মারা গেলেন অভিনেতা শামস সুমন
মঞ্চ থেকে ছোটপর্দা কিংবা বড়পর্দা দাপিয়ে বেড়ানো একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা ও ‘রেডিও ভূমি’র স্টেশন চিফ শামস সুমন (৫৮) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ (মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিন সন্ধ্যায় শামস সুমনের মৃত্যুর বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন শামস সুমন।
একসময় পর্দায় নিয়মিত দেখা গেলেও সাম্প্রতিককালে টেলিভিশন নাটকে দেখা যায়নি তাকে। তবে রেডিও ভূমিতে স্টেশন চিফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন এ অভিনেতা।
তার জন্ম ২ মার্চ, ১৯৬৮। রাজশাহীর কৃতি সন্তান শামস সুমন পড়াশোনা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করলেও অভিনয়ের প্রতি গভীর অনুরাগের টানেই তিনি নাটক ও চলচ্চিত্রের রঙিন ভুবনে পা রাখেন। তার ভরাট কণ্ঠস্বর আর সহজাত অভিনয় দক্ষতা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে।
শামস সুমন সবশেষ ২০১৩ সালে নায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত ‘আয়না কাহিনী’ নামের একটি সিনেমায় অভিনয় করেন।
দাপুটে এই অভিনেতা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন স্বননেরও সদস্য ছিলেন। তার অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’ (২০১৬), ‘কক্সবাজারে কাকাতুয়া’ (২০১৬), ‘চোখের দেখা’ (২০১৬), ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’ (২০১৪), ‘আয়না কাহিনী’ (২০১৩), ‘বিদ্রোহী পদ্মা’ (২০০৬), ‘জয়যাত্রা’ (২০০৪), ‘নমুনা’ (২০০৮), ‘হ্যালো অমিত’ (২০১২) ও ‘জয়যাত্রা’ (২০০৪)।
২০০৮ সালে ‘স্বপ্নপুরণ’ সিনেমায় পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন শামস সুমন। সাবলীল অভিনয়ের মধ্য দিয়ে শামস সুমন বাংলা চলচ্চিত্র ও নাটকের দর্শকদের হৃদয়ে আজীবন বেঁচে থাকবেন।
অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু জানান, আগামীকাল সকাল ১০টায় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

আগামীকাল সারা দেশে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু
















