বাসযোগ্য নতুন গ্রহের সন্ধান, পৃথিবীর চেয়ে শীত বেশি!
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা পৃথিবী থেকে প্রায় ১৪৬ আলোকবর্ষ দূরে একটি নতুন গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন, যেটিকে সম্ভাব্য বাসযোগ্য গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পৃথিবীর সমান আকৃতির এই গ্রহটির নাম ‘এইচডি ১৩৭০১০ বি’।
বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, গ্রহটি তার নিজ নক্ষত্রমণ্ডলের বাসযোগ্য অঞ্চলে অবস্থান করার প্রায় ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা রাখে। তবে এর পৃষ্ঠের তাপমাত্রা মঙ্গলগ্রহের মতো অত্যন্ত শীতল হতে পারে, যা মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও নিচে নামতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানায়, গ্রহটি সূর্যের মতো একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করছে এবং আকারে পৃথিবীর চেয়ে প্রায় ৬ শতাংশ বড়। ২০১৭ সালে নাসার ‘কেপলার’ স্পেস টেলিস্কোপের বর্ধিত মিশন ‘কে-টু’ থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের বিজ্ঞানীদের নিয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল এই গ্রহটির অস্তিত্ব শনাক্ত করে।
অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ডের গবেষক ড. চেলসি হুয়াং জানান, ‘এইচডি ১৩৭০১০ বি’-এর কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথের সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে এবং গ্রহটি তার নক্ষত্রকে একবার প্রদক্ষিণ করতে প্রায় ৩৫৫ দিন সময় নেয়। তিনি বলেন, এই গ্রহটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো—এটি আমাদের সৌরজগতের তুলনামূলকভাবে খুব কাছাকাছি, মাত্র দেড় শ আলোকবর্ষ দূরে।
গবেষকদের মতে, এত কাছাকাছি অবস্থানের কারণে ভবিষ্যতে আরও উন্নত টেলিস্কোপ ব্যবহার করে গ্রহটি বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। ড. হুয়াং আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী প্রজন্মের টেলিস্কোপ চালু হলে এটি গবেষণার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
গ্রহটি প্রথম শনাক্ত হয় যখন এটি তার নক্ষত্রের সামনে দিয়ে অতিক্রম করার সময় নক্ষত্রের আলো সামান্য ম্লান করে দেয়। এই সূক্ষ্ম পরিবর্তনটি প্রথম লক্ষ্য করেন একদল ‘সিটিজেন সায়েন্টিস্ট’। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক ড. আলেকজান্ডার ভেনার, যিনি তখন একজন হাইস্কুল শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ‘প্ল্যানেট হান্টার্স’ নামের একটি নাগরিক বিজ্ঞান প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন।
তবে সব বিজ্ঞানী এখনই এটিকে নিশ্চিত গ্রহ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত নন। সুইনবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্পদার্থবিদ ড. সারা ওয়েব বলেন, এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ট্রানজিট শনাক্ত হয়েছে, যেখানে সাধারণত তিনটি পর্যবেক্ষণকে নিশ্চিতকরণের মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। তাঁর মতে, গ্রহটি দেখতে পৃথিবীর মতো হলেও এটি বরফে ঢাকা একটি বিশাল জলময় ‘সুপার স্নোবল’ গ্রহও হতে পারে।
গবেষণাটি চলতি সপ্তাহে ‘অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠক মঙ্গলবার


















