বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে : তথ্যমন্ত্রী
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সকল ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি, নৃগোষ্ঠী ও জনগোষ্ঠীকে ধারণ করে গড়ে ওঠা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বুধবার (২২ জুলাই ) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মত প্রকাশ করেন।
কোনো একটি ভাষা বা সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্য ভাষা বা সংস্কৃতিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বে জাতীয়তাবাদ কেবল ভাষা, ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত হয় না; বরং একটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের অভিন্ন স্বার্থ, ভূখণ্ড, সাংবিধানিক অঙ্গীকার এবং যৌথ ভবিষ্যৎ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনও সেই আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তারই প্রতিফলন।
মন্ত্রী বলেন, ভারত উপমহাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও কেবল ধর্মের ভিত্তিতে একটি বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘদিন ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়নি। ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ইতিহাস সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও নেতৃত্ব ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রমাণিত অধ্যায়। স্বাধীনতার পর জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে নতুন বাস্তবতা তৈরি হলে জিয়াউর রহমান নাগরিকভিত্তিক বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন উপস্থাপন করেন, যা দেশের সব নাগরিককে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিক, তিনি যে ভাষায় কথা বলুন, যে ধর্ম পালন করুন কিংবা যে নৃগোষ্ঠীরই হোন না কেন, বাংলাদেশি পরিচয়ের মধ্যেই তাঁর মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত হয়। এই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয়তাবাদ দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় সংহতি ও বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
প্রধান আলোচক ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইস উদ্দীন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউট্যাব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নাসির আহমাদ।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠক মঙ্গলবার















