শিরোনাম:

নথি চুরির তদন্তে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

কম্পিউটারের দোকানে লেখা হতো মামলার ভুয়া রায়

কম্পিউটারের দোকানে লেখা হতো মামলার ভুয়া রায়

ঢাকার আদালত থেকে একটি মামলার মূল নথি চুরির তদন্ত করতে গিয়ে অস্ত্র, মাদক ও হত্যা মামলার ভুয়া রায়ের কপি তৈরির একটি চক্রের হদিস পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর পুরান ঢাকার আদালতপাড়া এলাকার একটি কম্পিউটারের দোকান থেকে ১৩টি মামলার ভুয়া রায়ের কপি জব্দ করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২ জুলাই। সেদিন ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাস কক্ষে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি এসে আইনজীবীর সহকারী পরিচয়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলা নম্বর-৪৭(৩) ২১, ধারা-১৯(এ) অস্ত্র আইন ১৮৭৮-এর নথি চান।

আদালতের উমেদার নাজমুল হাসান এক হাজার টাকার বিনিময়ে নথিটি তাকে দেন। কিছুক্ষণ পর উক্ত আদালতের বিচারকের ডাকে উমেদার নাজমুল হাসান খাস কামরায় যান। এর কিছুক্ষণ পর আইনজীবীর সহকারী পরিচয়দানকারী ওই ব্যক্তি উক্ত মামলার মূল নথিটি চুরি করে মুখে মাস্ক পরে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারকের নির্দেশে আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. খায়রুল আলম বাদী হয়ে ওই দিনই কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন।

ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই দেবাশীষ হাওলাদার ঘটনার পর মহানগর দায়রা জজ আদালতের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করেন।এতে নথি চুরির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তি হিসেবে মো. আনোয়ারুল হক ওরফে রাসেল ওরফে মুরগি রাসেলকে শনাক্ত করা হয়। পরে গত ২১ আগস্ট শ্যামপুর থানাধীন একতা হাউজিং এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন।

।এদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া মুরগি রাসেল এবং অর্পাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে হাজির করে ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেন তদন্ত কর্মকর্তা। রিমান্ডে আসামি মো. আনোয়ারুল হক ওরফে রাসেল ওরফে মুরগি রাসেল পুলিশকে জানায়, বিজ্ঞ অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের উমেদার নাজমুল হাসান ওরফে রনি এবং বিজ্ঞ সিএমএম কোর্ট নম্বর-০৮ এর জনৈক উমেদার সাদ্দাম হোসেন এক হাজার টাকার বিনিময়ে উক্ত জুডিশিয়াল নথি তাকে গোপনে সরবরাহ করেন।

এরপর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলা নম্বর-৪০৯/২১ ও খিলগাঁও থানার মামলা নম্বর-৪৭(৩)২১, ধারা-১৯(এ) অস্ত্র আইন-১৮৭৮ এর মূল নথি দেখে ঢাকার কোতোয়ালি থানাধীন ১৮ নম্বর জনসন রোড কোর্ট হাউস স্ট্রিটের ‘আহনাফ অনুবাদ সেন্টার’ কম্পিউটারের দোকানে উক্ত দোকানের মালিক আহসান হাবিব ভুয়া রায়ের কপি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করে। সেখানে বিজ্ঞ বিচারকের সই ও সিল দেন।

আহসান হাবিব জিজ্ঞাসাবাদে কম্পিউটার দ্বারা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলা নম্বর-৪০৯/২১ ও খিলগাঁও থানার মামলা নম্বর-৪৭(৩)২১, ধারা-১৯(এ) অস্ত্র আইন ১৮৭৮-এর ভুয়া রায়ের কপি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তুত করার কথা স্বীকার করেন।

আসামি মুরগি রাসেল পুলিশকে বলেন, ভুয়া রায়ের কপি তৈরির জন্য তিনি আহসান হাবিবকে ইতোমধ্যে প্রায় ৭০ হাজার টাকা দিয়েছেন। অন্যদিকে, আসামি অর্পা পুলিশকে বলেছেন, তিনি তার স্বামী অস্ত্র আইন মামলার আসামি তানভীর আহমেদ তনয়কে রক্ষার জন্য জাল জালিয়াতির মাধ্যমে মামলার ভুয়া রায় তৈরির জন্য টাকা দিয়েছিলেন। বর্তমানে তার স্বামী তনয় সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই দেবাশীষ হাওলাদার গতকাল বৃহস্পতিবার আমাদের সময়কে বলেন, চক্রটি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে যেসব মামলার ভুয়া রায়ের কপি তৈরি করেছে তার মধ্যে অস্ত্র, মাদক এবং হত্যা মামলাও রয়েছে। তিনি বলেন, আদালতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তৈরি করা প্রতিটি মামলার ভুয়া রায়ে আসামিদের খালাস দেওয়া হয়েছে। এসব মামলার আসামিরা এখন পলাতক। তিন আসামির মধ্যে মুরগি রাসেল ও আহসান হাবিব পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন। আর আসামি অর্পা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করায় তাকে জেল-হাজতে প্রেরণ করেন বিজ্ঞ আদালত।

ঘটনাত্রমে জানা যায়, লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমানের নির্দেশে পুলিশ গত ২৩ আগস্ট আহসান হাবিবের ‘আহনাফ অনুবাদ সেন্টার’-এ অভিযান চালায়। সেখানে থাকা একটি কম্পিউটার তল্লাশি করে লোকাল ডিস্কের একটি ফোল্ডারে সংরক্ষিত মামলা নম্বর-৪০৯/২১-এর প্রস্তুতকৃত ভুয়া রায়ের কপিসহ ডিএমপির থানার ১৩টি মামলার প্রস্তুতকৃত ভুয়া রায়ের কপি জব্দ করে। এ সময় পুলিশ ওই কম্পিউটারটি জব্দ করে। পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেরিয়ে আসে বিভিন্ন মামলার ভুয়া রায়ের কপি তৈরির চাঞ্চল্যকর তথ্য

সারাদেশে বিনামূল্যে এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার, মিলবে ভাতাও

কম্পিউটারের দোকানে লেখা হতো মামলার ভুয়া রায়

তথ্যপ্রযুক্তিতে যুবসমাজকে দক্ষ করে তুলতে দেশের সব জেলায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এই উদ্যোগ নিয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মেয়াদ ২ মাস ভিত্তিক বেসিক প্রশিক্ষণ কোর্স (২য় ব্যাচ) । ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৬ মোট ৫০ কার্যদিবসে প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা করে ৩০০ ঘণ্টার ক্লাস হবে।

সম্প্রতি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন এই কর্মসূচি নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণে অংশ নিতে কোনো ফি লাগবে না, বরং প্রশিক্ষণ চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা প্রতিদিন ২০০ টাকা হারে যাতায়াত ও খাবার ভাতা পাবেন। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী যেকোনো নারী-পুরুষ এই প্রশিক্ষণে অংশ নিতে আবেদন করতে পারবেন, তবে আবেদনকারীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে এইচএসসি বা সমমান পাস, সঙ্গে কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রাথমিক ধারণা থাকাও আবশ্যক।

এক্ষেত্রে মৌখিক ও লিখিত ইংরেজিতে দক্ষ প্রার্থীরা চূড়ান্ত বাছাইয়ে অগ্রাধিকার পাবেন বলে জানানো হয়েছে। দেশের আটটি বিভাগকে চারটি সমন্বিত প্যাকেজে ভাগ করে পুরো কার্যক্রমটি একযোগে পরিচালনা করা হবে।

আবেদন ও বাছাই প্রক্রিয়ার সময়সূচি অনুযায়ী, আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে, এরপর প্রাথমিক বাছাই শেষে ২৬ সেপ্টেম্বর লিখিত ও ২৭ সেপ্টেম্বর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে, যার সময়সূচি ও কেন্দ্র জানানো হবে প্রার্থীদের মুঠোফোনে খুদেবার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে।

পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২৯ সেপ্টেম্বর, আর নির্বাচিতদের নিয়ে ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে দুই মাসের এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম।

উল্লেখ্য, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এআই প্রযুক্তি বিষয়ক দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের আগের ধাপগুলোতেও ব্যাপক সাড়া মিলেছিল—একটি ধাপে প্রায় ৮৩ হাজার আবেদনের বিপরীতে প্রায় ৫০ হাজার প্রার্থী লিখিত বাছাই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।

‘হয় আমি থাকব, না হয় হাসপাতালে অনিয়ম-দুর্নীতি থাকবে’- স্বাস্থ্যমন্ত্রী

কম্পিউটারের দোকানে লেখা হতো মামলার ভুয়া রায়

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করে চিকিৎসাসেবায় অনিয়ম ও অবহেলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘কোনোভাবেই চিকিৎসাসেবায় অনিয়ম ও অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না। হয় আমি থাকব, না হয় হাসপাতালে অনিয়ম-দুর্নীতি থাকবে।’

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ) দুপুরে রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে এক ঝটিকা পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালটিকে প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। এরপরও রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘রোগীদের চিকিৎসার জন্য সরকার অর্থ দিচ্ছে। হাসপাতালেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এরপরও রোগীদের বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

পরিদর্শনকালে হাসপাতালের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও

রোগীদের বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এতে রোগীদের নিজেদের পকেট থেকে অর্থ খরচ হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, মুগদা হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা রয়েছে। পরিদর্শনের সময় রোগীদের কাগজপত্র দেখা এবং তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, অনেক রোগীকে বাইরে থেকে পরীক্ষা করানো হচ্ছে।

পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে রোগীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা হাসপাতালের সেবার মান উন্নত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

রোগীদের অভিযোগ শুনে তাদের আশ্বস্ত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালের সব ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনোভাবেই চিকিৎসাসেবায় অনিয়ম ও অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না।’

হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি নিজেই সরেজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান।

রাজধানীতে অবৈধ অটোরিকশার দৌরাত্ম্য

কম্পিউটারের দোকানে লেখা হতো মামলার ভুয়া রায়

অটোরিক্সা সমাচার ছবি সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবাধ চলাচল তীব্র যানজট ও মারাত্মক দুর্ঘটনার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার অলিগলি-প্রায় সর্বত্রই এই তিন চাকার যানবাহনের অবাধ চলাচল দেখা যাচ্ছে।

ট্রাফিক আইন উপেক্ষা করে চলাচলের কারণে সড়ক ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা, যানজট এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে এই খাতে গড়ে ওঠা বড় বিনিয়োগ চক্র নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন। সড়কে বাড়ছে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার শঙ্কা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো অনেক ক্ষেত্রে প্রধান সড়কেও যাত্রী পরিবহন করছে।

চালকদের একটি বড় অংশের নেই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, নেই আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কিংবা যানবাহনের নিবন্ধন। ফলে ট্রাফিক নিয়ম মানার প্রবণতাও কম দেখা যায়। এতে পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী এবং অন্যান্য যানবাহনের চালকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে চালকদের জরিমানা বা মামলা দিলেও, এই ব্যবসার মূল অর্থদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, এসব গ্যারেজের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক অটোরিকশা প্রতিদিন সড়কে নামানো হয়। একটি অটোরিকশা চালকের কাছে দৈনিক নির্দিষ্ট ভাড়ায় দেওয়া হয়। সেই ভাড়ার অর্থ থেকেই মালিকেরা মাসিক ও বার্ষিক উল্লেখযোগ্য আয় করছেন।অল্প বিনিয়োগে বেশি লাভের ব্যবসা মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মুগদা, মান্ডা, মানিকনগর, খিলগাঁও, সবুজবাগ, বনশ্রী ও রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য অটোরিকশা গ্যারেজ গড়ে উঠেছে।

নাগরিক ভাষ্য মতে, একটি নতুন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তৈরিতে তুলনামূলক কম অর্থ ব্যয় হলেও প্রতিদিনের ভাড়ার মাধ্যমে অল্প সময়েই বিনিয়োগ উঠে আসে। এ কারণেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই ব্যবসায় আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কারা করছেন বিনিয়োগ? গ্যারেজ মালিক ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, এখন আর শুধু গ্যারেজ মালিকদের হাতেই এই ব্যবসা সীমাবদ্ধ নেই। স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাড়ির মালিক, প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ একাধিক অটোরিকশা কিনে চালকদের কাছে ভাড়ায় দিচ্ছেন।

অনেক চালক নিজস্ব পুঁজিতে অটোরিকশা কেনেন না; বরং দৈনিক ভাড়ার ভিত্তিতে গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ফলে কোনো অভিযানে গাড়ি জব্দ বা মামলা হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন চালকরাই। প্রান্তিক মানুষের জীবিকার পথ, কিন্তু নিরাপত্তা প্রশ্নে উদ্বেগ অটোরিকশা চালকদের বড় অংশই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় এসেছেন। নিজস্ব মূলধন না থাকায় তারা ভাড়ায় গাড়ি চালানোকে আয়ের সহজ উপায় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়া ইতিবাচক হলেও তা সড়ক নিরাপত্তার বিনিময়ে হতে পারে না। প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, নিবন্ধন এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা।

তারা আরও বলেন, মূল চক্রকে আইনের আওতায় আনতে হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার হঠাৎ বিস্তারের পেছনে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ কাজ করছে।তাদের মতে, অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি একাধিক অটোরিকশা কিনে ভাড়ায় চালাচ্ছেন এবং কোথাও কোথাও অবৈধভাবে এসব যান তৈরির কারখানাও গড়ে উঠেছে। ফলে শুধু চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; বরং বিনিয়োগকারী, উৎপাদনকারী এবং অবৈধ গ্যারেজ পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

চালকদের দাবি ভিন্ন, শুধু জরিমানা নয়, মূল উৎসে অভিযান হোক অটোরিকশা চালকদের অভিযোগ, অভিযানের সময় তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হলেও মালিক বা অর্থদাতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান। তাদের বক্তব্য, সরকার যদি অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে সত্যিই কঠোর হতে চায়, তাহলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, অবৈধ গ্যারেজ, বিনিয়োগকারী এবং পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধেও সমানভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।

×