শিরোনাম:

বিষাদময় এক অধ্যায় রচনা হামজার লেস্টারের

বিষাদময় এক অধ্যায় রচনা হামজার লেস্টারের

২০১৬ সালের মে মাসে কিং পাওয়ার স্টেডিয়ামে প্রিমিয়ার লিগ ট্রফি জয় ছিল ক্লাবটির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ দিন। আর গতকাল হাল সিটির বিপক্ষে ড্র-টি হয়ে থাকবে তাদের অন্ধকারতম দিনগুলোর একটি। প্রিমিয়ার লিগ জয়ের ঠিক ১০ বছর আর এফএ কাপ জয়ের মাত্র ৫ বছরের মাথায় চূড়ান্ত পতন। ক্লাবের ১৪২ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম টানা দুইবার অবনমনের তেতো স্বাদ পাওয়া। লেস্টার সিটির চরম দুর্যোগের এক বিষাদময় অধ্যায়ই যেন রচিত হলো।

চ্যাম্পিয়নশিপে গতকাল হাল সিটির বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২-২ গোলে ড্র করে লিগ ওয়ানে (তৃতীয় বিভাগ) নেমে গেল হামজা চৌধুরীর লেস্টার সিটি। প্রিমিয়ার লিগ জয়ের ঠিক ১০ বছরের মাথায় দলটির এমন বিদায়ে ক্ষুব্ধ সমর্থকরা ক্লাবের মালিকপক্ষের পদত্যাগ দাবি করেছেন এবং খেলোয়াড়দের মাঠ থেকে দুয়োধ্বনি দিয়ে বিদায় জানিয়েছেন।

গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ থেকে চ্যাম্পিয়নশিপে নামা লেস্টার ফুটবল ইতিহাসের মাত্র পঞ্চম দল হিসেবে টানা দুইবার অবনমিত হয়ে সরাসরি তৃতীয় স্তরে পৌঁছাল।

লেস্টারের অবনমন হওয়া একরকম নিশ্চিতই ছিল। অবনমন ঠেকাতে হাতে থাকা তিন ম্যাচ জয়ের সঙ্গে অন্য দলের ফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হতো তাদের। তবে কাল পয়েন্ট টেবিলে ৭ নম্বরে থাকা হাল সিটির বিপক্ষে ড্রয়ের পর আর কোনো সমীকরণই থাকল না।

ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর জর্ডান জেমস ও লুক টমাসের দ্রুত দুই গোলে জয়ের স্বপ্ন জাগিয়েছিল গ্যারি রোয়েটের দল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্থের মাঝামাঝি সময়ে সফরকারী দলের অলি ম্যাকবার্নির গোল সেই স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দেয়। হাতে মাত্র দুই ম্যাচ বাকি থাকতে অবনমন অঞ্চল থেকে তারা এখন ৭ পয়েন্ট দূরে, যা আর ঘোচানো সম্ভব নয়।

লেস্টারের জন্য পুরো ২০২৫-২৬ মৌসুম ছিল এককথায় ভয়াবহ। লিগে ৪৪ ম্যাচে মাত্র ১১টিতে জয়ের দেখা পেয়েছে হামজা চৌধুরিরা। মৌসুমজুড়ে দলের ব্যর্থতা মেনে নিচ্ছেন লেস্টারের কোচ গ্যারি রোয়েট, ‘তিন-চার ম্যাচে কেউ অবনমন হয়ে যায় না, এটা পুরো মৌসুমের ফল। ক্লাবকে মেনে নিতে হবে যে এটি একটি ফুটবল ক্লাবের যাত্রার ভয়াবহ অংশ।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘বেশিদিন আগের কথা নয় যখন এই ক্লাব প্রিমিয়ার লিগ জিতেছিল। সেই বিশাল অর্জনের বিপরীতে আজকের এই ব্যর্থতা সমানভাবে হতাশাজনক।’

লেস্টারের সমর্থকদের মেজাজ ছিল তুঙ্গে। তারা ম্যাচ শুরুর আগেই খেলোয়াড়দের দুয়োধ্বনি দেয় এবং ম্যাচ শেষে ‘তোমরা এই জার্সি পরার যোগ্য নও’ বলে চিৎকার করতে থাকে।

২০১৬-এর সেই রূপকথার পর ২০২১ সালে এফএ কাপ জয় এবং ইউরোপিয়ান কনফারেন্স লিগের সেমিফাইনালে খেলার মতো বড় সব অর্জন এখন ক্লাবটির জন্য কেবলই দূর অতীত। ২০২২-২৩ সালে অবনমন হওয়ার পর তারা পরের মৌসুমেই আবার প্রিমিয়ার লিগে ফিরেছিল। কিন্তু ২০২৪-২৫ মৌসুমটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। কোচ স্টিভ কুপার বরখাস্ত হওয়ার পর রুড ফন নিস্টেলরয় দায়িত্ব নিলেও দলকে বাঁচাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত অবনমনের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাওয়া আটকাতে পারেনি ক্লাবটি।

গণভোট নিয়ে সংকটের সমাধান বিএনপিকেই করতে হবে: পরওয়ার

বিষাদময় এক অধ্যায় রচনা হামজার লেস্টারের

গণভোট বাস্তবায়ন নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে তা বিএনপিকেই সমাধান করতে হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর প্রেসক্লাবে খেলাফত মজলিস আয়োজিত ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত নেতা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন নোট অফ ডিসেন্ট বাদে সব মানব, এর তো কোনো মানে হয় না। এটা জনগণের সাথে শুভঙ্করের ফাঁকি। বিএনপির মনে ফাঁকি ছিল তাই তারা গণভোট টা আগে করতে দেয়নি। কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা ধরে রাখতেই বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ দশটি আইনি ও সাংবিধানিক বিষয়ে নোট অফ ডিসেন্ট দিয়েছিল। এখন নোট অফ ডিসেন্টের কথা বলে তারা এগুলো বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে না।

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য বিরোধীদলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি সংকটে দেশ শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু জ্বালানো মন্ত্রী বলেন দেশে কোন সংকট নেই। কিন্তু পাম্পে লাইন কিন্তু কমছে না।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ব্যর্থতা ঢাকার জন্য সহিংসতার দিকে দেশকে ঠেলে দেবেন না। চট্টগ্রাম সিটি কলেজে, এক ছাত্রের পায়ের রগ কেটে দিয়েছে ছাত্রদল। অথচ দোষ দিচ্ছে শিবিরের ওপর।

শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিষাদময় এক অধ্যায় রচনা হামজার লেস্টারের

দেশের স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট মেটাতে খুব দ্রুত ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একইসঙ্গে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ জন করে সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি।

বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ-চীন জয়েন্ট সার্জিক্যাল ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে আয়োজিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশে সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে মন্ত্রী বলেন, হামের সংক্রমণ বাড়লেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমাদের কাছে আগামী ৬ মাসের জন্য টিকার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার ৯৩৫টি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিলেও চিকিৎসার মাধ্যমে বড় অংশই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের উপস্থিতিতে মন্ত্রী জানান, চীনের সহযোগিতায় দেশে যৌথ সার্জিক্যাল ক্লিনিক ও ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবা চালু হতে যাচ্ছে। এটি জটিল অস্ত্রোপচার ও তৃণমূলের চিকিৎসাসেবার মান নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী অসংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন জিয়া হায়দার

বিষাদময় এক অধ্যায় রচনা হামজার লেস্টারের

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রখ্যাত স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। বুধবার (২২ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী সম্পাদিত এই নিয়োগ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে, যার ফলে তিনি প্রতিমন্ত্রীর সমমান বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক সকল রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

ড. জিয়া হায়দারের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার এবং রাজনৈতিক পটভূমি বেশ চমকপ্রদ। পেশাগত জীবনে তিনি বিশ্বব্যাংকের ওয়াশিংটন ডিসি কার্যালয়ে সিনিয়র স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ হিসেবে দীর্ঘকাল কাজ করে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবসরে যান। এরপর তিনি ফিলিপাইন বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডজাঙ্কট সহযোগী অধ্যাপক হিসেবেও যুক্ত ছিলেন। উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব হিসেবে এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার ৩৫টি দেশে টেকসই স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিয়ে প্রায় ৩০ বছরের বিশাল অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। মজার বিষয় হলো, পেশাদারিত্বের পাশাপাশি তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং গত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতেও যুক্ত ছিলেন।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার নৈকাঠি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ড. জিয়ার জন্ম। তার বাবা মরহুম হরমুজ আলী ছিলেন একজন সিনিয়র সহকারী সচিব। ছাত্রজীবন থেকেই নেতৃত্বের গুণাবলি সম্পন্ন ড. জিয়া আশির দশকে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এবং শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষাজীবনেও তিনি অত্যন্ত মেধাবী। ১৯৮৮ সালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করার পর তিনি ফিলিপাইন ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স এবং সুইডেনের উমিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে পুষ্টি ও মহামারিবিদ্যায় পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তার পরিবারের অন্য সদস্যরাও সুশিক্ষিত; যার মধ্যে তিন ভাই চিকিৎসক এবং এক ভাই শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। একজন ঝানু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে তার এই নতুন নিয়োগ দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

×