ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার অর্ধেক শেষ, বড় সামরিক ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্র
ওয়াশিংটন-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর একটি নতুন বিশ্লেষণ অনুসারে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে সাত সপ্তাহব্যাপী হামলা অভিযানে তাদের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের প্রায় অর্ধেক এবং আরও ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
সিএসআইএস তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানে চালানো বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র তার প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের প্রায় ৫০ শতাংশ ব্যবহার করেছে। এছাড়া স্বল্প, মাঝারি ও মধ্যবর্তী পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র থেকে সুরক্ষার জন্য ব্যবহৃত টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্সেস (থাড)-এর অর্ধেকেরও বেশি এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল (পিআরএসএম) মজুতের ৪৫ শতাংশেরও বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন মার্কিন সামরিক বাহিনী ২০ শতাংশের বেশি জ্যাসএম, ৩০ শতাংশের বেশি এসএম-৩ এবং অন্তত ১০ শতাংশ এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, টমাহক এবং জ্যাসম-সহ নির্ভুলভাবে পরিচালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মজুত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-পূর্ববর্তী পর্যায়ে পুনর্গঠন করতে এক থেকে চার বছর সময় লাগবে। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে সম্ভাব্য কোনো সংঘাতের জন্য এই অস্ত্রশস্ত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিএসআইএস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা ও প্রতিরক্ষা অব্যাহত রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সম্ভবত এখনও যথেষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা রয়েছে, কিন্তু চীনের মতো কোনো প্রতিপক্ষের মোকাবেলা করার জন্য অবশিষ্ট অস্ত্রের পরিমাণ যথেষ্ট নয়। প্রতিবেদনের লেখকরা উল্লেখ করেন, ইরান যুদ্ধের আগেও সমকক্ষ কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে লড়াইয়ের জন্য মজুত অপর্যাপ্ত বলে মনে করা হতো। সেই ঘাটতি এখন আরও তীব্র হয়েছে এবং চীনের সাথে যুদ্ধের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত গড়ে তুলতে আরও সময় লাগবে।
অস্ত্র ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে মার্চের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধান প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন এবং পরে জানান যে, তারা ‘উন্নত মানের’ অস্ত্রের উৎপাদন চারগুণ করতে সম্মত হয়েছেন। পাশাপাশি, পেন্টাগনের কম্পট্রোলার জুলস ‘জে’ হার্স্ট সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, ট্রাম্পের ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাবের অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা অস্ত্রশস্ত্রের জন্য বহুবর্ষীয় চুক্তি সাত বছর পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। এর উদ্দেশ্য হলো সরবরাহ শৃঙ্খল জুড়ে স্থিতিশীলতা আনা এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগে উৎসাহ প্রদান করা।
সিএসআইএস-এর এই প্রতিবেদনটি সম্পর্কে জানতে চাইলে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল ‘দ্য হিল’কে জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং রাষ্ট্রপতির পছন্দ অনুযায়ী সময়ে ও স্থানে যেকোনো পদক্ষেপ কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই তাদের কাছে রয়েছে। তিনি বলেন, “সেক্রেটারি [পিট] হেগসেথ যেমন বহুবার তুলে ধরেছেন, হরমুজ প্রণালীতে আসা-যাওয়ার যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে মার্কিন নৌশক্তির দশ শতাংশেরও কম প্রয়োজন হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে, আমরা বিভিন্ন কমব্যাট্যান্ট কমান্ড জুড়ে একাধিক সফল অভিযান পরিচালনা করেছি।” ডিপার্টমেন্টের অস্ত্রাগারের গভীরতা নিয়ে আমেরিকানদের আতঙ্কিত করার প্রচেষ্টাকে তিনি অজ্ঞতাপ্রসূত এবং অসম্মানজনক বলে আখ্যায়িত করেন।
সবশেষে, প্রতিবেদনটির লেখক ও সিএসআইএস-এর প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র উপদেষ্টা মার্ক এফ. ক্যানসিয়ান এবং গবেষণা সহযোগী ক্রিস এইচ. পার্ক লিখেছেন, অপারেশন এপিক ফিউরি শেষ হয়ে গেলে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো নৌ সম্পদগুলো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ফিরে আসবে এবং গোলাবারুদের মজুত পুনরুদ্ধার হতে শুরু করবে। তবে, হ্রাস পাওয়া মজুত পুনরুদ্ধার করে কাঙ্ক্ষিত স্তরে পৌঁছাতে বহু বছর সময় লাগবে। সূত্র: দ্য হিল

শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী










