শিরোনাম:

‎রাশিয়া-ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি হামলা, একদিনে নিহত ২৭

‎রাশিয়া-ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি হামলা, একদিনে নিহত ২৭

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে উভয় পক্ষে অন্তত ২৭ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।

‎মঙ্গলবার (৪ আগষ্ট ) ভোরে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানায়, মস্কো অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় পাঁচজন নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছেন।

রাশিয়ার দখলকৃত ক্রিমিয়ার মস্কো-সমর্থিত প্রধান সের্গেই আকসিওনভ জানান, উপদ্বীপটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও দুজন।

‎বেলগোরোদর ভারপ্রাপ্ত গভর্নর আলেক্সান্ডার শুয়ায়েভ জানান, সেখানে চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। ‎এ ছাড়া রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গের কাছে একটি গুদামেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন অঞ্চলটির গভর্নর আলেক্সান্ডার দ্রোজদেঙ্কো।

ইউক্রেনের দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের ক্রিভি রিহ জেলায় একটি পেট্রোল স্টেশনে রুশ হামলায় এক জরুরি সেবাকর্মী ও তার আট বছর বয়সী ছেলেসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। ‎অঞ্চলটির গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা টেলিগ্রামে জানান, হামলার পর ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে পেট্রোল স্টেশনটি এবং আশপাশে থাকা বেশ কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

‎ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় ওয়াইল্ডবেরিজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তার ভাষ্য, স্বাধীন বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থার তদন্তে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি সামরিক ও বেসামরিক—উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবহৃত সামরিক হেলমেট, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং ড্রোনে ব্যবহৃত ফাইবার-অপটিক কেবল।

‎সোমবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের বিলিই কোলোদিয়াজ ও উস্পেনিভকা নামে দুটি বসতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

‎ইউক্রেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় আহত ২১ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছে এবং নয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।এ ছাড়া সোমবার রাতভর চালানো আরেক হামলায় জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে দুই শিশুসহ আরও আটজন নিহত হয়েছেন।

‎তবে এরই মধ্যে ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র নিজ দেশে উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছেন বলে জানা গেছে।

‎গত সপ্তাহে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেন। বৈঠকটিকে তিনি ‘ভালো’ বলে অভিহিত করেন। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চান জেলেনস্কি। এ বিষয়টি শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে তার টেলিফোন আলাপেও উঠে আসে।

জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী

‎রাশিয়া-ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি হামলা, একদিনে নিহত ২৭

ছবি : সঙগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন যে, জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছে । তিনি বলেন,জুলাই-আগস্টের আন্দোলন কোনো একক ব্যক্তি বা দলের ছিল না। এটি ছিল সম্পূর্ণভাবে আপামর জনসাধারণের আন্দোলন। জনগণ যখন সর্বাত্মকভাবে এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছিল, তখনই এর চূড়ান্ত সফলতা এসেছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ-এ (কেআইবি) গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনিবার সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক কথা হয়েছে, আন্দোলন হয়েছে, সংগ্রামের কথা হয়েছে, তর্ক-বিতর্ক হয়েছে এখন সময় হচ্ছে দেশ পুনর্গঠন করার। এখন সময় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।

তিনি আরও বলেন, এখন সময় হচ্ছে ধৈর্য সহকারে ঠান্ডা মাথায় যারা ষড়যন্ত্র করতে চায় তাদের ষড়যন্ত্রের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখার। জনগণকে সতর্ক করা এবং ঠিক একইভাবে আমরা যেই পরিকল্পনা জনগণের সামনে দিয়েছি, আমরা জনগণের জন্য যা করতে চাইছি, দেশকে পুনর্গঠনের জন্য আমরা যা করতে চাইছি-সেগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা। জনগণের প্রত্যাশাগুলো পূরণ করা।

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের অবস্থান থেকে পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছি এই জুলাই আন্দোলনের সফলতার ক্রেডিট এই দেশের সর্বস্তরের জনগণের। এর কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি, একক কোনো রাজনৈতিক দলের এটি কোনো ক্রেডিট নয়। বিগত ১৭ বছর এই দেশের মানুষ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মী, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী আরো অনেকগুলো রাজনৈতিক দল সবাই ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে মাঠে ছিল। মাঠ ছেড়ে আমরা কখনো চলে যায়নি। আমরা কখনোই জনগণকে একা ফেলে মাঠ ছেড়ে চলে যায়নি।’

পুরোনো ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেলের সামনে আবার উত্তেজনা

‎রাশিয়া-ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি হামলা, একদিনে নিহত ২৭

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের জেরে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তি নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে এই হামলা ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পর হাসপাতালের সামনে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষে আহত ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতারা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে চিকিৎসাধীন নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। হামলা ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার কারণে হাসপাতাল চত্বর ও এর আশপাশে তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল, শিবির, ছাত্রশক্তির সংঘর্ষের ঘটনার জেরে ন্যাশনাল মেডিকেলের সামনে আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

সেখানে উভয় পক্ষের নেতাুকর্মীরা জড়ো হয়েছেন। বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের মহানগর দক্ষিণের নেতাুকর্মীদেরও সেখানে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

শহীদ আনাস তার মাকে লেখা শেষ চিঠি : খোদাই হলো ইবির স্মৃতিফলকে

‎রাশিয়া-ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি হামলা, একদিনে নিহত ২৭

জুলাই শহীদ আনাস স্মৃতিফলক । ছবি সংগৃহীত

২০২৪’র ৫ আগস্ট সকালে রাজধানী গেণ্ডারিয়ার বাসা থেকে বের হওয়ার আগে পরম শ্রদ্ধায় ও আবেগে মাকে একটি চিঠি লিখে রেখে গিয়েছিলেন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহরিয়ার খান আনাস। সেই চিঠিতে লুকিয়ে ছিল এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন। সেদিনই চাঁনখারপুলে পুলিশের বুলেটে শাহাদাত বরণ করেন আনাস।

সেই ‘জুলাই ৩৬ গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’-এর দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ আনাসের মাকে লেখা সেই ঐতিহাসিক শেষ চিঠিটি এবার চিরস্থায়ী রূপ পেল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ আনাস হলের স্মৃতিফলকে। সোমবার ৩ আগস্ট বেলা সোয়া এগারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শহীদ আনাসের সেই স্মৃতিফলক উন্মোচন করেন। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, দশম শ্রেণিতে পড়া আনাসের চিঠিটি পড়ে যে কেউ তার গভীর দেশপ্রেম উপলব্ধি করতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আগত প্রত্যেকেই এই চিঠি থেকে অনুপ্রাণিত হবে। বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যতদিন দায়িত্বে থাকবে, ততদিন ৩৬ জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে সকল কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পরিচালনা করা হবে।

আনাসের বাবা বলেন, আনাসদের স্বপ্ন ছিল একটি ইনসাফভিত্তিক বৈষম্যহীন বাংলাদেশ । যা আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার দুই বছর পার হলেও বিচার প্রক্রিয়ার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তীব্র হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন , যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের নামমাত্র সাজা দেওয়া হচ্ছে, আর যারা পালিয়ে গেছে তাদের নামকাওয়াস্তে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। আমরা রক্তপাতহীন, ফ্যাসিবাদের ছায়ামুক্ত এক বাংলাদেশ চাই এবং শহীদ ওসমান হাদী হত্যার দ্রুত বিচার চাই।”

স্মৃতিফলক উন্মোচনের পরপরই বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসিতে ইবি স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘বুলেটের সামনে আমাদের আবু সাঈদ’, ‘পানি লাগবে পানি, পানিৃ’ এবং ‘জুলাই বিপ্লবে পুলিশের নৃশংসতা’ থিমে তিনটি বিভাগে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

×