শিরোনাম:

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি: ১৩ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি হত্যা মামলা

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি: ১৩ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি হত্যা মামলা

বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিল্প দুর্ঘটনা রানা প্লাজা ধস-এর ১৩ বছর আজ। ২০১৩ সালের এই দিনে সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ৯ তলা ভবনটি ধসে পড়লে প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৫ জন পোশাক শ্রমিক। আহত ও পঙ্গু হন আরও কয়েক হাজার মানুষ। বিশ্বজুড়ে গার্মেন্টস শিল্পে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হিসেবে বিবেচিত। তবে এত দীর্ঘ সময়েও এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী পরিবার ও শ্রমিক সংগঠনগুলো।

গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীরা সাক্ষ্য না দেওয়ায় এ মামলার বিচার প্রক্রিয়া গতি পাচ্ছে না। আগামী ৩০ এপ্রিল পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে প্রয়োজনে সাক্ষী তালিকা সংক্ষেপ করে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

নৃশংস এই ঘটনায় ২০১৫ সালে ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগ এনে চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। ২০১৬ সালে বিচার শুরু হলেও আসামিপক্ষের দফায় দফায় উচ্চ আদালতে রিট ও আবেদনের কারণে ২০২২ সাল পর্যন্ত মামলাটির কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে থাকে।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ভবন ধ্বসে প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৬ জন শ্রমিক। আহত হন ২ হাজারের বেশি। ১৩ বছর পেরিয়েও ভবন ধ্বসের সেই ভয়াবহ আর্তনাদ এখনও থামেনি।

যেদিন রানা প্লাজা ধ্বসে পড়ে তার আগের দিনই ভবনটিতে ফাটল দেখা দেয়। তা সত্ত্বেও পরদিন শ্রমিকদের কাজে আসতে বাধ্য করা হয়। এরপরে জেনারেটর চালু হতেই কিছুক্ষণের মধ্যেই ধসে পড়ে পুরো ভবন।

পরবর্তীতে এ ঘটনায় হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা দায়ের হয়। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালে রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। পরের বছর ২০১৬ সালের জুনে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। তবে এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যান আট আসামি।

আলোচিত এই রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি মামলায় ৪১ আসামির মধ্যে একমাত্র আসামি সোহেল রানা জেল হাজতে আটক রয়েছেন। সোহেল রানার বাবাসহ তিন আসামি মৃত্যুবরণ করেছেন, পলাতক রয়েছেন ১০ আসামি আর হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছেন ২৭ আসামি।

অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় প্রসিকিউশন যারা ছিলেন তাদের ভেতরে সাক্ষীদের নিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ করার মানসিকতা দেখতে পাইনি। তবে এখন আমরা অগ্রসর হয়েছি। মামলায় ডেভলপমেন্ট হয়েছে। সাক্ষী প্রয়োজন মামলার জন্য। আমরা সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।’

রানা প্লাজা ধ্বসের ঘটনায় সাক্ষী করা হয় ৫৯৪ জনকে। এ পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৪৫জন। রাষ্ট্রপক্ষ বলছে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নতুন করে গুরুত্ব দেয়ায় এই মামলার অগ্রগতি বেড়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের এই কৌসুলি আশা এ বছরের মধ্যেই এ মামলার রায় পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, ‘যারা টেকনিক্যাল বিষয়গুলোতে সাক্ষ্য প্রদান করেছিলেন তাদেরকে আমরা সমন ইস্যু করেছি। আপনার এর ভেতরে পুলিশ আছেন, ডাক্তার আছেন, স্পেশালি ইঞ্জিনিয়ারস আছেন। আমরা তাদেরকে সমন দিয়েছি এবং আগামী ৩০ তারিখে আমাদের পরবর্তী ধার্য তারিখ আছে। এবং আমরা আশা করছি এই বছরের ভেতরে আমাদের সাক্ষ্য গ্রহণগুলো সম্পন্ন হবে এবং আমরা আশা করছি এই বছরের ভেতরেই আমরা একটা ভার্ডিক্ট পেতে যাচ্ছি।’

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী বলছেন, বিচার শেষ না হওয়ায় অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে রানাকে। তিনি মনে করেন রানা প্লাজার ভবন ধ্বস নিছক একটি দুর্ঘটনা।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ খান খোকন বলেন, ‘রানা নির্দোষ। এই রানা প্লাজা ভবন ধসের ক্ষেত্রে রানার কোনো হাত নাই। ভবনটা ধসে পড়ে গেছে। এটি একটা দুর্ঘটনা। তবে আমার বক্তব্য হলো, রানা বিনা বিচারে একেবারে বিনা বিচারে দীর্ঘ ১৩ বছর যাবত জেলহাজতে আছে।’

দীর্ঘ তেরো বছর পেরিয়েও ঝুলে থাকা এই মামলার দিকে তাকিয়ে আছে ভুক্তভোগী পরিবার। প্রশ্ন এখন একটাই-রানা প্লাজার সেই মৃত্যুর মিছিলের বিচার শেষ হবে কবে?

বিচার বিভাগের সব দুর্নীতির শেকড় তুলে আনতে চাই: আইনমন্ত্রী

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি: ১৩ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি হত্যা মামলা

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিচার বিভাগের সব দুর্নীতির শেকড় তুলে আনতে চাই।

আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবনের দ্বার উন্মোচন ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদ, মানবাধিকার কমিশন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগীয় সচিবালয় আইনের বিষয়ের অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। প্রতিটি আইন যাচাই বাছাই করে সংসদে বিল আকারে আনা হবে।

মন্ত্রী বলেন, অনেকেই বলছেন বিএনপি জুলাই সনদ অস্বীকার করছে। অথচ বিএনপি ধমনীতে জুলাই সনদ ধারণ করে। জুলাই সনদের কিছু অংশে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদের বিষয়ে বিএনপি যে অঙ্গীকার করেছিল তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, মাজদার হোসেনের উদাহরণ দিয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হচ্ছে। আমরা মাজদার হোসেনের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত বিচার বিভাগ গড়তে চাই না।

বিচার বিভাগের সব দুর্নীতির শেকড় তুলে আনতে চাই।

যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম বক্তৃতা করেন।

এর আগে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান যশোর শহরের কারবালা কবরস্থানে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের কবর জিয়ারত করেন। পরে তিনি শহরের পুরাতন জেলা জজ আদালত পরিদর্শন করেন।

কলেজ শিক্ষিকাকে পেটানোর ঘটনায় বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি: ১৩ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি হত্যা মামলা

রাজশাহীর দূর্গাপুরে দাওকান্দি সরকারি কলেজে ঢুকে ভাঙচুর ও শিক্ষিকাকে স্যান্ডেল দিয়ে পেটানোর ঘটনায় দূর্গাপুর উপজেলাধীন জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে রাজশাহী জেলাধীন দূর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলীকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে আকবর আলী বলেন, এ বিষয়ে আমি জানি না। সেদিন এলাকার মুরব্বিরা দাওয়াত পত্র নিয়ে গেছিল। এসময় ম্যাডাম হীরা বলেন- আপনারা কি জন্য এখানে। আপনারা টাকা নিতে আসছেন নাকি? এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারি ঘটনা ঘটে।

৬৮ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রামে দুটি জাহাজ

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি: ১৩ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি হত্যা মামলা

চট্টগ্রাম বন্দরে একের পর এক জ্বালানিবাহী জাহাজ ভিড়ছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ও শুক্রবার সকালে মোট ৬৮ হাজার ৪৫০ টন ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আরও একটি জাহাজে জেট ফুয়েল আসার কথা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে তাইওয়ান থেকে ৩৩ হাজার ৪০০ টন ডিজেল নিয়ে পাকিস্তানি পতাকাবাহী জাহাজ এমটি কোয়েটা চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আসে। এর আগে শুক্রবার সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ৩৫ হাজার ৫৫ টন ডিজেল নিয়ে পানামার পতাকাবাহী জাহাজ প্রাইভ এঞ্জেল ভিড়ে।

দৈনিক ১২ হাজার ৭০০ টন চাহিদার হিসাবে এই দুটি চালানে দেশে প্রায় পাঁচ দিনের বেশি ডিজেলের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে শুক্রবার বিকেল ৪টায় দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩৪ হাজার ৬০০ টন জেট ফুয়েল নিয়ে চীনা পতাকাবাহী জাহাজ জিং টং ৭৯৯ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়বে। দৈনিক ২ হাজার ৫০০ টন চাহিদার হিসাবে এই জেট ফুয়েল দিয়ে প্রায় ১৪ দিনের সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে।

জাহাজগুলোর স্থানীয় শিপিং এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনসের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে কিছু জাহাজ থেকে লাইটারিংয়ের মাধ্যমে ডিজেল খালাস শুরু হয়েছে। মজুদ পরিস্থিতি বিবেচনায় জেট ফুয়েলবাহী জাহাজ থেকে আগে খালাস কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে, এরপর ডিজেল খালাস শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে বহির্নোঙরে চারটি জাহাজ অপেক্ষমাণ রয়েছে। বড় আকারের জাহাজ হওয়ায় বন্দরের ডলফিন জেটিতে ভেড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই কুতুবদিয়া এঙ্করেজ থেকে ছোট ভেসেলের মাধ্যমে লাইটারিং করে জ্বালানি খালাস করা হচ্ছে।

×