শিরোনাম:

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ শুরু

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ শুরু

শুরু হয়েছে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা চূড়ান্ত দফার মহারণ। আজ বুধবার সকাল থেকেই কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের মোট ছয়টি জেলার ১৪২টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই পর্বে ৩ কোটি ২১ লক্ষেরও বেশি ভোটার সিদ্ধান্ত নেবেন আগামী পাঁচ বছর বাংলার ক্ষমতায় কারা বসবে। ১,৪৪৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য আজ ইভিএমে বন্দি হতে চলেছে।

সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। চূড়ান্ত এই লড়াইয়ে লড়ছেন মোট ১ হাজার ৪৪৮ জন প্রার্থী, যার মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ২২০ জন।

সকাল ৯টা পর্যন্ত পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলাভিত্তিক ভোটদানের হারে সবাইকে টেক্কা দিয়েছে পূর্ব বর্ধমান। সেখানে ভোট পড়েছে ২০.৮৬ শতাংশ। এর ঠিক পরেই রয়েছে হুগলি জেলা, যেখানে ২০.১৬ শতাংশ মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। অন্যান্য জেলাগুলোর মধ্যে নদিয়ায় ১৮.৫০ শতাংশ, উত্তর ২৪ পরগনায় ১৭.৮১ শতাংশ এবং হাওড়ায় ১৭.৭৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রথম দুই ঘণ্টায় ভোটদানের হার ১৭.২৫ শতাংশ। অন্যদিকে, মহানগরের দুই প্রান্ত উত্তর কলকাতা ও দক্ষিণ কলকাতায় ভোট পড়েছে যথাক্রমে ১৭.২৮ শতাংশ এবং ১৬.৮১ শতাংশ।

মেজাজ হারালেন মমতা
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের শুরুতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভবানীপুর। বুধবার সকালে নিজের কেন্দ্রের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বেরিয়ে দলীয় কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে মেজাজ হারালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন যে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করে বিজেপি ভয় দেখিয়ে ভোট লুট করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা। এটা গণতন্ত্রের উৎসব, কিন্তু ওরা এটাকে পুরোপুরি নষ্ট করে দিয়েছে। ওদের উদ্দেশ্য খুব স্পষ্ট: বিজেপি জোর করে নির্বাচনে কারচুপি করতে চায়।”

আজকের নির্বাচনে যে সাতটি জেলার আসনগুলোতে ভোট নেওয়া হচ্ছে সেগুলো হলো-নদিয়া (১৭), উত্তর ২৪ পরগনা (৩৩), দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৩১), কলকাতা (১১), হাওড়া (১৬), হুগলি (১৮) এবং পূর্ব বর্ধমান (১৬)। সুষ্ঠুভাবে ভোট পরিচালনার জন্য মোট ৪১ হাজার ১টি বুথ প্রস্তুত করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রধান বুথ ৩৯ হাজার ৩০১টি এবং সহায়ক বুথ রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭০০টি।

নির্বাচনী ময়দানে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস, প্রধান বিরোধী দল বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট জোট, আইএসএফ এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির মতো দলগুলো থাকলেও মূলত তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যেই মূল লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই দফায় ভাগ্য নির্ধারিত হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, শুভেন্দু অধিকারী (ভবানীপুর), মন্ত্রী ও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (কলকাতা বন্দর), মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (টালিগঞ্জ), মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (চন্দননগর), অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলী (সোনারপুর দক্ষিণ), রুদ্রনীল ঘোষ (শ্যামপুর), হিরন্ময় চ্যাটার্জি, পাপিয়া অধিকারী (টালিগঞ্জ), কলতান দাশগুপ্ত (পানিহাটি), মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় (উত্তরপাড়া), দিপ্সিতা ধর (দমদম উত্তর) এবং ভাঙ্গড় আসনের আইএসএফ প্রার্থী পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকীসহ সমাজের বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের।

ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও নির্বাচন শান্তিপূর্ণ রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মোট ২ হাজার ৩৪৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা থাকছে উত্তর ২৪ পরগনায় ৫০৭ কোম্পানি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৪০৯ কোম্পানি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি ৩৮ হাজার ২৯৭ জন রাজ্য পুলিশও মাঠে রয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য নিউটাউনে স্পেশাল কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গত ৪৮ ঘণ্টায় সতর্কতামূলকভাবে প্রায় ১ হাজার ৭০০ দাগি অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সিল করে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই ১৪২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ১২৩টি, বিজেপি ১৮টি এবং আইএসএফ মাত্র ১টি আসনে জয় পেয়েছিল। নির্বাচন-পূর্ববর্তী জরিপ অনুযায়ী, চলমান এই নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচনে রেকর্ড ৯৩.১৯ শতাংশ ভোট পড়েছিল। তাই আজকের দ্বিতীয় দফায়ও ভোটারদের বুথমুখী করাই নির্বাচন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল একযোগে ঘোষণা করা হবে।

ইরানের ৩৫ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ শুরু

ইরানের তথাকথিত ‘ছায়া ব্যাংকিং’ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি ডলারের অবৈধ তহবিল স্থানান্তর করা হয়েছে। তার দাবি, এসব অর্থ ইরানের ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ সহায়তা করেছে, যা মার্কিন নাগরিক, আঞ্চলিক মিত্র এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করা হচ্ছে—কোনো প্রতিষ্ঠান যদি এই নেটওয়ার্ককে সহায়তা করে বা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে, তাহলে তাদেরও কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হবে।

এর আগে গত ২১ এপ্রিল ইরানকে সহায়তার অভিযোগে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তাদের বিরুদ্ধে তেহরানকে অস্ত্র সংগ্রহে সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়।

রাজা চার্লস একমত যে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়: ট্রাম্প

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ শুরু

যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের সম্মানে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভাষণে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের হাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয় এবং এই বিষয়ে রাজা চার্লসও তার সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত।

নৈশভোজে দেওয়া ভাষণে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তার প্রশাসন বর্তমানে এই অঞ্চলটি নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি খুব ভালোভাবে সামনের দিকে এগোচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান উত্তেজনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, তারা সামরিকভাবে ওই নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষকে ইতোমধ্যেই পরাজিত করেছেন।

পারমাণবিক অস্ত্র ইস্যুতে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, তারা কখনোই ওই প্রতিপক্ষকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবেন না। এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাজ্যের সমর্থন তুলে ধরে তিনি আরও যোগ করেন, পারমাণবিক অস্ত্র রোধ করার বিষয়ে রাজা তৃতীয় চার্লস তার সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। এমনকি এ বিষয়ে চার্লস তার চেয়েও বেশি দৃঢ়ভাবে একমত পোষণ করেছেন বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন। সূত্র: আলজাজিরা

ইরান ‘ভেঙে পড়ছে’, হরমুজ খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছে: ট্রাম্প

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ শুরু

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, বর্তমানে ইরান ‘ভেঙে পড়ার মতো অবস্থায়’ রয়েছে বলেই এই অনুরোধ জানিয়েছে দেশটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প এই দাবি করেন।

পোস্টে তিনি লেখেন, ইরান সবেমাত্র যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে যে দেশটি চরম সংকটে বা ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। দেশটিতে বর্তমানে নেতৃত্বের সংকট চলছে এবং তা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন যে, ইরান এই সংকট সফলভাবেই কাটিয়ে উঠতে পারবে। তবে এই অন্তর্বর্তী সময়ে তারা চায় যুক্তরাষ্ট্র যেন যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ট্রুথ সোশ্যালে বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত পোস্ট করে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এর আগে তার দেওয়া বেশ কিছু তথ্য পরবর্তী সময়ে অসত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বিভিন্ন সূত্রমতে, ইরানের দেওয়া সর্বশেষ এই প্রস্তাবটি বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সদস্যরা পর্যালোচনা করে দেখছেন। তবে এই প্রস্তাবে ট্রাম্প খুব একটা সন্তুষ্ট হতে পারেননি বলে জানা গেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের সর্বশেষ এই প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। সূত্র: আলজাজিরা

×