শিরোনাম:

এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে প্রধানমন্ত্রীর নতুন পলিসি: মাহ্দী আমিন

এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে প্রধানমন্ত্রীর নতুন পলিসি: মাহ্দী আমিন

এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় একটি বিশেষ স্থায়ী কর্মপরিকল্পনা বা নতুন পলিসি তৈরি করছে সরকার।

আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘চ্যালেঞ্জড স্টুডেন্টস কনফারেন্স-২০২৬’-এ অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এই নতুন উদ্যোগের কথা প্রকাশ করেন।

গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে মাহ্দী আমিন জানান, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর তালিকা তৈরি করে তাদের আগ্রহ ও দক্ষতা অনুযায়ী বিকল্প ক্যারিয়ারের সুযোগ দেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। আমরা তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। জাপান, কোরিয়ান, চীন কিংবা ইউরোপীয় কোনো দেশের ভাষা তিন থেকে ছয় মাসের মেয়াদে শিখে নিলে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সহজ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, এসএসসির পর এইচএসসি এবং উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেও যেখানে শতভাগ কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা থাকে না, সেখানে ভাষা শিক্ষা ও স্বল্পমেয়াদি কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দ্রুত আত্মনির্ভরশীল হওয়া সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষার্থী এসএসসির পর এইচএসসি করছে, তারপর অনার্স করছে; তারপরও তার কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু তোমাদের যদি আমরা ভাষা শেখার ব্যবস্থা করে দিতে পারি এবং তিন বা ছয় মাস মেয়াদি বিভিন্ন ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারি, তাহলে তোমাদের অনেকেই সরাসরি কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ মুখপাত্র বলেন, জনগণের নির্বাচিত ও শিক্ষাবান্ধব সরকার হিসেবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রতিটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আমরা সচেষ্ট। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন যারা জিপিএ-৫ বা গোল্ডেন জিপিএ-৫ পায় তাদের প্রতি রাষ্ট্রের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি যারা প্রত্যাশিত ফলাফল পায়নি কিংবা কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে তাদের প্রতিও রাষ্ট্রের সমান দায়িত্বশীলতা ও দায়বদ্ধতা রয়েছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, একজন শিক্ষার্থীর ফলাফল খারাপ হওয়ার পেছনে কেবল মেধার ঘাটতি থাকে না, এর পেছনে পারিবারিক ও আর্থিক অসঙ্গতি, প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক বা শ্রেণিকক্ষের অভাব কিংবা পরীক্ষার পূর্বে অসুস্থতা ও পারিবারিক সংকটসহ বহুমুখী কারণ থাকতে পারে। সরকার বিষয়টিকে কেবল ফলাফল দিয়ে বিবেচনা করে না। শিক্ষক সংকট থাকলে শিক্ষক দেওয়া, ক্লাসরুমের সংকট থাকলে অবকাঠামো তৈরি করা কিংবা আর্থিক অসঙ্গতি থাকলে সহায়তা নিশ্চিত করাই সরকারের কাজ।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত বা প্রত্যাশিত ফলাফল পাননি, জীবনে চলার পথে এই ধরনের সাময়িক হোঁচট খাওয়া অস্বাভাবিক নয়।এসএসসি কিংবা এইচএসসিতে যারা ভালো ফলাফল করে, তাদের হয়তো জীবনে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। তবে পরীক্ষায় ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের পরবর্তী জীবনে সফলতার পূর্ণাঙ্গ নিশ্চয়তা নয়, তেমনি পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল না পেয়েও অনেকে জীবনে সফল হয়ে ওঠেন। এর অর্থ হলো এসএসসিতে সাফল্য মানেই জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য নয়, আর এসএসসিতে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া মানেই জীবনের ব্যর্থতা নয়।

অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের সকল অংশীজনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, ব্যক্তিজীবনেও রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে আমরা সবাই অভিভাবক। শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানতুল্য। সেই দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জনগণের শিক্ষাবান্ধব সরকার প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া বা না পাওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে।

আরও উপস্থিত ছিলেন গণস্বাক্ষরতা অভিযান কাউন্সিলের (বোর্ড) চেয়ারপারসন ড. ইরাম মরিয়ম, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস, ডা. আরিফুর রহমান প্রমুখ।

আজকের শিক্ষার্থীরাই জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব: রাষ্ট্রপতি

এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে প্রধানমন্ত্রীর নতুন পলিসি: মাহ্দী আমিন

আজকের তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীরাই জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বঙ্গভবন পরিদর্শনে আসা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে বঙ্গভবন পরিদর্শনে আসা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি জারি হওয়া ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের বঙ্গভবন ভ্রমণ সংক্রান্ত নীতিমালা’২০২৬’-এর আওতায় প্রথমবারের মতো মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা বঙ্গভবন পরিদর্শন করলেন। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠানটির ৭ম থেকে ৯ম শ্রেণির বাছাই করা সেরা শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা পরিদর্শনে অংশ নেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা বঙ্গভবনের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। পরে বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন এবং তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। নতুন প্রজন্মকে বঙ্গভবন ও রাষ্ট্রের ইতিহাস-ঐতিহ্য বিষয়ে আগ্রহী করে তুলতে অভিনব এ আয়োজনে পরিদর্শনে আসা শিক্ষার্থীরা এই প্রথম রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কুশল বিনিময় ও অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতার সুযোগ পান।

রাষ্ট্রপতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্যে গুরুজন ও শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান করার পাশাপাশি সন্তানের জন্য বাবা-মায়ের আত্মত্যাগের কথা স্মরণে রেখে নিজেদের গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নিজেদের সুশিক্ষিত ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে যেমন বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ হবে, তেমনি জাতির প্রত্যাশাও পূরণ হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গভবন শুধু একটি ভবন নয়, এটি রাষ্ট্রের প্রতীক, ইতিহাসের স্বাক্ষী।

ভবিষ্যতে পালাক্রমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বঙ্গভবন পরিদর্শনে নিয়ে আসা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গভবন নিয়ে, রাষ্ট্র নিয়ে, ভবিষ্যতের নেতৃত্ব নিয়ে যেন তোমাদের আগ্রহ সৃষ্টি হয়, সে জন্যই আজ তোমাদের এই পরিদর্শন।’

এ সময় রাষ্ট্রপতি বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত শিক্ষায় দক্ষ হয়ে নতুন নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতির সচিব ও প্রেস সচিবসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গার্ড অব অনার শেষে পারিবারিক কবরস্থানে সাংবাদিক শফিকুর রহমান শেষ নিদ্রায়

এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে প্রধানমন্ত্রীর নতুন পলিসি: মাহ্দী আমিন

বিশিষ্ট সাংবাদিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমানের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ২টায় ফরিদগঞ্জের বালিথুবা আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা ও গার্ড অব অনার অনুষ্ঠিত হয়।

বিশিষ্ট সাংবাদিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমানের দ্বিতীয় জানাজা নিজ গ্রামে। ছবি : সংগৃহীত

জানাজার আগে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে জানাজা শেষে, তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এর আগে গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীতে নিজ বাসার বাথরুমে হার্ট অ্যাটাক করে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন শফিকুর রহমান। পরে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ শফিকুর রহমান :

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ শফিকুর রহমান ২৪ অক্টোবর ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি হৃদরোগে (স্ট্রোক) আক্রান্ত হয়ে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত অবস্থায় তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। স্বাধীনতার পর তিনি পত্রিকাটিতে স্থায়ীভাবে যোগ দেন এবং টানা ৩২ বছর কর্মরত থাকার পর ২০০২ সালে অবসর নেন।

তিনি ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকও নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘সিটিজেন টিভি’-র চেয়ারম্যান ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। সাংবাদিকতায় উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য তিনি যুক্তরাজ্য, জাপান ও জার্মানি সফর করেন।

ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার’২০২৬ পেলেন মাহমুদা চৌধুরী ও মেজবাউর রহমান সুমন

এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে প্রধানমন্ত্রীর নতুন পলিসি: মাহ্দী আমিন

ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার গ্রহণ করছেন মাহমুদা চৌধুরী । ছবি : এসএম নাসির

দেশের প্রথম চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকা সিনেমা’র সম্পাদক এবং প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রেসিডেন্টের পরিচালক ফজলুল হক স্মরণে আজ দুপুর ১২টায় চ্যানেল আই-এর স্টুডিওতে ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার ২০২৬ প্রদান করা হয়।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে অনুষ্ঠানে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ফজলুল হকের পরিবারের সদস্যসহ দেশবরেণ্য ব্যক্তিরা। এ বছর পুরস্কার পেলেন চলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় মাহমুদা চৌধুরী এবং চলচ্চিত্র পরিচালনায় মেজবাউর রহমান সুমন। পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা সহ নগদ অর্থ তুলে দেয়া হয়।

চলচ্চিত্র পরিচালনায় পুরস্কার গ্রহণ করছেন মেজবাউর রহমান সুমন তার মায়ের সাথে

দেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতা ও চলচ্চিত্র নির্মাণে চলচ্চিত্র অঙ্গণের কীর্তিমান ব্যক্তিত্ব ফজলুল হকের সৃষ্টিশীল সংগ্রামী জীবন অনুকরণ, অনুস্মরণীয়  বলে মন্তব্য করেছেন উপস্থিত ব্যক্তিত্বরা।

২০০৪ সালে কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন প্রবর্তিত এই পুরস্কার দেশের চলচ্চিত্র পরিচালনা ও সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়। চলচ্চিত্রকার ও সাংবাদিক ফজলুল হকের স্মৃতি রক্ষার্থে প্রবর্তিত এই পুরস্কার দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

ফজলুল হক স্মৃতি কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানের শুরুতে ফজলুল হককে নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ সময় স্মরণ করা হয় প্রয়াত শিশুসাহিত্যিক আমিরুল ইসলামকেও।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফজলুল হক স্মৃতি কমিটির আহ্বায়ক বলেন, ২০০৪ সাল থেকে এই পুরস্কার একটি সম্মানজনক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। চলচ্চিত্র পরিচালক ও চলচ্চিত্র সাংবাদিকদের একত্র করা এবং তাদের অবদানকে সম্মান জানানোই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

চিলচ্চিত্র পরিচালক ও সাংবাদিকদের সাথে মাহমুদা চৌধুরী

অনুষ্ঠানে আনন্দ আলো সম্পাদক রেজানুর রহমান প্রস্তাব দেন ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কারপ্রাপ্তদের নিয়ে একটি ক্লাব গঠনের । তার বিশ্বাস এ প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্মিলিত উদ্যোগের সম্ভাবনা উঠে আসবে।

অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম বলেন, নতুন প্রজন্মকে তার কর্ম ও অবদানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়েই ফজলুল হকের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব। ফজলুল হক নতুন প্রজন্মের জন্য যে পথ তৈরি করে গেছেন, সেই পথ ধরেই তাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চলচ্চিত্র পরিচালক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) সাবেক সভাপতি ও কবি রাজু আলীম, চলচ্চিত্র পরিচালক মতিন রহমান। বক্তারা ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কারপ্রাপ্তদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী নতুনদের পাশে দাঁড়ান এবং তাদের এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন।

ফজলুল হকে’র পুত্র ফরিদুর রেজা সাগর সেই ভালোবাসা ও ঐতিহ্য বহন করে চলেছেন বলেও উল্লেখ করে চলচ্চিত্র প্রযোজক হাবিবুর রহমান খান বলেন, সিনেমার প্রতি ফজলুল হকের যে গভীর ভালোবাসা ছিল: তারা ফজলুল হকের দেখানো সেই পথেই এগিয়ে চলেছেন।

পুরস্কার গ্রহণের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে মাহমুদা চৌধুরী বলেন, অনুষ্ঠানে সবার আনন্দ দেখে তিনিও অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। পুরস্কার গ্রহণের এই মুহূর্ত তার কাছে আনন্দের ও ভালো লাগার।

অন্যদিকে, চলচ্চিত্র পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন বলেন, হাওয়া চলচ্চিতের সাফল্যেরপর  তার চলচ্চিত্র ‘রইদ’  ছবিটি নির্মাণের অনুপ্রেরণা এসেছে তার মায়ের গল্প থেকে। আর তিনি আপ্লুত মায়ের সঙ্গে একসাথে এই পুরস্কারটি গ্রহণ করতে পেরে। এর আয়োজকদের তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগে ফজলুল হক বৃত্তি প্রবর্তন করা হয়েছে। একই বিভাগে ফজলুলকে নিয়ে প্রবন্ধ প্রতিযোগীতায় প্রথম স্থান অধিকারী শুভ সেনকে এই অনুষ্ঠানে ক্রেস্ট এবং অর্থমূল্য দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।

ফজলুল হক:

আজ সোমবার ২৬ অক্টোবর ফজলুল হক’র প্রয়াণ দিবস। ফজলুল হক বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ও প্রথম চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকা ‘সিনেমা’র সম্পাদক এবং দেশের প্রথম শিশু চলচ্চিত্র ‘প্রেসিডেন্ট’-এর পরিচালক ফজলুল হক।

১৯৩০ সালের ২৬ মে বগুড়ায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেয়া ফজলুল হক ১৯৯০ সালের ২৬ অক্টোবর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৫০ সালে ফজলুল হক সম্পাদিত ‘সিনেমা’ পত্রিকার যাত্রা শুরু হয়। বগুড়া থেকে প্রকাশিত হয় পত্রিকাটি। এটিই দেশের চলচ্চিত্র বিষয়ক প্রথম পত্রিকা। সিনেমা পত্রিকাই দেশের প্রথম চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার দ্বার উন্মোচন করে।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সংগঠক ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন ফজলুল হক। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে কথিকা লিখতেন। আকাশবাণী কলকাতায় পদ্মা-মেঘনা-যমুনা নামে নাটক রচনা ও পরিচালনা করেন। আকাশবাণীতে তিনি মণি হক নামে অনেক অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন।

১৯৭২ সালে তিনি বাংলা ভাষাকে সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে ঘড়ির ডায়ালে বাংলায় সময় লেখা ‘বাংলা ঘড়ি’ চালু করেন। ১৯৭৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পায় তার চলচ্চিত্র ‘উত্তরণ’ , যেটি তিনি ১৯৬০ সালে ‘আজান’ নামে চিত্রনাট্য লেখা শুরু করেছিলেন।
১৯৭৬ সাল থেকে তিনি কলকাতায় বসবাস শুরু করেন। এখানে বসবাস কালে ‘চিত্রসারথী’ নাম নিয়ে দুটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এর মধ্যে একটি লোককাহিনি ভিত্তিক চলচ্চিত্র সাতভাই চম্পা একটি।

ফজলুল হক ও রাবেয়া খাতুন দম্পতির জ্যেষ্ঠপুত্র ফরিদুর রেজা সাগর শিশু সাহিত্যিক ও টিভি ব্যক্তিত্ব এবং ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লি. ও চ্যানেল আই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ছোট ছেলে ফরহাদুর রেজা প্রবাল বাংলাদেশ টেলিভিশনের এক সময়ের জনপ্রিয় উপস্থাপক ও বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী স্থপতি, বড় মেয়ে কেকা ফেরদৌসী বিশিষ্ট রন্ধনবিদ ও ছোট মেয়ে ফারহানা মাহমুদ কাকলী।

×