শিরোনাম:

কুয়েতে মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫ বিধ্বস্ত

কুয়েতে মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫ বিধ্বস্ত

কুয়েতে অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫ বিধ্বস্ত হয়েছে। যদিও ইরান দাবি করেছে, তারা এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করেছে। তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনায় কিছুই জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল।

আল জাজিরার জানায় কুয়েত সিটি থেকে ৩২ কিলোমিটার (১৯ মাইল) পশ্চিমে কুয়েতের আল জাহরা শহরে একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পরে ঘন ধোঁয়া উঠছে। অসমর্থিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে এটি মার্কিন এফ -১৫ ছিল।

সোমবার (২ মার্চ) মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের বিষয়টি জানানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানে থাকা পাইলটরা নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।

তবে, এ ঘটনার বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েতি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাইলটরা আমেরিকান বা ইসরায়েলি হতে পারেন। তবে ক্রু বা পাইলটদের জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অপরদিকে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান দাবি করেছে যে, তারা একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।

সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণদানে বিরত রাখতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি

কুয়েতে মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫ বিধ্বস্ত

জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিট সমুন্নত রাখতে সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ থেকে বিরত রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। সোমবার (২ মার্চ) আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির এ চিঠি দেন।

চিঠিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এছাড়া, তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি এবং এখনও অনুতপ্ত হয়ে কোনো বিবৃতি দেননি।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, ২০ ফেব্রুয়ারি দৈনিক কালের কণ্ঠে সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি কেবল জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে অবমাননা করেননি, বরং প্রকৃত সত্যকেও মিথ্যাভাবে উপস্থাপন করেছেন। অতএব, তিনি তার শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে অব্যাহত থাকার কোনো আইনি অধিকার রাখেননি।

শেষে চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করা হয়েছে, জুলাই বিপ্লবের চেতনা সমুন্নত রাখতে এবং রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে সংসদের অধিবেশন আহ্বান বা সংসদে ভাষণ প্রদানের অনুমতি না দেয়ার ব্যবস্থা নিতে। অথবা প্রধানমন্ত্রী তার সুবিধামত ব্যবস্থা নেবেন বলে চিঠিতে অনুরোধ করা হয়েছে। এই অনুরোধ শুধু ব্যক্তিগত নয়, জনগণেরও আকাঙ্ক্ষা।

মধ্যপ্রাচ্যে আকাশসীমা বন্ধ, ৩৪০০ ফ্লাইট বাতিল, আটকে পড়েছেন ৩ লাখ যাত্রী

কুয়েতে মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫ বিধ্বস্ত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানের পাল্টা হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলে আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে এবং সংঘাতের প্রথম কয়েক দিনেই ৩ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে করে আনুমানিক তিন লাখ যাত্রী অঞ্চলজুড়ে আটকে পড়েছেন। দুবাই, আবুধাবি ও দোহার মতো প্রধান বিমানবন্দরগুলো কার্যক্রম স্থগিত করায় এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে বৈশ্বিক বিমান চলাচলের ওপরও।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ৩ হাজার ৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। চলমান সংঘাতের জেরে অঞ্চলজুড়ে আনুমানিক তিন লাখ মানুষ আটকা পড়েছেন। যুক্তরাজ্য তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিতে সহায়তার জন্য দল পাঠাচ্ছে বলে জানা গেছে।

ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের প্রথম কয়েক দিনেই ৩ হাজার ৪০০ টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শারজাহ, আবুধাবি এবং দোহার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ এই অঞ্চলের বড় বিমানবন্দরগুলো সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত করেছে। সংঘাতের জেরে মোট ছয় বা সাতটি প্রধান বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে।

এদিকে এই অঞ্চলের বিস্তীর্ণ আকাশসীমা এখনও বন্ধ থাকায় এর প্রভাব বৈশ্বিক বিমান চলাচলেও পড়েছে। ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে মধ্যপ্রাচ্যের এসব বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। ফলে এগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে একের পর এক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আবুধাবিতে আটকে পড়া যাত্রীদের অসংখ্য পোস্ট দেখা যাচ্ছে। যাত্রীরা জানিয়েছেন, নতুন করে টিকিট বুকিং, হোটেল ভাউচার সংগ্রহ বা সহায়তা পাওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

অনেকে টার্মিনালের ভেতরেই রাত কাটাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে আকাশসীমা বন্ধ থাকা এবং সংঘাত অব্যাহত থাকলে হাজার হাজার যাত্রী অনিশ্চয়তার মধ্যেই পড়ে থাকবেন।

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে ২ বাংলাদেশি নিহত, আহত ৭

কুয়েতে মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫ বিধ্বস্ত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে আরব উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন। সোমবার (২ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে এ তথ‌্য জা‌নিয়েছে।

বিজ্ঞ‌প্তি‌তে জানা‌নো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে সিলেটের বড়লেখার বাসিন্দা সালেহ আহমেদ আছেন। তিনি নাগরিক স্থাপনায় আকাশ থেকে নেমে আসা ধ্বংসাবশেষে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

এছাড়া, বাহরাইনে নিহত চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদ তারেক (৪৮)। তিনি একটি ড্রাইডক শিপইয়ার্ডে ডিউটিকালীন সময়ে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ একটি জাহাজের উপর পড়লে তিনি মারা যান। এরি ঘটনায় আরও ৩ বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তবে তাদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

বাংলাদেশ দূতাবাস সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। বাণিজ্যিক ফ্লাইট পুনরায় চালু হলে তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।

কুয়েতে ড্রোন হামলায় আহত চারজন বাংলাদেশি হলেন— নবীনগরের আমিনুল ইসলাম (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), সাথিয়ার রাবিউল ইসলাম (পাবনা), বেগমগঞ্জের মাসুদুর রহমান (নোয়াখালি) ও চাঁদিনার দুলাল মিয়া (কুমিল্লা)। তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। কুয়েত দূতাবাস নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, এবং দূত নিজেও হাসপাতালে সাক্ষাৎ করেছেন।

এছাড়া, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ বাংলার জয়যাত্রা বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে অবস্থান করছে। দূতাবাস জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সব ক্রু সদস্য নিরাপদ রয়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে সরকার। মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত ছয় মিলিয়নেরও বেশি বাংলাদেশির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে প্রবাসীরা সতর্ক থাকেন এবং স্থানীয় সরকারের নির্দেশনা মেনে চলেন।

বাংলাদেশ সরকার পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

×