শিরোনাম:

দুই মেরুর রাজনীতিতে ‘তৃতীয় শক্তি’ বিজয় কী ঝড় তুলবে?

দুই মেরুর রাজনীতিতে ‘তৃতীয় শক্তি’ বিজয় কী ঝড় তুলবে?

ভারতের তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে আজ এক ঐতিহাসিক মোড়। বহু দশক ধরে রাজ্যটি মূলত দুই প্রধান দল ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবারের ভোটে সেই চিরাচরিত দ্বিমুখী লড়াই ভেঙে তৈরি হয়েছে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা-থেকে-রাজনীতিক বিজয়। যার দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাঝাগম’ ভোটের সমীকরণ আমূল বদলে দিয়েছে। এবার বিজয় তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে পেরাম্বুর ও তিরুচিরাপল্লি পূর্ব আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেন। আর এই দুটি আসনেই বিপুল সংখ্যক ভোট পড়ায়, এখন সকলের মনে একটাই প্রশ্ন উঠছে, সুপারস্টার কী তাঁর ভক্তদের সমর্থনকে একজন প্রকৃত রাজনীতিবিদে পরিণত হতে পারবেন?

বৃহস্পতিবার পেরাম্বুরে ভোট পড়েছে ৮৯.১২ শতাংশ ভোট পড়েছে। অন্যদিকে, তিরুচিরাপল্লি পূর্ব-এ ভোটের হার ৮১.৫১ শতাংশ। দুটি বিধানসভা আসনে এই ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। আর দুটি আসনে বিজয় প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় জনমানসে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বলে রাখা ভালো, তামিলনাড়ুতে মোট ভোট পড়েছে ৮৪.৫১ শতাংশ।

নিউজ ১৮-এর প্রতিবেদন অনুসারে, বছরের পর বছর ধরে তামিলনাড়ুতে, বিশেষ করে তরুণ এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত শহুরে ভোটারদের মধ্যে বিজয়ের অন্যতম বৃহত্তম ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে। তাঁর ছবি মুক্তি প্রায়শই রাজনৈতিক ধাঁচে উদযাপন করা হতো এবং সেই জনপ্রিয়তাই তাঁর রাজনীতিতে প্রবেশের জল্পনাকে উস্কে দিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন আর সিনেমার মুক্তি এক জিনিস নয়। এটি নির্ভর করে বুথ ব্যবস্থাপনা, দলীয় কর্মী, ভোটার সমাবেশ এবং স্থানীয় জাতি-সম্প্রদায়গত সম্পর্কের ওপর। আর এখানেই ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র মতো প্রতিষ্ঠিত দলগুলো এখনও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। চেন্নাইয়ের শ্রমিক-শ্রেণি ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত অধ্যুষিত আসন পেরাম্বুরে, বিজয়ের তারকা খ্যাতি তরুণ এবং নতুন ভোটারদের মধ্যে প্রবলভাবে সাড়া ফেলতে পারে। ২০২১ সালে এই আসনটিতে ডিএমকে-র আরডি শেখর জয়ী হয়েছিলেন। সামগ্রিকভাবে চেন্নাই জেলায় তামিলনাড়ুর অন্যান্য অনেক অঞ্চলের তুলনায় ভোটদানের হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল। ভোটদানের হার ৮৬ শতাংশে উন্নীত হওয়াটা এই লড়াইয়ে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তিরুচিরাপল্লি পূর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বহুমুখী। এই আসনে শহুরে ভোটার, ব্যবসায়ী, সংখ্যালঘু এবং দলের একনিষ্ঠ অনুগতরা রয়েছেন। ২০২১ সালে ডিএমকে-র ইনিগো এস ইরুদয়রাজ এই আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন। বিজয় যদি এখানে ভালো ফল করেন, তবে তা প্রমাণ করবে যে তাঁর জনপ্রিয়তা শুধু শহুরে সমর্থকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আরও ব্যাপকতা রয়েছে।

প্রথমবার যারা প্রার্থী হন এমনকী খ্যাতিনামারাও, প্রায়শই পরিচিতিকে নির্বাচনী জয়ে রূপান্তরিত করতে হিমশিম খান। কিন্তু বিজয় রাজনীতিতে অপরিচিত মুখ হিসেবে প্রবেশ করেননি। তিনি এসেছেন একটি সুসংগঠিত ভক্তগোষ্ঠী এবং কয়েক মাসের প্রচারের ঢেউ নিয়ে। পেরাম্বুরে বিপুল সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি যদি প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়া ভোটার, মহিলা এবং তরুণ বাসিন্দাদের নীরব সমর্থনের প্রতিফলন হয়, তবে বিজয় অপ্রত্যাশিতভাবে বড় ব্যবধানে জয়ী হতে পারেন। তিরুচিরাপল্লি পূর্বে, প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্ধিতা করা একজন নবাগতের জন্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াইকেও বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হবে।

পেরাম্বুর সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিতে পারে। চেন্নাইয়ের একটি শহুরে নির্বাচনী এলাকায় ৮৯ শতাংশ ভোটদানের হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি। ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায়, এই ধরনের ভোটদানের হার কখনও কখনও এমন প্রার্থীকে সুবিধা করে দেয়, যিনি নীরব ভোটারদেরও উজ্জীবিত করে তোলেন। বিজয়ের বহিরাগত ভাবমূর্তি এবং তারকা খ্যাতি ঠিক তাই করতে পারে। এই মুহূর্তে শুধুমাত্র ভোটদানের সংখ্যা দিয়ে ফলাফল বলা সম্ভব নয়। তবে আগামীদিনে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক অপ্রতিরোধ্য নতুন শক্তির আগমন ঘটতে পারে।

২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

দুই মেরুর রাজনীতিতে ‘তৃতীয় শক্তি’ বিজয় কী ঝড় তুলবে?

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ১,৩৮৭ জন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মাঠ পর্যায়ের চিত্র বলছে, সংক্রমণের তীব্রতা বাড়ার অন্যতম কারণ হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে পর্যাপ্ত আইসোলেশন বা পৃথক রাখার ব্যবস্থার অভাব। আক্রান্ত শিশুদের মাধ্যমেই এই রোগ দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে হাসপাতালে শয্যা সংকটের কারণে আক্রান্ত শিশুদের সাধারণ রোগীদের কাছাকাছি থাকতে হচ্ছে, যা নতুন করে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত আইসোলেশন নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৫৫৯ জনে। এর মধ্যে চার হাজার ২৩১ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে ১৯ হাজার ৭০৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর ১৬ হাজার ৫২৭ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪২ জন মারা গেছেন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯৮ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে এক হাজার ২১৫ জন সন্দেহভাজন হামরোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের বড় একটি অংশই শিশু। হাসপাতালগুলোতে ক্রমাগত রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। সময়মতো টিকা না নেয়া এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসায় এই প্রাদুর্ভাব দীর্ঘায়িত হচ্ছে। শিশুদের জ্বর ও শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে এবং অন্যদের থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

অন্তর্বর্তী সরকারে বর্তমান সরকারের গুপ্ত উপদেষ্টা ছিলো: গোলাম পরওয়ার

দুই মেরুর রাজনীতিতে ‘তৃতীয় শক্তি’ বিজয় কী ঝড় তুলবে?

অন্তর্বর্তী সরকারে বর্তমান সরকারের গুপ্ত উপদেষ্টা ছিলো বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। আজ (শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল) দুপুরে ঝিনাইদহে জেলা জামায়াতের ওয়ার্ড সভাপতি সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় উপদেষ্টা পরিষদের মধ্যে বর্তমান সরকারের গুপ্ত উপদেষ্টা ছিলো। তারা এখন সরকারের মন্ত্রী হয়েছেন।’

এসময় তিনি বলেন, ‘যারা জামায়াত-শিবিরকে গুপ্ত বলে, ১৭ বছর তারাই বিদেশে লুকিয়ে ছিলো।’

এছাড়াও, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলকে হায়েনার মতো লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। সরকার সেই পুরনো কর্তৃত্ববাদী শাসনের পথে ফিরতে চাচ্ছে। তবে জনগণ সরকারের সেই আশা পূরণ করতে দেবে না বলেও জানান তিনি।

বিচার বিভাগের সব দুর্নীতির শেকড় তুলে আনতে চাই: আইনমন্ত্রী

দুই মেরুর রাজনীতিতে ‘তৃতীয় শক্তি’ বিজয় কী ঝড় তুলবে?

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিচার বিভাগের সব দুর্নীতির শেকড় তুলে আনতে চাই।

আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবনের দ্বার উন্মোচন ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদ, মানবাধিকার কমিশন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগীয় সচিবালয় আইনের বিষয়ের অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। প্রতিটি আইন যাচাই বাছাই করে সংসদে বিল আকারে আনা হবে।

মন্ত্রী বলেন, অনেকেই বলছেন বিএনপি জুলাই সনদ অস্বীকার করছে। অথচ বিএনপি ধমনীতে জুলাই সনদ ধারণ করে। জুলাই সনদের কিছু অংশে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদের বিষয়ে বিএনপি যে অঙ্গীকার করেছিল তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, মাজদার হোসেনের উদাহরণ দিয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হচ্ছে। আমরা মাজদার হোসেনের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত বিচার বিভাগ গড়তে চাই না।

বিচার বিভাগের সব দুর্নীতির শেকড় তুলে আনতে চাই।

যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম বক্তৃতা করেন।

এর আগে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান যশোর শহরের কারবালা কবরস্থানে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের কবর জিয়ারত করেন। পরে তিনি শহরের পুরাতন জেলা জজ আদালত পরিদর্শন করেন।

×