাহিনীটি। তাদের নিয়মিত টহলের কারণে সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও সুন্দরবন রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছে বাহিনীটি।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার সদস্যের কোস্ট গার্ডকে পর্যায়ক্রমে ১০ হাজারে উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক, আধুনিক সরঞ্জাম, হেলিকপ্টার,আবাসন ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণ সুবিধাও বাড়ানো হবে।
তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় অঞ্চল, ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলসহ দুর্গম জলপথে জলদস্যুদের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। উপকূলীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোস্ট গার্ডকে শক্তিশালী করা জরুরি। তাই প্রযুক্তির ব্যবহারে অপরাধীদের সক্ষমতা বাড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও আধুনিক ও প্রস্তুত থাকতে হবে।
এ সময় গত এক বছরে সুন্দরবনে অভিযানসহ নানা কর্মসূচি তুলে ধরেন মন্ত্রী।
এর আগে বাহিনীটির মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল জিয়াউল হক বলেন, কোস্ট গার্ড সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। দেশের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে এই বাহিনী। বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে বাহিনীর ১৬ জন সদস্য জীবন দিয়েছেন।
জনবলের ঘাটতি রয়েছে বলে জানান মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ঘাটতি পূরণ হলে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে বাহিনীটি।

গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী




