শিরোনাম:

হরমুজে আটকে পড়া জাহাজ উদ্ধারে ট্রাম্পের অভিযান হঠাৎই বন্ধ!

হরমুজে আটকে পড়া জাহাজ উদ্ধারে ট্রাম্পের অভিযান হঠাৎই বন্ধ!

হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনতে শুরু করা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ আপাতত স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে সমঝোতার পথে ‘বড় ধরনের অগ্রগতি’ হয়েছে দাবি করে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বহাল থাকবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন। এদিকে, তেহরান ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে নিজেদের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে ট্রাম্প অভিযান সাময়িক স্থগিতের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, কয়েকদিন আগে শুরু হওয়া এই অভিযান ‘স্বল্প সময়ের জন্য’ বন্ধ রাখা হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা পাকিস্তানের অনুরোধেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ট্রাম্পের এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ তার লক্ষ্য পূরণ করায় শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, “আমরা শান্তির পথকেই অগ্রাধিকার দিতে চাই। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একটি সমঝোতাই চান।” তবে ট্রাম্পের স্থগিতাদেশের এই সিদ্ধান্ত অনেকের জন্যই বিস্ময়কর ছিল, কারণ এর আগের দিনজুড়েই মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেছিলেন যে, এই অভিযান হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরে নৌযান চলাচল এবং বাণিজ্যের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন আগেই জানিয়েছিল, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ এবং ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ আলাদা দুটি অভিযান। অবরোধের উদ্দেশ্য ছিল ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা; আর ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর লক্ষ্য ছিল উপসাগরে আটকে থাকা জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে এনে তেল সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানো। ওয়াশিংটন মনে করছে, অভিযান সাময়িক বন্ধ রাখার মাধ্যমে তেহরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরানো সম্ভব হতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিরতির সময় যদি ইরানের হস্তক্ষেপে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি বা বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যক্রম চালাতে না পারে, তাহলে ট্রাম্পের পক্ষে অভিযানের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে বলে দাবি করা কঠিন হবে।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই সিদ্ধান্তকে নিজেদের বিজয় হিসেবে তুলে ধরে বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি চালু করতে ব্যর্থ হয়ে ট্রাম্প ‘পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন’। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই অসহনীয় হয়ে উঠবে। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও অবরোধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররাই নৌ চলাচল ও জ্বালানি পরিবহনকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে, তবে তাদের এই অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালানোর মাধ্যমে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। এর জবাবে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যে পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। পরবর্তীতে এপ্রিলের শুরুতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। এর আওতায় ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ করলেও খুব কম সংখ্যক জাহাজই হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পেরেছে। এরই মাঝে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নিজস্ব অবরোধও আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আবেদন পিডিবির

হরমুজে আটকে পড়া জাহাজ উদ্ধারে ট্রাম্পের অভিযান হঠাৎই বন্ধ!

জ্বালানি তেলের পর এবার বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চায় সরকার। দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাইকারি পর্যায়ে ১৭ থেকে সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। প্রস্তাব আমলে নিয়ে কারিগরি কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

বুধবার (৬ মে) বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ পিডিবির আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আমরা পিডিবির প্রস্তাব পেয়েছি। সেখানে পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১৭ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কারিগরি কমিটি পিডিবির প্রস্তাব পর্যালোচনা করবে।

কমিশনের নিয়ম অনুসারে, সব প্রস্তাব মূল্যায়ন করবে কারিগরি কমিটি। এরপর মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ ও সব সংস্থার প্রস্তাব নিয়ে অংশীজনদের অংশগ্রহণে গণশুনানি করা হবে। শুনানিতে যৌক্তিকতা প্রমাণ করার ভিত্তিতে দাম বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে কমিশন। বিদ্যুৎ খাতে আয়-ব্যয়ের ঘাটতির সঙ্গে সরকারের প্রতিশ্রুত ভর্তুকি সমন্বয় করে দাম বাড়ানোর পরিমাণ ঠিক করা হবে।

বিইআরসি সূত্র বলছে, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে পিডিবি। বছরে ৯ হাজার কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পিডিবি। দেড় টাকা বাড়লে বছরে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা বেশি আয় করতে পারবে তারা। আর ১ টাকা ২০ পয়সা বাড়লে বছরে বাড়তি আয় হবে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। পাইকারির বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আনুপাতিক হারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত বাড়তে পারে দাম।

সরকারি-বেসরকারি সব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চুক্তি অনুসারে নির্ধারিত দামে বিদ্যুৎ কিনে নেয় পিডিবি। এরপর তারা উৎপাদন খরচের চেয়ে কিছুটা কমে সরকার নির্ধারিত পাইকারি দামে ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করে। ঘাটতি মেটাতে পিডিবি সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি নেয়। তবে বিতরণ সংস্থাগুলো কোনো ভর্তুকি পায় না। তারা খুচরা দামে ভোক্তার কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে মুনাফা করছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সবশেষ বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। এই সময় খুচরা পর্যায়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল বিদ্যুতের দাম। এতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি দাম গড়ে ৬ দশমিক ৭০ টাকা ৩৪ পয়সা থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ০৪ টাকা হয়েছিল।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবেন ট্রাম্প

হরমুজে আটকে পড়া জাহাজ উদ্ধারে ট্রাম্পের অভিযান হঠাৎই বন্ধ!

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে দুই পক্ষ একটি এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

এই শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত পাকিস্তানের একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।

পাকিস্তানি সূত্রটি রয়টার্সের কাছে সেই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, যুদ্ধ অবসানে দুই দেশ এখন সমঝোতার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

‘অ্যাক্সিওস’ তার প্রতিবেদনে জানায়, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে শুরু করা অভিযানটি স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই হোয়াইট হাউস মনে করছে, তারা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারছে।

শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত পাকিস্তানি সূত্রটি রয়টার্সকে বলেছে, ‘আমরা খুব দ্রুতই এই প্রক্রিয়ার সমাপ্তি টানব। আমরা (সমঝোতার) একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।’

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে জবাব আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বা হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

সম্ভাব্য এ চুক্তির শর্তাবলি সম্পর্কে অ্যাক্সিওস বলেছে, চুক্তির আওতায় ইরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং জব্দ করা কয়েক বিলিয়ন ডলার ফেরত দেবে। এছাড়া উভয় পক্ষই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নিতে সম্মত হবে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

হরমুজে আটকে পড়া জাহাজ উদ্ধারে ট্রাম্পের অভিযান হঠাৎই বন্ধ!

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম এবং এর উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার (৬ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া সাতজনের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে। বাকি পাঁচজন মারা গেছেন হামের যাবতীয় উপসর্গ নিয়ে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আক্রান্ত শিশুদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি বছরের ১৫ মার্চের পর থেকে দেশে হামজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬ জনে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে বা সন্দেহভাজন হামজনিত কারণে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ২৬৮ জন।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। হঠাৎ করে হামের এই প্রকোপ বাড়ায় অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

×