ইরানিদের ঐক্য শত্রুর শিবিরে ফাটল ধরিয়েছে: মুজতবা খামেনি
ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা হোসেইনি খামেনি ইরানের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান অভূতপূর্ব সংহতি ও ঐক্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, এই ঐক্য শত্রুদের ওপর এক মারাত্মক আঘাত হেনেছে এবং তাদের মধ্যে গভীর ফাটল সৃষ্টি করেছে। এই ঐক্যের ধারা অব্যাহত রাখতে তিনি দেশবাসীকে কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত এক বার্তায় সর্বোচ্চ নেতা বলেন, দেশবাসীর মধ্যে সৃষ্ট এই বিস্ময়কর ঐক্যের কারণে শত্রুর শিবিরে ফাটল ধরেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই সংহতি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে দুর্বল করতে চাওয়া অপশক্তির সমস্ত হিসাব-নিকাশ ও কৌশলকে নস্যাৎ করে দিয়েছে।
আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী এই জাতীয় ঐক্যকে একটি ঐশ্বরিক নেয়ামত হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, শত্রুরা এখন সাধারণ মানুষের মন ও মনস্তত্ত্বকে লক্ষ্য করে ব্যাপক প্রচার-যুদ্ধ চালাচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো জাতীয় নিরাপত্তা ও সংহতিকে বিঘ্নিত করা। তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের সামান্য অবহেলা যেন শত্রুর এই অশুভ উদ্দেশ্য সফল করতে না পারে।
গত বৃহস্পতিবার ইরানের নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের প্রধানগণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের একটি সম্মিলিত ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ট্রাম্প ইরানে চরমপন্থী বনাম মধ্যপন্থী বিভাজনের যে দাবি করেছিলেন, তাকে উস্কানিমূলক বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি এহজেই। তাঁরা একযোগে জানান, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই এবং জাতি এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ।
উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ ও উস্কানিমূলক হামলা শুরু করে, যাতে ইসলামি বিপ্লবের তৎকালীন নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা শহীদ হন।
এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দীর্ঘ ৪০ দিন ধরে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যা শত্রুপক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। পরে গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনার টেবিলে ইরান ১০ দফা প্রস্তাব পেশ করে, যার মধ্যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি ছিল। টানা ২১ ঘণ্টার নিবিড় আলোচনার পর কোনো সমঝোতা ছাড়াই এই বৈঠক শেষ হয়। ইরান জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিশ্রুতিগুলোর ওপর আস্থার অভাবই এই আলোচনার ব্যর্থতার প্রধান কারণ।
বর্তমান এই সংকটময় মুহূর্তে আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি এই বার্তা ইরানি জনগণের বিপ্লবী চেতনা ও জাতীয় প্রতিরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: প্রেস টিভি

বিচার বিভাগের সব দুর্নীতির শেকড় তুলে আনতে চাই: আইনমন্ত্রী


















