সমালোচনার মুখে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ : পুনর্বিবেচনার আশ্বাস ফিফার
হাইড্রেসন ব্রেক । ছবি : সংগৃহীত
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলে প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত বাধ্যতামূলক ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ (পানি পানের বিরতি) বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও অসন্তোষের মুখে পড়েছে। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই বিরতিগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে আখ্যায়িত করলেও, টুর্নামেন্ট শেষে এর সামগ্রিক প্রভাব বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গার।
সমালোচকদের মতে, প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের মাঝে এই তিন মিনিটের বাধ্যতামূলক বিরতি খেলার স্বাভাবিক গতি ও ছন্দ (momentum) নষ্ট করে। অনেকেই এটিকে খেলার ধরন বদলে চার কোয়ার্টারে পরিণত করার সমতুল্য বলে মনে করেছেন। এছাড়া, ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা (UEFA) এবং ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুচেল মনে করেন, এই ব্রেকগুলো ফুটবলের নিজস্ব পরিচিতিকে ব্যাহত করে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ভেঙ্গার বলেন, এই ৩ মিনিটের বিরতি খেলোয়াড়দের সামর্থ্য বা খেলার ধার বাড়িয়েছে— এমন কোনো প্রমাণ আমাদের হাতে নেই। দর্শকরাও এটি পছন্দ করছেন না। আমরা মূলত দর্শকদের ফুটবলীয় আনন্দ দিতেই কাজ করি। তাই টুর্নামেন্ট শেষেই এর সার্বিক প্রভাব মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাব আমরা।
ফিফার মতে, গরমের মধ্যে খেলোয়াড়দের সতেজ রাখা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এই নিয়ম চালু করা হয়েছিল। আর্সেন ওয়েঙ্গার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, প্রাথমিক বিশ্লেষণে এই বিরতিগুলো ম্যাচের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলেনি।
তবে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নিয়ে ক্ষোভের পারদ ক্রমেই চড়ছে। ফুটবলপ্রেমীদের অভিযোগ, ফিফা মূলত ফুটবলকে আমেরিকান ঘরানার খেলাগুলোর মতো বাণিজ্যিক রূপ দিতে চাইছে, যাতে টেলিভিশন সম্প্রচারকারীরা খেলার মাঝে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ পায়। লস অ্যাঞ্জেলেসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামের এক কর্মী তো বিরতির যন্ত্রণায় ফুটবল ম্যাচকে রসিকতা করে ‘কোয়ার্টার’ বলে সম্বোধন করেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠক মঙ্গলবার


















