নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ
নিউজিল্যান্ডকে ৫৫ রানে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। আরও একবার উজ্জ্বল ছিলেন টাইগার পেসাররা।
চট্টগ্রামে টসে জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। ব্যাট করতে নেমে দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই রানের খাতা খোলার আগে বিদায় নেন ওপেনার সাইফ হাসান। আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ৫ বলে ১ রান করে থেমেছেন। এরপর ক্রিজে জুটি বাঁধেন সৌম্য সরকার এবং নাজমুল হোসেন শান্ত।
সৌম্য ভালো শুরু পেলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ২৮ বলে ১৮ রান করে দলের ৩২ রানের মাথাতে বিদায় নেন সৌম্য সরকার। তার বিদায়ের পর শান্তর সাথে যোগ দেন লিটন দাস। দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিংয়ে দলের ইনিংসকে টেনেছেন দুজন। দলের ১৯২ রানের মাথাতে আউট হওয়ার আগে ৯১ বলে ৭৬ রানের ঝলমলে এক ইনিংস খেলেছেন লিটন দাস। তবে দলের ২২১ রানের মাথাতে আউট হওয়ার আগে ১১৯ বলে ১০৫ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এছাড়া অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ খেলেছেন ১৮ বলে ২২ রানের ইনিংস। নির্ধারিত ৫০ ওভারের খেলা শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ।
জবাব দিতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে নিউজিল্যান্ড। ওপেনার হেনরি নিকোলস ১০ বলে ৪ রান করে বিদায় নেন দলের ৮ রানের মাথাতে। এরপর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন নিক কেলি এবং উইল ইয়ং। ভালো শুরুর পরেও ইয়ং থেমেছেন ২৫ বলে ১৯ রান করে। তাকে ফিরিয়েছেন গতিতারকা নাহিদ রানা। এর আগে নিকোলসকে ফিরিয়ে উইকেটের খাতা খুলেছিলেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। আগের দুই ম্যাচে সুবিধা করতে না পারা ল্যাথাম তৃতীয় ওয়ানডেতেও ১৩ বলে ৫ রান করে ফেরেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার হয়ে।
কেলি হাঁকান ফিফটি। যদিও ফিফটির পর বেশিদূর আগাতে পারেননি। ৮০ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলে দলের ১০৮ রানের মাথাতে বিদায় নিয়েছেন কেলি। মাঝে কিছুটা লড়াই চালিয়েছেন মোহাম্মদ আব্বাস এবং ডিন ফক্সক্রফট। ৩৬ বলে ২৫ রান করে থামেন আব্বাস। শেষ দিকে একাই লড়াই চালিয়ে গেছেন ফক্সক্রফট। বাকিরা কেউ সেভাবে সঙ্গ দিতে পারেননি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ২১০ রানে থামে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস।
নিউ জিল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন ও’রোক। এছাড়া বেন লিস্টার ও লেনক্সের শিকার ২টি করে উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৬৫/৮ (সাইফ ০, তামিম ১, সৌম্য ১৮, শান্ত ১০৫, লিটন ৭৬, হৃদয় ৩৩*, মিরাজ ২২, শরিফুল ১, তানভির ০, মোস্তাফিজ ৩*; ও’রোক ৭-১-৩২-৩, স্মিথ ৯-০-৫০-০, লিস্টার ১০-০-৬২-২, আব্বাস ৫-০-১৬-০, ক্লার্কসন ৩-০-১৯-০, লেনক্স ১০-০-৫০-২, ফক্সক্রফট ৬-০-৩৫-১)
নিউ জিল্যান্ড: ৪৪.৫ ওভারে ২১০ (নিকোলস ৪, কেলি ৫৯, ইয়াং ১৯, ল্যাথাম ৫, আব্বাস ২৫, ফক্সক্রফট ৭৫, ক্লার্কসন ৬, স্মিথ ২, লেনক্স ২, ও’রোক ১, লিস্টার ২; শরিফুল ৭-০-১৯-১, মোস্তাফিজ ৯-২-৪৩-৫, নাহিদ ১০-১-৩৭-২, তানভির ১০-০-৭০-০, মিরাজ ৮.৫-০-৩৬-২)
ফল: বাংলাদেশ ৫৫ রানে জয়ী
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: নাজমুল হোসেন শান্ত
ম্যান অব দা সিরিজ: নাহিদ রানা

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ













