শিরোনাম:

সৌদি থেকে চট্টগ্রামে আসছে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সৌদি থেকে চট্টগ্রামে আসছে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল

দেশের জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে সৌদি আরব থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে ট্যাংকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় রাত ৩টায় সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি ছেড়ে আসে। বাংলাদেশ সময় তখন সকাল ৬টা।

ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত বলেন, হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে ভিন্ন রুটে জাহাজটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এতে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল রয়েছে। জাহাজটি ১৩ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাতে পারে।

তিনি জানান, ক্রুড অয়েল সংকটের কারণে ১৩ এপ্রিল থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারির প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান পৌঁছানোর পর ইউনিটটি আবার সচল করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার কারণে প্রায় দুই মাস ধরে ক্রুড তেল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। সর্বশেষ অপরিশোধিত তেলের চালান দেশে আসে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে প্রায় ৬৮ থেকে ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে এনে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করা হয়।

এ ছাড়া চাহিদা পূরণে ভারত ও চীন থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন জিয়া হায়দার

সৌদি থেকে চট্টগ্রামে আসছে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রখ্যাত স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। বুধবার (২২ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী সম্পাদিত এই নিয়োগ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে, যার ফলে তিনি প্রতিমন্ত্রীর সমমান বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক সকল রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

ড. জিয়া হায়দারের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার এবং রাজনৈতিক পটভূমি বেশ চমকপ্রদ। পেশাগত জীবনে তিনি বিশ্বব্যাংকের ওয়াশিংটন ডিসি কার্যালয়ে সিনিয়র স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ হিসেবে দীর্ঘকাল কাজ করে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবসরে যান। এরপর তিনি ফিলিপাইন বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডজাঙ্কট সহযোগী অধ্যাপক হিসেবেও যুক্ত ছিলেন। উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব হিসেবে এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার ৩৫টি দেশে টেকসই স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিয়ে প্রায় ৩০ বছরের বিশাল অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। মজার বিষয় হলো, পেশাদারিত্বের পাশাপাশি তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং গত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতেও যুক্ত ছিলেন।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার নৈকাঠি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ড. জিয়ার জন্ম। তার বাবা মরহুম হরমুজ আলী ছিলেন একজন সিনিয়র সহকারী সচিব। ছাত্রজীবন থেকেই নেতৃত্বের গুণাবলি সম্পন্ন ড. জিয়া আশির দশকে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এবং শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষাজীবনেও তিনি অত্যন্ত মেধাবী। ১৯৮৮ সালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করার পর তিনি ফিলিপাইন ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স এবং সুইডেনের উমিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে পুষ্টি ও মহামারিবিদ্যায় পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তার পরিবারের অন্য সদস্যরাও সুশিক্ষিত; যার মধ্যে তিন ভাই চিকিৎসক এবং এক ভাই শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। একজন ঝানু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে তার এই নতুন নিয়োগ দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে একাধিক বৈঠক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

সৌদি থেকে চট্টগ্রামে আসছে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে সেনেগালের রাজধানী ডাকার-এ একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

আজ সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডাকার ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম অন পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি-এর ফাঁকে এই বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়।

গিনির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরিসান্দা কুয়াত-এর সঙ্গে বৈঠকে উভয় পক্ষ কৃষি খাতে বিশেষ করে ‘কন্ট্রাক্ট ফার্মিং’ বা চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদে সহযোগিতা জোরদার করতে একমত হন। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি খনিজ সম্পদ, তৈরি পোশাক, বস্ত্র এবং ওষুধ শিল্পকে সহযোগিতার সম্ভাব্য খাত হিসেবে চিহ্নিত করেন তারা।

গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজির সঙ্গে আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বানজুলের অব্যাহত সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা মামলার জন্য সাধুবাদ জানান তিনি। গাম্বিয়ার মন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। উভয় পক্ষই ওআইসিসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতা এবং বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া খাতে সম্পর্ক বাড়ানোর ওপর জোর দেয়।

মালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুলায়ে দিয়োপের সঙ্গে পৃথক এক বৈঠকে কৃষি, ওষুধ, তৈরি পোশাক, পাট, তুলা ও চামড়া খাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। মালিতে শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন দেশটির মন্ত্রী। উভয় দেশ জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন (ন্যাম)-এ সহযোগিতা ও গ্লোবাল সাউথ-এর স্বার্থ রক্ষায় কাজ করতে একমত হয়।

প্রতিমন্ত্রী নাইজারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাকারি ইয়াউ সাঙ্গারের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে ব্যবসায়িক সম্পর্ক শক্তিশালী করা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া তারা শিক্ষা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং খনিজ সম্পদ খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

অ্যাঙ্গোলার পররাষ্ট্রবিষয়ক সেক্রেটারি অব স্টেট এসমেরালদা ব্রাভো কন্দে দা সিলভা মেনদোঁসার সঙ্গে বৈঠকে উভয় পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ওষুধ শিল্প, তৈরি পোশাক, পাট ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বৈঠকে তারা ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন’ (এফওসি) সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন, গণতন্ত্র, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে একে অপরকে পারস্পরিক সমর্থন দেওয়ার বিষয়েও উভয়ে আলোচনা করেন।

এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রিচার্ড মাইকেলস প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় শামা ওবায়েদ গণতন্ত্রের প্রচার, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং মানবাধিকারের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের একনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন।

প্রতিমন্ত্রী তার এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ও আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক আলোচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, এর ফলে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও গভীর হবে এবং বিভিন্ন খাতে অংশীদারিত্বের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

এসব বৈঠকে মরক্কোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং একইসঙ্গে সেনেগালের মনোনীত রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুননেসা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

বোরো ধান-চালের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার

সৌদি থেকে চট্টগ্রামে আসছে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বোরো মৌসুমে ধান, চাল ও গমের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। আগামী ৩ মে থেকে শুরু হয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এই সংগ্রহ কার্যক্রম।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে ৩৬ টাকা কেজি দরে ৫ লাখ টন ধান সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া ৪৯ টাকা কেজি দরে ১২ লাখ টন সিদ্ধ চাল কেনা হবে।

পাশাপাশি ৪৮ টাকা কেজি দরে ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৩৬ টাকা কেজি দরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

আগামী ৩ মে থেকে শুরু হয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বোরো ধান ও গম সংগ্রহ করা হবে। অন্যদিকে, চাল সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে ১৫ মে থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এবছর চাল মজুদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৪ লাখ টন। সরকারের কাছে ১৮ লাখ টন চাল মজুদ আছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বচ্ছতার সঙ্গে এ সংগ্রহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের ফলে কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে গমের চাহিদা প্রায় ৮০ লাখ টন। এর মধ্যে মাত্র ৮ লাখ টন দেশে উৎপাদিত হয় এবং বাকি ৭২ লাখ টন গম ‘‘ওপেন টেন্ডার’’ বা ‘‘জিটুজি’’ পদ্ধতিতে আমদানি করা হবে।’

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকারি পর্যায়ে গম আমদানির বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আমদানি সম্ভব না হলে বাকি গম উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কেনা হবে।

×