শিরোনাম:

ফ্যামিলি কার্ডের কারণে বাজেটে চাপ পড়বে না: প্রধানমন্ত্রী

ফ্যামিলি কার্ডের কারণে বাজেটে চাপ পড়বে না: প্রধানমন্ত্রী

ফ্যামিলি কার্ডের কারণে বাজেটের ওপর কোনো চাপ পড়বেনা বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বরং ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও সচল করবে বলে সংসদে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

আজ (বুধবার, ২৯ এপ্রিল) সকাল ১১টায় সংসদ অধিবেশনের শুরুতেই বিভিন্ন সদস্যদের প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি এ কথা জানান।

ফ্যামিলি কার্ডের অর্থায়ন কীভাবে হবে সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এ প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড রাষ্ট্রের এক রকমের ইনভেস্টমেন্ট। এর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি কমবে।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকামুখী জনস্রোত থামানো দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ। ধীরে ধীরে ঢাকার বাইরে শিল্পায়িত অঞ্চল, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। এতে ঢাকার ওপর চাপ কমবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ক্লিন ও গ্রিন করতে সাপ্তাহিক জনসচেতনতার পাশাপাশি মশক নিধনকে জোরদার করা হচ্ছে। বর্জ্য ফেলার জায়গা আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। সবুজায়ন করতে বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে। মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলের বর্জ্য থেকে জ্বালানিতে রূপান্তর করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাইপাস সড়ক শহর ছেড়ে গড়ে তোলা হয়। অথচ বাইপাস কেন্দ্র করেই আবার শহর গড়ে ওঠে! পরিস্থিতি এখন এমন মনে হচ্ছে, বাইপাসকে এড়াতে আবার বাইপাস করতে হবে!’

এসময় জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও সম্পদ রক্ষায় সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাজনীতি শিখুন, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে লাভ নেই : বিরোধী দলকে সেতুমন্ত্রী

ফ্যামিলি কার্ডের কারণে বাজেটে চাপ পড়বে না: প্রধানমন্ত্রী

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সংসদীয় জ্ঞান ও শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের রাজনীতি শেখার পরামর্শ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী এ পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের সদস্যরা প্রায়ই জানেন না কোন বিধিতে কী বলতে হয় বা কোন ইস্যুতে কীভাবে সোচ্চার হতে হয়। সংসদ নেতা তারেক রহমানকে পুরো সংসদের নেতা হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী প্রস্তাব দিয়ে বলেন, বিরোধী দলের সদস্যদের শানিত ও পরিপক্ব করতে প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা উচিত, যাতে তারা সংসদীয় রীতিনীতি রপ্ত করতে পারেন।

শেখ রবিউল আলম বিরোধী শিবিরের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি দল, যাদের জনগণ কখনও ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসায়নি, তাদের যন্ত্রণা থাকা স্বাভাবিক। যারা নির্বাচনের আগে নিজেদের অপকর্মের জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়, তারা রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।

তিনি বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করে কোনো লাভ হবে না, কারণ ২৬-এর নির্বাচনে দেশের মানুষ বিএনপিকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে সেই অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ৭১ শতাংশ মানুষ রায় দিয়েছে, যার মধ্যে ৫১ শতাংশই চেয়েছে বিএনপির দেওয়া ফর্মুলায় দেশ চলুক।

নিজের রাজনৈতিক লড়াইয়ের স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী বলেন, আজকের এই পার্লামেন্ট কারও করুণার দান নয়, বরং ১৭ বছরের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ফসল। নিজে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে ১৯৩টি মামলার শিকার হয়েছি, ৯ বার জেল খেটেছি এবং গুম ও রিমান্ডের দুঃসহ স্মৃতি সহ্য করেছি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রশংসা করে তিনি বলেন, হাজারো নেতাকর্মীর জীবনের বিনিময়ে যে গণতন্ত্র এসেছে, তা কোনো গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রে নস্যাৎ হতে দেওয়া হবে না। বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জনসমর্থনহীন রাজনীতি ছেড়ে গঠনমূলক পথে আসার চেষ্টা করুন, নতুবা ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হতে হবে।

বিনামূল্যে স্কুলড্রেস-ব্যাগ-জুতা পাবে প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা

ফ্যামিলি কার্ডের কারণে বাজেটে চাপ পড়বে না: প্রধানমন্ত্রী

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী জুলাই থেকে পরীক্ষামূলকভাবে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুলড্রেস, স্কুলব্যাগ ও জুতা বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে দেশব্যাপী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ ও জুতা বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে এ তথ্য জানানো হয়।

জানা গেছে, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে সারাদেশের প্রতিটি উপজেলার দুটি করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচি চালু হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থীকে এ সুবিধার আওতায় আনা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে পরবর্তীতে সব উপজেলার সব শিক্ষার্থীর কাছে এসব সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে মাদরাসা, হাইস্কুলও এ উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত হবে।

তিনি জানান, বিজিএমইএ এক লাখ শিক্ষার্থীর জন্য ড্রেস, ব্যাগ, জুতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠনও বিভিন্ন পরিমাণে দেবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এটি চলতি বছরে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হবে এবং আগামী অর্থবছরে বড় পরিসরে বাস্তবায়ন করা হবে। ধাপে ধাপে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, সারা দেশে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত একই রঙের ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা সরবরাহ করা হবে, যাতে কোনো বৈষম্য না থাকে। এতে অভিভাবকদের আর্থিক চাপ কমবে এবং শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতিও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে বিনামূল্যে বই ও মধ্যাহ্নভোজ সুবিধা পাচ্ছে। এর সঙ্গে নতুন করে ড্রেস, জুতা ও পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ যুক্ত হওয়ায় শিক্ষাব্যয় আরও কমবে।

বৈঠকে বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান বলেন, শিক্ষার্থীদের সহায়তায় তারা সরকারকে সহযোগিতা করবে। সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলব্যাগ ও জুতা দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্কুলে বৈদ্যুতিক বাস সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বাংলাদেশ-মার্কিন ‘স্বার্থবিরোধী’ বাণিজ্য চুক্তি বাতিলে সংসদে রুমিন ফারহানার প্রস্তাব

ফ্যামিলি কার্ডের কারণে বাজেটে চাপ পড়বে না: প্রধানমন্ত্রী

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। আজ (২৯ এপ্রিল) বুধবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন।

রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের ঠিক তিনদিন আগে তড়িঘড়ি করে সই হওয়া এই চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন ধারা রয়েছে।

সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি যখন এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তখন দেশের সুশীল সমাজ ও থিংক ট্যাংকগুলো আপত্তি জানিয়েছিল। একটি অনির্বাচিত সরকার এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করতে পারে না বলে তখন মত দেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি পূরণ, কৃষি ও জ্বালানি পণ্য আমদানি এবং বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মূলত এই বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যেই বিতর্কিত চুক্তিটি করা হয়েছিল।

রুমিন ফারহানা সংসদকে মনে করিয়ে দেন যে, চুক্তির শর্তানুযায়ী সরকার চাইলে ৬০ দিনের মধ্যে এটি বাতিল করার সুযোগ রাখে। তাই জনস্বার্থে চুক্তিটি সংসদে এনে আলোচনার দাবি জানান তিনি। তবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার এই বক্তব্যকে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ হিসেবে গ্রহণ করেননি।

স্পিকার জানান, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৩০১ ধারা অনুযায়ী এটি পয়েন্ট অব অর্ডার হয় না কারণ এটি চলমান কোনো বিষয় নয়। তিনি সংসদ সদস্যকে যথাযথ নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করার নির্দেশ দেন। স্পিকারের অসম্মতি সত্ত্বেও রুমিন ফারহানা পুনরায় এক মিনিট সময় নিয়ে চুক্তিটি বাতিলের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, যদিও শেষ পর্যন্ত স্পিকার একে আদেশ হিসেবে গ্রহণ করতে দুঃখ প্রকাশ করেন।

×