আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে একাধিক বৈঠক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে সেনেগালের রাজধানী ডাকার-এ একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
আজ সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডাকার ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম অন পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি-এর ফাঁকে এই বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়।
গিনির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরিসান্দা কুয়াত-এর সঙ্গে বৈঠকে উভয় পক্ষ কৃষি খাতে বিশেষ করে ‘কন্ট্রাক্ট ফার্মিং’ বা চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদে সহযোগিতা জোরদার করতে একমত হন। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি খনিজ সম্পদ, তৈরি পোশাক, বস্ত্র এবং ওষুধ শিল্পকে সহযোগিতার সম্ভাব্য খাত হিসেবে চিহ্নিত করেন তারা।
গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজির সঙ্গে আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বানজুলের অব্যাহত সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা মামলার জন্য সাধুবাদ জানান তিনি। গাম্বিয়ার মন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। উভয় পক্ষই ওআইসিসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতা এবং বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া খাতে সম্পর্ক বাড়ানোর ওপর জোর দেয়।
মালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুলায়ে দিয়োপের সঙ্গে পৃথক এক বৈঠকে কৃষি, ওষুধ, তৈরি পোশাক, পাট, তুলা ও চামড়া খাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। মালিতে শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন দেশটির মন্ত্রী। উভয় দেশ জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন (ন্যাম)-এ সহযোগিতা ও গ্লোবাল সাউথ-এর স্বার্থ রক্ষায় কাজ করতে একমত হয়।
প্রতিমন্ত্রী নাইজারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাকারি ইয়াউ সাঙ্গারের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে ব্যবসায়িক সম্পর্ক শক্তিশালী করা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া তারা শিক্ষা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং খনিজ সম্পদ খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
অ্যাঙ্গোলার পররাষ্ট্রবিষয়ক সেক্রেটারি অব স্টেট এসমেরালদা ব্রাভো কন্দে দা সিলভা মেনদোঁসার সঙ্গে বৈঠকে উভয় পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ওষুধ শিল্প, তৈরি পোশাক, পাট ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বৈঠকে তারা ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন’ (এফওসি) সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন, গণতন্ত্র, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে একে অপরকে পারস্পরিক সমর্থন দেওয়ার বিষয়েও উভয়ে আলোচনা করেন।
এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রিচার্ড মাইকেলস প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় শামা ওবায়েদ গণতন্ত্রের প্রচার, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং মানবাধিকারের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের একনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন।
প্রতিমন্ত্রী তার এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ও আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক আলোচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, এর ফলে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও গভীর হবে এবং বিভিন্ন খাতে অংশীদারিত্বের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
এসব বৈঠকে মরক্কোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং একইসঙ্গে সেনেগালের মনোনীত রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুননেসা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

কৃষিকে লাভজনক খাতে রূপান্তরে সরকারের পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী









