শিরোনাম:

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: পাইকারি থেকে খুচরা বাজারে আগুন

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: পাইকারি থেকে খুচরা বাজারে আগুন

কারওয়ান বাজার। এখানে ২৪ ঘণ্টাই দেখা মেলা ক্রেতা বিক্রেতার সমাগম। রাতে চলে পাইকারি কেনে বেচা। আর দিনে হলে খুচরা সদায় সহজলভ্যে কেনার জন্যে মানুষ বেছে নেয় এই বাজারকে। মোদ্দাকথা নগরীর সবচেয়ে বেশি মানুষ তাদের নিত্যপণ্যের চাহিদা মেটাতে এখানটাতে আসে।

স্বাভাবিক ভাবেই এসব পণ্য সরবরাহ করতে প্রতি রাতে এই বাজারে আসে কয়েকশো ট্রাক। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়, বৃদ্ধি পেয়েছে এসব ট্রাকের ট্রিপ খরচেও। দূর পাল্লার প্রতি ট্রাকেই নেয়া হচ্ছে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা বেশি। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষ এই ভাড়া ছাড়িয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। এমনটাই দাবি করছেন আড়ৎদাররা। এ ক্ষেত্রে ট্রাক চালকদের ছিলো মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শশা, টমেটো, কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন সবজি ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। যেটা খুচরা বাজারে বাড়ছে আরও বেশি।

ট্রাক চালকরা জানান, আগে যে গাড়ি ভাড়া ছিলো ১৭ থেকে ১৮ হাজার এখন সে গাড়ি ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

দূর পাল্লা ছাড়াও রাজধানীর আশপাশ অর্থাৎ সাভার নবাবগঞ্জ থেকে আসা পণ্যবাহী পিকআপ ও ছোট ট্রাকের ভাড়াও আগের তুলনায় ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেড়েছে।

মূলত কাঁচা বাজারের পণ্যে দাম বৃদ্ধি কিংবা কমা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্ভর করে ফলন ও আমদানির ওপর। তবে সরবরাহ খরচ বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পণ্যের দামেও পড়ছে বলে জানালেন বিক্রেতারা। যেমন আলু পটল টমেটো ও কাঁচামরিচ মোকাম থেকে পাইকারি আনতে কেজি প্রতি ১ থেকে ৫ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে এর প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারেও।

বিক্রেতাদের একজন বলেন, ‘আগে আমরা যে দামে কিনতাম তার থেকে বেশি দাম দিয়ে এখন কিনতে হচ্ছে। এখন গাড়ি ভাড়া বেশি, তেলের দাম বেশি। তাই আমাদের এখন বাড়তি টাকায় বেঁচতে হচ্ছে।’

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও পুরাপুরি কাটেনি সঙ্কট। ফলে এসব দূর পাল্লার ট্রাকে কমেছে ট্রিপের সংখ্যা। এমনকি ট্রাক না পাওয়ার কারণের মোকামে পণ্যে আটকে থেকে পণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ারও অভিযোগ মিলছে।

অনেক ক্রেতার অভিযোগ, সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, আড়তে সরবরাহ কম থাকায় তাদেরও বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে।

বাজারে এখন বেশিরভাগ সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে বেগুনের দাম ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি, যা বেড়ে এখন ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। পটোলের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ১০-১৫ টাকা বেড়ে ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসা, যা গত সপ্তাহে ৬০ টাকা কেজি ছিল, এখন ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলু আগের মতোই ২৫-৩০ টাকা কেজিতে রয়েছে। সাজনা ডাঁটা মানভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি।

মাংসের বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন এসেছে মুরগির দামে। ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম রেকর্ড ছাড়িয়ে ৩৫০-৪০০ টাকা কেজিতে উঠেছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩২০-৩৫০ টাকার মধ্যে। দেশি মুরগির কেজি ৭০০ টাকা ছাড়িয়েছে।

ডিমের বাজারেও চলছে নৈরাজ্য। গত সপ্তাহে যে ডিম বিক্রি হতো ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। তা এখন কিনতে হচ্ছে ১৩০ টাকায়। মহল্লার দোকানে দাম আরও একটু চড়া।

গরুর মাংস ৭৫০-৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১০৫০-১১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে দেখা যায়, চাষের মাছের দামও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে যাচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় রুই, কাতলা ও পাঙ্গাশের দাম কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। ২২০ টাকার নিচে বাজারে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। গতকাল পাঙ্গাশ মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও আজ ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে তা বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকায়। ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৭০ টাকা, যা গত তিন দিন আগেও বিক্রি হতো ৩০০ টাকা দরে। আর দুই কেজির চেয়ে বেশি ওজনের রুই মাছ ৩০ থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকায়। এ ছাড়া তেলাপিয়া, পাবদা, শোল, টেংরাসহ সব মাছই কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে আজ বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী হাবিবুর রহমান বলেন, “গত সপ্তাহে ১ হাজার টাকায় যে বাজার করেছি, আজ সেই একই বাজার করতে ১২০০ টাকার বেশি লাগছে। প্রতি সপ্তাহেই কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের টিকে থাকাই এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

তবে চাল ও ভোজ্যতেলের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। নাজিরশাইল চাল মানভেদে ৭০-৮৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৮৫-১৯০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপণ্যের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। সরকারি তদারকি না বাড়লে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এশিয়ান গেমস বাছাইয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: পাইকারি থেকে খুচরা বাজারে আগুন

আন্তর্জাতিক হকির আঙিনায় নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ নারী হকি দল। নিজেদের ইতিহাসের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেই জয় তুলে নিলো বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) উজবেকিস্তানকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে তারা।

প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী চায়নিজ তাইপের সঙ্গে ৫-৫ গোলে ড্র করার পর এই জয়ে সেমিফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার জিবিকে হকি মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা গেছে মেয়েদের। ম্যাচের ১১ মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে দলকে লিড এনে দেন শারিকা রিমন। তবে সমতায় ফিরতে সময় নেয়নি উজবেকিস্তান; ঠিক এক মিনিট পরেই পেনাল্টি কর্নার থেকে গোলটি শোধ করেন খুজায়েভা মাদিনাবোনু।

​২৪ মিনিটে কনা আক্তারের দুর্দান্ত এক ফিল্ড গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় লাল-সবুজরা। বিরতির পর ৪০ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে দলের ব্যবধান ৩-১ করেন আইরিন আক্তার রিয়া।

৪৬ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে উজবেকিস্তান ব্যবধান ৩-২ করলেও বাকি সময়টা লিড ধরে রাখে বাংলাদেশ। এই জয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন আইরিন আক্তার রিয়া।

বাংলাদেশের জয়ে বড় ভূমিকা রাখা আইরিন আক্তার রিয়া হয়েছেন ম্যাচ সেরা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম গোলটিও এসেছিল তার ব্যাট থেকেই। টানা দুই ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর রিয়া জানান, “আজকের খেলায় সেরা খেলোয়াড় হতে পেরে আমি অনেক খুশি। দলের সবার সম্মিলিত সহযোগিতার কারণেই আমি এই পর্যায়ে আসতে পেরেছি।”

এই জয়ে ‘এ’ গ্রুপে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বা রানার্স আপ হতে পারলেই মিলবে সেমিফাইনালের টিকিট। আর সেমিফাইনালিস্ট চার দলই সরাসরি জাপানে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান গেমসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে।

টুর্নামেন্টের সুবিধাজনক অবস্থানে থাকায়, পরশু গ্রুপের শেষ ম্যাচে হংকংয়ের বিপক্ষে একটি ড্র করলেই এশিয়ান গেমস নিশ্চিত করতে পারবে বাংলাদেশ। এখন পুরো দেশ তাকিয়ে আছে বাংলার নারী হকিস্টাদের দিকে।

২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: পাইকারি থেকে খুচরা বাজারে আগুন

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ১,৩৮৭ জন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মাঠ পর্যায়ের চিত্র বলছে, সংক্রমণের তীব্রতা বাড়ার অন্যতম কারণ হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে পর্যাপ্ত আইসোলেশন বা পৃথক রাখার ব্যবস্থার অভাব। আক্রান্ত শিশুদের মাধ্যমেই এই রোগ দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে হাসপাতালে শয্যা সংকটের কারণে আক্রান্ত শিশুদের সাধারণ রোগীদের কাছাকাছি থাকতে হচ্ছে, যা নতুন করে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত আইসোলেশন নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৫৫৯ জনে। এর মধ্যে চার হাজার ২৩১ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে ১৯ হাজার ৭০৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর ১৬ হাজার ৫২৭ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪২ জন মারা গেছেন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯৮ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে এক হাজার ২১৫ জন সন্দেহভাজন হামরোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের বড় একটি অংশই শিশু। হাসপাতালগুলোতে ক্রমাগত রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। সময়মতো টিকা না নেয়া এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসায় এই প্রাদুর্ভাব দীর্ঘায়িত হচ্ছে। শিশুদের জ্বর ও শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে এবং অন্যদের থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

অন্তর্বর্তী সরকারে বর্তমান সরকারের গুপ্ত উপদেষ্টা ছিলো: গোলাম পরওয়ার

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: পাইকারি থেকে খুচরা বাজারে আগুন

অন্তর্বর্তী সরকারে বর্তমান সরকারের গুপ্ত উপদেষ্টা ছিলো বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। আজ (শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল) দুপুরে ঝিনাইদহে জেলা জামায়াতের ওয়ার্ড সভাপতি সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় উপদেষ্টা পরিষদের মধ্যে বর্তমান সরকারের গুপ্ত উপদেষ্টা ছিলো। তারা এখন সরকারের মন্ত্রী হয়েছেন।’

এসময় তিনি বলেন, ‘যারা জামায়াত-শিবিরকে গুপ্ত বলে, ১৭ বছর তারাই বিদেশে লুকিয়ে ছিলো।’

এছাড়াও, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলকে হায়েনার মতো লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। সরকার সেই পুরনো কর্তৃত্ববাদী শাসনের পথে ফিরতে চাচ্ছে। তবে জনগণ সরকারের সেই আশা পূরণ করতে দেবে না বলেও জানান তিনি।

×