ইসরাইলের সঙ্গে আলোচনার লক্ষ্য সংঘাতের অবসান ঘটানো : লেবাননের প্রেসিডেন্ট
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন গতকাল সোমবার বলেছেন, ইসরাইলের সঙ্গে প্রস্তাবিত আলোচনার লক্ষ্য হলো দক্ষিণ লেবাননে সংঘাত ও দখলদারিত্বের অবসান ঘটানো। তবে হিজবুল্লাহ ও তার সমর্থকরা এই আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরাইলের সঙ্গে লেবানন সরকারের এই আলোচনার তীব্র সমালোচনা করেছে।
আগামী বৃহস্পতিবার এই আলোচনার দ্বিতীয় দফা হওয়ার কথা রয়েছে।
গত সপ্তাহে প্রথম দফার আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন। এতে ছয় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘাত সাময়িকভাবে থেমে যায়।
হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে এই সংঘাত বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
হিজবুল্লাহর আইনপ্রণেতা হাসান ফদলাল্লাহ এএফপিকে বলেন, লেবানন ও প্রেসিডেন্টের স্বার্থে এই আলোচনা থেকে সরে আসা উচিত।
তবে তিনি একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার পক্ষেও মত দেন।
এক মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবানন ও ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে নতুন করে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
গত ১৪ এপ্রিল বহু দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হয়।
এদিকে, লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সোমবার দক্ষিণাঞ্চলের কাকাইয়াত আল-জিসর এলাকায় ইসরাইলি ড্রোন হামলা ও সীমান্ত শহর হুলায় গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
এতে ছয় জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননের বিন্ট জবেইল ও লিতানি এলাকায় ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনকারীদের’ শনাক্ত করে, বিমান হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা করা হয়েছে।
এদিকে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গতকাল সোমবার লেবাননে এক ফরাসি শান্তিরক্ষী হত্যার নিন্দা জানিয়েছে। ফ্রান্স এই হামলার জন্য হিজবুল্লাহকে দায়ী করেছে।
গত শনিবার হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় ওই শান্তিরক্ষী নিহত ও আরও তিন জন আহত হয়।
শান্তিরক্ষী বাহিনীর এই সদস্যরা ইউনিফিলে একটি চৌকিতে যাওয়ার পথে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরও জানায়, মাইস আল-জাবালসহ সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। তাদের এই নির্বিচার ধ্বংসযজ্ঞ ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করেছে এবং মানুষের জীবিকার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
হাসান ফদলাল্লাহ বলেন, ‘লেবাননের স্বার্থে সরাসরি আলোচনার পথ থেকে সরে এসে, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে বিকল্প পথ খোঁজা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনার পথেও লেবাননের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, আলোচনার উদ্দেশ্য হলো ‘সংঘাত বন্ধ করা, দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ঘটানো ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত পর্যন্ত লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন করা।’
তিনি গত শুক্রবার বলেছেন, ‘আমরা নিজেদের জন্যই আলোচনা করছি। আমরা আর কারও খেলার পুতুল নই কিংবা কারও যুদ্ধের ময়দানও নই এবং আর কখনো তা হবও না।’
এদিকে, ইরান জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির শর্তগুলোর মধ্যে লেবাননে শান্তি প্রতিষ্ঠাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বৈরুত বিমানবন্দরের পথে, দক্ষিণের শহরতলিতে যেখানে হিজবুল্লাহর প্রভাব বেশি, সেখানে এএফপি’র ছবিতে দেখা গেছে, আলোচনার প্রতি তাদের সমর্থনের পর আউন ও প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামকে আক্রমণ করে নতুন করে গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে।
একটি দেয়াল লিখনে লেখা ছিল, ‘জোসেফ একজন বিশ্বাসঘাতক আর নাওয়াফ একজন দল বদলকারী।’

পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ হয়েছে, প্রশ্নফাঁসের সুযোগ নেই: শিক্ষামন্ত্রী


















