শিরোনাম:

দেশে চিনি উৎপাদনে ঘাটতি, লোকসানে বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ মিল

দেশে চিনি উৎপাদনে ঘাটতি, লোকসানে বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ মিল

দেশে চিনির উৎপাদন চাহিদার তুলনায় এক থেকে দেড় ভাগ। দিন দিন চিনির উৎপাদন কমে যাওয়ায় পুরোপুরি বিদেশ নির্ভর হয়ে উঠছে এই শিল্পখাত। অন্যদিকে টানা লোকসানে বন্ধ হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি চিনিকল। শুধুমাত্র ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চিনিকলগুলোর লোকসান ছিল ৫৫৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

কয়েক বছর আগে মাঠগুলির বেশিরভাগ জমিতে থাকতো আখের আবাদ। এখন অনেকটাই কম। আখ বিক্রিতে হয়রানি, বিক্রির টাকা সময়মত না পাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি ফসল হওয়ায় চাষিরা বিমুখ আখ চাষে।

এছাড়া, আখের চেয়ে অন্য ফসলে দাম ভাল পাওয়ায় কৃষকের মনোযোগ অন্য আবাদে, আখ স্বল্পতায় চিনিকলগুলিতে লোকসান বাড়ে। এখন নতুন করে উদ্যোগ নিলেও আখ চাষে মিলছে না সুফল।

আখ চাষিরা জানান, এক বছরের আবাদের ফসল বিক্রি হতে সময় লাগে। এ কারণে তারা লাভ করতে পারেন না। অনেক সময় আখ মরেও যায়। তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে লাভ হয় না আখ চাষে।

স্বল্প মেয়াদে আখের জাত উদ্ভাবনের দিকে তাকিয়ে ছিল কৃষক। তবে, এক্ষেত্রে তেমন সফলতা দেখাতে পারেনি আখ গবেষণা ইনস্টিটিউট। কর্মকর্তারা জানান, স্বল্পমেয়াদী আখ উদ্ভাবন করলেও তা চিনি উৎপাদনে ব্যবহার উপযুক্ত নয়।

বাংলাদেশ সুগার ক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট মহাপরিচালক ড. কবির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘স্বল্প মেয়াদী বলতে আমাদের কাছে আছে বিএসআরআই আখ। সাধারণত ৭ থেকে ৮ মাসের মধ্যে এর থেকে উৎপাদন পাওয়া যায়। তবে এ আখ থেকে গুড় হয় না চিনিও হয় না।’

চিনিকলে লোকসানের নানা কারণের মধ্যে রয়েছে আখের স্বল্পতা এবং প্রতিবছর বিপুল অংকের ঋণের সুদ পরিশোধ। আর এ থেকে বের হতে ঋণের সুদ থেকে অব্যাহতি, কৃষককে আখ বিক্রির টাকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার পরামর্শ চিনিকল কর্তৃপক্ষের।

চিনিতে স্বয়ংসম্পন্ন হতে হলে আখের পাশাপাশি চিনি উৎপাদনে নজর দিতে হবে আখ বিট চাষে। এছাড়া, পুরাতন যন্ত্রপাতির আধুনিকায়ন করাসহ চিনিকলগুলোকে সারা বছরই উৎপাদনমুখী রাখার পরামর্শ কৃষি অর্থনীতিবিদদের।

জয়পুরহাট চিনিকল ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ খবির উদ্দিন মোল্যা বলেন, ‘আখ চাষিদের আমাদের সরকার থেকে প্রণোদনা দেয়ার নিয়ম আছে তবে তাদের আরও উৎসাহ দেয়ার জন্য আখ ফসলকে কৃষি ফসল হিসেবে বিবেচনায় নিতে হবে। এ ফসলের ঋণের সুদের মতো দিতে হবে।’

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. আব্দুল মজিদ বলেন, ‘বাংলাদেশে আখের সঙ্গে সুগার বিট করতে হবে। আখের উন্নত জাত নিয়ে আসতে হবে। আরেকটি উদাহরণ দেয়া যায়, বাংলাদেশে একটি আখ থেকে যে পরিমাণ চিনি হয় জাপানে সেম আখ থেকে ডাবল পরিমাণে চিনি হয়। দেশের মেশিনগুলো আধুনিকায়ন করা দরকার।’

দেশে চিনির চাহিদা ২৪ লাখ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চিনি উৎপাদন হয়েছে ৪৬ হাজার মেট্রিক টন। চিনিকলগুলির পুঞ্জিভূত ঋণের সুদ প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।

কয়েকটা দল সংস্কার-সংস্কার বলে, সংস্কারের জন্ম দিয়েছিলেন জিয়া: মির্জা ফখরুল

দেশে চিনি উৎপাদনে ঘাটতি, লোকসানে বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ মিল

আজকাল কয়েকটা রাজনৈতিক দল খুব জোর করে বলে সংস্কার সংস্কার। আরে জিয়াউর রহমানই সংস্কারের জন্ম দিয়েছিলেন— এ কথা বলেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার বিষয়ক মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে রোববার (৩১ মে) ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

এ নিয়ে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, জিয়াউর রহমান গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন, সব প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তুলেছিলেন। জিয়াউর রহমান বিএনপির কাছে আলোকবর্তিকার মতো। কৃষি, গবেষণা— সবখাতেই জিয়ার নাম খচিত আছে। তিনি দেশে কৃষি বিপ্লব করে তুলেছিলেন। অর্থনীতির ভীত মজবুদ করেছিলেন।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশে একটি বিধ্বস্ত অবস্থায় দায়িত্ব নিয়েছে। দেশের সামনে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে, এ সময়টা হেসেখেলে চললে দেশের অনেক ক্ষতি হবে। জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশ গঠন করতে চেয়েছিলেন, বর্তমান সরকার সেভাবেই চলার চেষ্টা করছে। মানুষ তাদের কাছেই প্রত্যাশা করে, যাদের কাছে কিছু পেতে পারে।

সামনে কঠিন সময়, হেসেখেলে চললে দেশের ক্ষতি হবে: প্রধানমন্ত্রী

দেশে চিনি উৎপাদনে ঘাটতি, লোকসানে বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ মিল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশে একটি বিধ্বস্ত অবস্থায় দায়িত্ব নিয়েছে। দেশের সামনে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে, এ সময়টা হেসেখেলে চললে দেশের অনেক ক্ষতি হবে। জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশ গঠন করতে চেয়েছিলেন, বর্তমান সরকার সেভাবেই চলার চেষ্টা করছে। মানুষ তাদের কাছেই প্রত্যাশা করে, যাদের কাছে কিছু পেতে পারে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে রোববার (৩১ মে) ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানের নামে বিদেশের মানুষ বাংলাদেশকে চিনতো। যে গাছ ফল দেয়, সেই গাছেই মানুষ ঢিল মারে। শহীদ জিয়া যেভাবে দেশ এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন আমরা চেষ্টা করছি সেভাবে দেশ পরিচালনা করতে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপির সামনে অত্যন্ত কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে। এই সময় সজাগ না থাকলে দেশ ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য ক্ষতি হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট সামনে রেখে ইশতেহার ছিল বিএনপির। সরকার গঠনের পর এই ইশতেহারে ৫২ শতাংশ মানুষের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। খাল খনন, শিক্ষা, শিল্পের বিপ্লব ইশতেহারে ছিল। সেই কাজগুলো করছি। জিয়াউর রহমান যেভাবে প্রত্যেক খতকে এগিয়ে নিতে কাজ করেছিলেন, সেই পথনির্দেশিকা অনুসরণ করে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সঠিক কাজগুলো সহযোগিতা করলেই সরকার সফল হবে। শুধু আমরা কাজ করলেই হবে না। তৃণমূল পর্যন্ত সব নেতাকর্মীর লক্ষ্যগুলো সফল করে জনগণের চোখে সফল সরকার হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে আহ্বান জানাই।

হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ২ শিশুর, মোট মৃত্যু ৫৮৫

দেশে চিনি উৎপাদনে ঘাটতি, লোকসানে বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ মিল

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এ নিয়ে গত ৭৭ দিনে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮৫ জনে। আজ রোববার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ৫৮৫ শিশুর মধ্যে ৯০ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। আর বাকি ৪৯৫ জন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৩ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং একই সময়ে আরও ১ হাজার ৩২৪ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত সর্বমোট হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৪৯ শিশু এবং সন্দেহজনক হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার ৯৩৬ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৬ হাজার ৮৮৬ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫২ হাজার ৮৪১ জন।

×