২৫ বছর পর প্রিমিয়ার লিগে ফিরল কভেন্ট্রি
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই ইংল্যান্ড ও চেলসির সাবেক মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড মাঠে নেমে উল্লাসে ফেটে পড়েন। ১৯৮৭ সালে এফএ কাপ জয়ের পর এটিই কভেন্ট্রির সবচেয়ে বড় সাফল্য। খেলোয়াড়রা ‘প্রমোশন ব্যানার’ হাতে নিয়ে দর্শকদের দিকে ছুটে যান।
চ্যাম্পিয়নশিপে গতকাল ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের ঘরের মাঠ ইউড পার্কে ম্যাচ শেষের মাত্র ৬ মিনিট আগে ববি থমাসের সমতাসূচক গোলটি কভেন্ট্রি সিটির ২৫ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে। এই ১-১ ড্রয়ের ফলেই ২৫ বছর পর প্রিমিয়ার লিগে ফেরা নিশ্চিত হলো তাদের।
ডিফেন্ডার ববি থমাস কভেন্ট্রির ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম খোদাই করে নিলেন। সফরকারী দর্শকদের সামনে তাঁর দুর্দান্ত হেডটি ইউড পার্কের গ্যালারিতে উন্মাদনা ছড়িয়ে দেয়। ক্লাবটি একসময় লিগ টু-তে নেমে গিয়েছিল, কিন্তু সেখান থেকে সাবেক কিংবদন্তি ফুটবলার ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের হাত ধরে তারা আবার ইংল্যান্ডের শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে ফিরে এল।
ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের জন্য এই ড্র ছিল কিছুটা দুর্ভাগ্যের। রাইয়োয়া মরিশিতার গোলে তারা লিড নিয়ে যোগ্য দল হিসেবেই খেলছিল। কিন্তু চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিল টপার কভেন্ট্রি ঠিকই পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়ে নিজেদের প্রমোশন নিশ্চিত করে। ৪৩ ম্যাচে ২৫ জয়, ১১ ড্র ও ৭ হারে ৮৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে কভেন্ট্রি। দুই ম্যাচ কম খেলে দুই নম্বরে থাকা ইপ্সউইচ টাউনের পয়েন্ট ৭৫। ৪২ ম্যাচে ৭৩ পয়েন্ট নিয়ে তিনে মিলওয়াল। পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষ দুইয়ে থাকা দুটি দল প্রিমিয়ার লিগে প্রমোশন পায়।
কভেন্ট্রিকে প্রিমিয়ার লিগে নিয়ে যাওয়া উচ্ছসিত ল্যাম্পার্ড ম্যাচ শেষে স্কাই স্পোর্টসকে বলেন, ‘প্যারাশুট পেমেন্টের (বড় বাজেট) সুবিধা ছাড়াই তিন ম্যাচ বাকি থাকতে সরাসরি প্রমোশন পাওয়া… এই ছেলেরা বিশেষ ও অনন্য কিছু করে দেখিয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে এখানে এসে পয়েন্ট পাওয়া সহজ ছিল না।’
ল্যাম্পার্ড আরও যোগ করেন, ‘২৫ বছর পর এটা করা… দারুণ। গত মৌসুমে প্লে-অফে সান্ডারল্যান্ডের কাছে হারের পর ফিরে আসার এই মানসিকতা প্রশংসনীয়। আমরা গ্রীষ্মে আলোচনা করেছিলাম কীভাবে গতবারের চেয়ে ভালো করা যায়। ছেলেরা কাজটা শেষ করতে পেরেছে দেখে খুব ভালো লাগছে।’
৪৭ বছর বয়সী ল্যাম্পার্ড ২০২৪ সালের নভেম্বরে কভেন্ট্রির দায়িত্ব নেন। আবেগাপ্লুত ল্যাম্পার্ড তাঁর পূর্বসূরি মার্ক রবিনসের কাজেরও প্রশংসা করেন। তিনি জানান, এই ক্লাবের প্রতি তিনি ‘প্রেমে পড়ে গেছেন’ এবং কভেন্ট্রির এই প্রত্যাবর্তন ল্যাম্পার্ডের কাছে তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের বড় বড় সাফল্যের সমতুল্য। ল্যাম্পার্ড বলেন,
‘আমি নিজের ও আমার স্টাফদের জন্য গর্বিত। ১৫ মাস আগে যখন এসেছিলাম, অনেক কিছুই অজানা ছিল। আমরা এই ক্লাবের মায়ায় পড়ে গেছি। এটা আমার অন্যতম সেরা অর্জন। এই ক্লাবের ম্যানেজার হতে পেরে আমি গর্বিত।’

আগামীকাল সারা দেশে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু
















