কক্সবাজারের ‘টুপটুপ রিসোর্টে আগুন: স্কুলশিক্ষিকা মুক্তা এখনো নিঁখোজ
স্কুলশিক্ষিকা মুক্তা এখনো নিঁখোজ । ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ১০টি মরদেহের মধ্যে স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন জাহান মুক্তাকে (২৯) এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তার পরিবার ও স্বামী এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি যে উদ্ধারকৃত পুড়ে বিকৃত হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে মুক্তার মরদেহটি রয়েছে কি না। পরিচয় নিশ্চিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার (১৮ অক্টোবর ) সকালে সাড়ে ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল। তিনি ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। খোঁজ-খবর নিয়ে দেখব কিছু করা যায় কিনা।
মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল বর্তমানে কক্সবাজারে রয়েছেন ডিএনএ টেস্ট করে মরদেহ চিহ্নিত করার জন্য। এর আগে, গতকাল শনিবার সকাল ৬টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার ওই রিসোর্টে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
অগ্নিকাণ্ডের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও সেখানে মুক্তাকে শনাক্ত করতে পারেনি তার স্বামীসহ পরিবার অন্য সদস্যরা। তিনি বেঁচে আছেন, নাকি আগুনে পুড়ে গেছেন, এই অনিশ্চয়তায় চরম উৎকণ্ঠা ও শোকে দিন পার করছে তার পরিবার।
নিখোঁজ নাসরিন জাহান মুক্তা মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া গ্রামের খান বাড়ির বাসিন্দা মোস্তফা কামালের মেয়ে। তিনি ঢাকার সাভারের ‘স্বপ্ন বিলাস স্কুল’ নামের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাভারের ‘স্বপ্নবিলাস ইউনাইটেড স্কুল’ নামের একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষিকা নাসরিন জাহান মুক্তা তার বান্ধবীদের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন। গত শনিবার ভোরে তার দুই বান্ধবী সৈকতে হাঁটতে বের হলেও মুক্তা রিসোর্টেই ছিলেন।
আগুন লাগার পর তার বান্ধবীরা ফিরে এলেও মুক্তা বের হতে পারেননি। অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিস ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। তবে লাশগুলো অতিরিক্ত পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল বা তার পরিবার মরদেহগুলো দেখে তাকে শনাক্ত করতে পারেনি।
মুক্তার আপন ফুফাতো ভাই ও মঠবাড়িয়া রুস্তম আলী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাজী বলেন, উদ্ধার হওয়া দশ মরদেহের মধ্যে আমার বোনের মরদেহ এখনও শনাক্ত করতে পারিনি। বোন জামাই বর্তমানে কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। পরিবারের সবাই চরম উদ্বিগ্ন, আমাদের এই শোক ও অনিশ্চয়তা সইবার মতো কোনো শক্তি আর অবশিষ্ট নেই। মরদেহ শনাক্ত করতে পারলে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসবো।

সুস্থ্য হয়ে উঠছেন ইলিয়াস কাঞ্চন, নিতে হচ্ছে না কেমোথেরাপি


















