শিরোনাম:

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়াল ৩৫ বিলিয়ন ডলার

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়াল ৩৫ বিলিয়ন ডলার

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বর্তমানে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী নিট রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের বড় অঙ্কের আমদানি বিল পরিশোধের পরও রিজার্ভের এই বৃদ্ধি ইতিবাচক দিক নির্দেশ করছে।

বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে দেশের প্রায় সাত মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় বেশ স্বস্তিদায়ক অবস্থান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় অব্যাহত থাকায় রিজার্ভে এই প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়াল ৩৫ বিলিয়ন ডলার

দেশের স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট মেটাতে খুব দ্রুত ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একইসঙ্গে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ জন করে সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি।

বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ-চীন জয়েন্ট সার্জিক্যাল ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে আয়োজিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশে সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে মন্ত্রী বলেন, হামের সংক্রমণ বাড়লেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমাদের কাছে আগামী ৬ মাসের জন্য টিকার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার ৯৩৫টি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিলেও চিকিৎসার মাধ্যমে বড় অংশই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের উপস্থিতিতে মন্ত্রী জানান, চীনের সহযোগিতায় দেশে যৌথ সার্জিক্যাল ক্লিনিক ও ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবা চালু হতে যাচ্ছে। এটি জটিল অস্ত্রোপচার ও তৃণমূলের চিকিৎসাসেবার মান নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী অসংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন জিয়া হায়দার

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়াল ৩৫ বিলিয়ন ডলার

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রখ্যাত স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। বুধবার (২২ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী সম্পাদিত এই নিয়োগ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে, যার ফলে তিনি প্রতিমন্ত্রীর সমমান বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক সকল রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

ড. জিয়া হায়দারের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার এবং রাজনৈতিক পটভূমি বেশ চমকপ্রদ। পেশাগত জীবনে তিনি বিশ্বব্যাংকের ওয়াশিংটন ডিসি কার্যালয়ে সিনিয়র স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ হিসেবে দীর্ঘকাল কাজ করে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবসরে যান। এরপর তিনি ফিলিপাইন বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডজাঙ্কট সহযোগী অধ্যাপক হিসেবেও যুক্ত ছিলেন। উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব হিসেবে এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার ৩৫টি দেশে টেকসই স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিয়ে প্রায় ৩০ বছরের বিশাল অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। মজার বিষয় হলো, পেশাদারিত্বের পাশাপাশি তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং গত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতেও যুক্ত ছিলেন।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার নৈকাঠি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ড. জিয়ার জন্ম। তার বাবা মরহুম হরমুজ আলী ছিলেন একজন সিনিয়র সহকারী সচিব। ছাত্রজীবন থেকেই নেতৃত্বের গুণাবলি সম্পন্ন ড. জিয়া আশির দশকে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এবং শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষাজীবনেও তিনি অত্যন্ত মেধাবী। ১৯৮৮ সালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করার পর তিনি ফিলিপাইন ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স এবং সুইডেনের উমিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে পুষ্টি ও মহামারিবিদ্যায় পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তার পরিবারের অন্য সদস্যরাও সুশিক্ষিত; যার মধ্যে তিন ভাই চিকিৎসক এবং এক ভাই শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। একজন ঝানু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে তার এই নতুন নিয়োগ দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে একাধিক বৈঠক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়াল ৩৫ বিলিয়ন ডলার

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে সেনেগালের রাজধানী ডাকার-এ একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

আজ সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডাকার ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম অন পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি-এর ফাঁকে এই বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়।

গিনির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরিসান্দা কুয়াত-এর সঙ্গে বৈঠকে উভয় পক্ষ কৃষি খাতে বিশেষ করে ‘কন্ট্রাক্ট ফার্মিং’ বা চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদে সহযোগিতা জোরদার করতে একমত হন। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি খনিজ সম্পদ, তৈরি পোশাক, বস্ত্র এবং ওষুধ শিল্পকে সহযোগিতার সম্ভাব্য খাত হিসেবে চিহ্নিত করেন তারা।

গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজির সঙ্গে আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বানজুলের অব্যাহত সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা মামলার জন্য সাধুবাদ জানান তিনি। গাম্বিয়ার মন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। উভয় পক্ষই ওআইসিসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতা এবং বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া খাতে সম্পর্ক বাড়ানোর ওপর জোর দেয়।

মালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুলায়ে দিয়োপের সঙ্গে পৃথক এক বৈঠকে কৃষি, ওষুধ, তৈরি পোশাক, পাট, তুলা ও চামড়া খাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। মালিতে শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন দেশটির মন্ত্রী। উভয় দেশ জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন (ন্যাম)-এ সহযোগিতা ও গ্লোবাল সাউথ-এর স্বার্থ রক্ষায় কাজ করতে একমত হয়।

প্রতিমন্ত্রী নাইজারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাকারি ইয়াউ সাঙ্গারের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে ব্যবসায়িক সম্পর্ক শক্তিশালী করা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া তারা শিক্ষা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং খনিজ সম্পদ খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

অ্যাঙ্গোলার পররাষ্ট্রবিষয়ক সেক্রেটারি অব স্টেট এসমেরালদা ব্রাভো কন্দে দা সিলভা মেনদোঁসার সঙ্গে বৈঠকে উভয় পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ওষুধ শিল্প, তৈরি পোশাক, পাট ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বৈঠকে তারা ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন’ (এফওসি) সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন, গণতন্ত্র, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে একে অপরকে পারস্পরিক সমর্থন দেওয়ার বিষয়েও উভয়ে আলোচনা করেন।

এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রিচার্ড মাইকেলস প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় শামা ওবায়েদ গণতন্ত্রের প্রচার, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং মানবাধিকারের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের একনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন।

প্রতিমন্ত্রী তার এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ও আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক আলোচনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, এর ফলে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও গভীর হবে এবং বিভিন্ন খাতে অংশীদারিত্বের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

এসব বৈঠকে মরক্কোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং একইসঙ্গে সেনেগালের মনোনীত রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুননেসা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

×