ইউনেসকো থেকে আবার বেরিয়ে গেল আমেরিকা
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে আবারও আলোড়ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা বিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো (UNESCO) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।
মঙ্গলবার ( ২২ জুলাই )এ ঘোষণায় ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয় – এই সংস্থাটি ’ইসরায়েল বিরোধী পক্ষপাতদুষ্ট নীতি’ গ্রহণ করছে এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কর্মকাণ্ডে জড়িত।
জাতিসংঘের এই সংস্থাটি শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির বৈশ্বিক সংহতি গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে। বিশেষভাবে, বিশ্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণে এর উদ্যোগ বিখ্যাত। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় রয়েছে-মিশরের পিরামিড, এথেন্সের অ্যাক্রোপলিস,অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ,আফ্রিকার সেরেঙ্গেটি ইত্যাদি।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস বলেন, ইউনেসকোতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ এখন আর আমাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে না। সংস্থাটি একটি মতাদর্শিক ও বিশ্বায়নবাদী এজেন্ডা চালাচ্ছে, যেখানে ইসরায়েলের প্রতি সুস্পষ্ট অবিচার করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউনেসকোর মধ্যকার সম্পর্ক টানাপোড়েন এটা নতুন কিছু না। এর ইতিহাস বহু পুরনো।
১৯৮৩ সালে, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগান প্রথম ইউনেসকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সংস্থাটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও সোভিয়েতপন্থী।
২০০৩ সালে, প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ আমলে যুক্তরাষ্ট্র আবার ফিরে আসে সংস্থাটিতে।
২০১৭ সালে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউনেসকোর ইসরায়েল বিরোধী অবস্থান” উল্লেখ করে সদস্যপদ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন।
এরপর ২০২৩ সালে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন আবার সদস্যপদ পুনরুদ্ধার করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউনেসকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক মূলত ইসরায়েল সংক্রান্ত অবস্থান ঘিরেই বারবার সংঘাতে জড়িয়েছে।
বিশেষত ফিলিস্তিনকে ইউনেসকোর পূর্ণ সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই এই সংস্থাকে ‘ইসরায়েল বিরোধী’ আখ্যা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র: স্টেট ডিপার্টমেন্ট প্রেস ব্রিফিং,এএফপি ও বিবিসি।

কয়েকটা দল সংস্কার-সংস্কার বলে, সংস্কারের জন্ম দিয়েছিলেন জিয়া: মির্জা ফখরুল


















