ইউনাইটেডের কাছে চেলসির হার, চাপ বাড়ছে রোসেনিওরের ওপর
ম্যাচ শুরুর আগে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের সামনে সমর্থকদের প্রতিবাদ মিছিল ওঠে- ‘আমরা আমাদের চেলসিকে ফেরত চাই’। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে হারের পর যে স্লোগান ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারিতেও।
চেলসি সমর্থকদের এই ক্ষোভ অস্বাভাবিক কিছু নয়; প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের টানা চারটি ম্যাচে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি, সেই সঙ্গে হেরেছে এই চার ম্যাচেই। এমন অপ্রত্যাশিত কিছু এর আগে দেখা মিলেছিল ১৯১২ সালের নভেম্বরে। দীর্ঘতম গোলহীন হারের রেকর্ড আবার ফিরে আসল স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে।
শনিবার রাতে ইউনাইটেডের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে চেলসি। খেলার ৪৩ মিনিটে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন ইউনাইটেডের ব্রাজিলিয়ান লেফট উইঙ্গার মাথিউস কুনহা। বোর্নমাউথের সঙ্গে ড্র এবং লিডসের বিপক্ষে হারের পর ফের জয়ের ধারায় ফিরল রেড ডেভিলরা।
আরেকটি পরাজয়ে শীর্ষ পাঁচ থেকে ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে ব্লুজরা। একইসঙ্গে একটি ম্যাচ বেশি খেলেছে লিয়াম রোসেনিয়রের দল। ম্যাচ শেষে ব্লুজদের কোচ স্বীকার করেছেন যে, চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জনের পথে তাঁর দল এখন এক ‘দুর্গম পাহাড় পাড়ি দেওয়ার’ চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে।
নিশ্চিতভাবে চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নিতে না পারা দলের ব্যর্থতা হিসেবেই দেখবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। কারণ সাবেক কোচ এনজো মারেস্কার অধীনে মৌসুম শুরুর আগে যে ন্যূনতম লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, ক্লাবটি এখন সেটি অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
শীর্ষ এই আসরে খেলার সুযোগ না পেলে চেলসি বড় অঙ্কের রাজস্ব এবং মর্যাদা হারাবে। ২০২২ সালে টড বোহলি এবং ক্লিয়ারলেক ক্যাপিটাল ক্লাবটির মালিকানা নেওয়ার পর থেকে এটি হবে গত ৪ মৌসুমের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগে কোয়ালিফাই করতে না পারার ঘটনা।
এতদিন দলের রক্ষণভাগ, গোলকিপিং এবং স্কোয়াডের খেলোয়াড়দের বয়স নিয়ে সমালোচনা হতো। এখন হচ্ছে আক্রমণভাগ নিয়ে। চেলসি প্রিমিয়ার লিগে সর্বশেষ সাড়ে ৬ ঘণ্টা ধরে কোনো গোল করতে পারেনি।
চেলসির মালিকানাধীন অন্য ক্লাব স্ট্র্যাসবুর্গ থেকে রোসেনিওরকে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে স্ট্র্যাসবুর্গের কট্টর সমর্থকরা চেলসি সমর্থকদের সঙ্গে এই মিছিলে যোগ দিয়েছিল। উভয় ক্লাবের সমর্থকদেরই দাবি, জানুয়ারির সেই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চেলসির জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে; লিভারপুল তাদের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলে ৪ পয়েন্টে এগিয়ে আছে। অন্যদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং অ্যাস্টন ভিলাকে টপকানো ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে ব্লুজদের জন্য।
রোসেনিওর বলেন, ‘পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব নয়, তবে এটি আমাদের জন্য পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। আগামী মঙ্গলবার ব্রাইটনের বিপক্ষে ম্যাচটিতে আমাদের জয়ের মানসিকতা নিয়ে নামতে হবে এবং মৌসুমের বাকি অংশের জন্য নতুন উদ্দীপনা খুঁজে পেতে হবে।’
মৌসুমের এই চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে যখন সবকিছু ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে, তখন হাতে থাকা মাত্র পাঁচটি ম্যাচ নিয়ে কঠিন চাপের মুখে চেলসি।

আগামীকাল সারা দেশে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু
















