ইরানের জায়গায় খেলার প্রস্তাবকে ‘লজ্জাজনক’ বলে প্রত্যাখান ইতালির
আসন্ন বিশ্বকাপে সুযোগ পেতে পারে ইতালি—এমন জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে দেশটি। গুঞ্জন উঠেছিল, ইতিমধ্যে যোগ্যতা অর্জন করা ইরান যদি টুর্নামেন্টে অংশ না নেয়, তবে ইতালি সেই জায়গায় খেলার সুযোগ পাবে। এরমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিশেষ দূত প্রস্তাব করেন—টানা তৃতীয়বারের মতো কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হওয়া ইতালিকে ইরানের বদলে বিশ্বকাপে জায়গা দেওয়া উচিত। তবে এভাবে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ নেওয়াকে ‘অনুচিত’ বলল ইতালির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। ইরানের গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেই ইরানের পরিবর্তে ইতালির মতো বড় দলকে বিশ্বকাপে সুযোগ দেওয়ার আলোচনা শুরু হয়েছিল, যা এখন সরকারিভাবে নাকচ করে দেওয়া হলো।
এরমধ্যে গত বুধবার ইরানের সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানান, ইরানের ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রণালয় বিশ্বকাপে জাতীয় দলের অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করেছে। অর্থাৎ ইরান খেলার জন্য শতভাগ প্রস্তুত।
বিপরীতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিশেষ দূত প্রস্তাব করেছেন—টানা তৃতীয়বারের মতো কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হওয়া ইতালিকে ইরানের বদলে বিশ্বকাপে জায়গা দেওয়া উচিত। পাওলো জাম্পোলি নামের এই ইতালীয়-আমেরিকান দূত, যিনি বৈশ্বিক সম্পর্কের জন্য আমেরিকার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন, তিনি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানান, তিনি এই প্রস্তাবটি সরাসরি ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জান্নি ইনফান্তিনোকে দিয়েছেন।
জাম্পোলি বলেন, ‘আমি জন্মগতভাবে ইতালীয়, তাই আমেরিকার মাটিতে আয়োজিত টুর্নামেন্টে ‘আজ্জুরি’দের (ইতালি) দেখাটা হবে এক স্বপ্নের মতো। চারটি বিশ্বকাপ জয়ী দল হিসেবে তাদের সেই ঐতিহ্য আছে যা দিয়ে তাদের অন্তর্ভুক্তিকে যুক্তিযুক্ত করা যায়।’
জাম্পোলির এই প্রস্তাবের বিষয়ে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বিবিসি তাদের সূত্র বরাতে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বিষয়টি নিয়ে ফিফার কোনো পরিকল্পনা নেই।
ইতালির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি এই প্রস্তাবকে রীতিমতো ধিক্কার জানিয়ে বলেছেন, ‘এটি একদমই অনুচিত… যোগ্যতা অর্জন করতে হয় খেলার মাঠে।’ এমনকি ইতালির অর্থনীতি মন্ত্রী জানকার্লো জিওরজেত্তি এই বিষয়টিকে ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এই অদ্ভুত প্রস্তাব খোদ ইতালিয়ান সমর্থকদেরও বিব্রত করেছে। দেশটির প্রধান ক্রীড়া ওয়েবসাইটগুলো এই খবরটিকে স্রেফ এড়িয়ে গেছে, রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তারাও এটি প্রত্যাখ্যান করতে দেরি করেননি। ইতালীয় অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট লুসিয়ানো বুওনফিগ্লিও বলেন, ‘প্রথমত, আমি মনে করি না এটি সম্ভব। দ্বিতীয়ত, আমি এতে অপমানিত বোধ করছি। বিশ্বকাপে যেতে হলে সেটা অর্জন করে নিতে হয়।’
ইতালির প্রখ্যাত কোচ জিয়ান্নি ডি বিয়াসি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ‘এটি একটি অবাস্তব প্রস্তাব। তর্কের খাতিরে ইরান যদি নাও খেলে, তবে লজিক অনুযায়ী বাছাইপর্বে তাদের ঠিক পেছনে থাকা দলটিই সুযোগ পাবে। তিনি আরও যোগ করেন, ‘ইতালির এই বিষয়ে ট্রাম্পের সমর্থনের প্রয়োজন নেই। আমরা নিজেদেরটা নিজেরা সামলাতে পারি।’
ইরান গত বছর টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। যুদ্ধ শুরুর পর তারা ফিফাকে অনুরোধ করেছিল তাদের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ যেন আমেরিকা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে নেওয়া হয়, কিন্তু ফিফা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরান এখন তাদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ীই এগোচ্ছে। গত বুধবার তেহরানে এক সরকারি সমাবেশে ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মেহেদি তাজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপের জন্য সবরকম প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা নিচ্ছি, তবে আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের প্রতি অনুগত।’
যদি কোনো নাটকীয় পরিস্থিতিতে ইরান বাদ পড়েও যায়, তবে তাদের বদলি কে হবে সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ফিফার হাতে। বিশ্বকাপের বিধিমালার ‘ধারা ৬’ অনুযায়ী, ফিফা চাইলে যেকোনো দেশকেই ডেকে নিতে পারে। তবে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) চাইবে এই জায়গাটি যেন এশিয়ার কোনো দেশই পায়। সেক্ষেত্রে গত নভেম্বরে ইরাকের কাছে প্লে-অফে হেরে যাওয়া সংযুক্ত আরব আমিরাত হতে পারে সবচেয়ে যৌক্তিক পছন্দ।
আগামী ১১ জুন বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে এবং ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইরানের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: পাইকারি থেকে খুচরা বাজারে আগুন












