শিরোনাম:

ইয়ামালের চোটে ম্লান বার্সার জয়

ইয়ামালের চোটে ম্লান বার্সার জয়

ডি বক্সে ফাউলের শিকার হয়ে পেনাল্টি আদায় করে নিলেন। স্পট কিক থেকে বল জালেও জড়ালেন করলেন। ওই এক গোলই শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনার জয় নিশ্চিত করেছে। তবে লামিনে ইয়ামালের নৈপুণ্যে পাওয়া এই জয় ছাপিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে স্প্যানিশ উইঙ্গারের চোট।

লা লিগায় গতকাল রাতে সেল্টা ভিগোকে ১-০ গোলে হারিয়ে লিগ শিরোপা ধরে রাখার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল বার্সেলোনা। ম্যাচের ৪০ মিনিটে বার্সেলোনার হয়ে একমাত্র গোলটি করেন ইয়ামাল। এই কষ্টার্জিত জয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে শীর্ষস্থান সুসংহত করল বার্সা। লিগের বাকি থাকা ছয়টি ম্যাচের মধ্যে আগামী ১০ মে হবে এল ক্লাসিকো।

ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যূতে দানি ওলমোর সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে বক্সে ঢুকে পড়েন ইয়ামাল। সেখানে সেল্টার ডিফেন্ডার ইয়োয়েল লাগোকে কাটিয়ে যাওয়ার সময় ফাউলের শিকার হন তিনি। ইয়ামালের নেওয়া নিচু পেনাল্টি শটটি গোলরক্ষক ইয়োনুট রাডু সঠিক দিকে ঝাঁপিয়েও আটকাতে পারেননি। গোল করার পরপরই ১৮ বছর বয়সী ‍উইঙ্গার বেঞ্চের দিকে তাকিয়ে ইশারায় জানান যে তিনি চোট পেয়েছেন।

আসন্ন বিশ্বকাপে স্পেন জাতীয় দলের অন্যতম ভরসা ইয়ামাল গোল উদযাপনের সময় সতীর্থরা কাছে আসতেই মাঠে লুটিয়ে পড়েন। তখন তাকে বাম পায়ের পেছনের অংশ (হ্যামস্ট্রিং) চেপে ধরতে দেখা যায়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক সেবার পর ইয়ামাল নিজেই মাঠ ত্যাগ করেন। সাইডলাইনে কোচ হান্সি ফ্লিকের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলে তিনি একাই টানেল দিয়ে ড্রেসিংরুমের দিকে চলে যান।

এই চোটের কারণে বার্সেলোনার হয়ে চলতি মৌসুমের বাকি ম্যাচগুলোতে ইয়ামালকে পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শেষ। এমনকি নিজের প্রথম বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে এই চোট। ইএসপিএন জানিয়েছে, ইয়ামালের হ্যামস্ট্রিং ছিঁড়ে গেছে। তাঁর এই চোট কতটা গুরুতর এবং সুস্থ হয়ে ফিরতে ঠিক কতদিন সময় লাগবে, তা বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই জানা যাবে।

এরমধ্যে গ্যালারিতে এক দর্শকের জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজনের কারণে বার্সা-সেল্টা ম্যাচ ১৫ মিনিটের বেশি বন্ধ ছিল। খেলা পুনরায় শুরু হলে ইয়ামালের পরিবর্তে রনি বারদঘিকে মাঠে নামানো হয়।

ম্যাচ শেষে মুভিস্টার-কে বার্সা মিডফিল্ডার পেদ্রি বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি ম্যাচ জিততে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব লা লিগা নিশ্চিত করতে হবে। আজকের জয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আশা করি লামিনের চোট খুব বেশি গুরুতর হবে না এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সে ফিরবে। আগামীকাল তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে, তখনই আমরা বিস্তারিত জানতে পারব।’

গত সপ্তাহে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়ার পর প্রথমবারের মতো মাঠে নেমেছিল হান্সি ফ্লিকের বার্সা। কিন্তু কাতালান ক্লাবটির খেলায় চিরচেনা সেই আক্রমণাত্মক ধার লক্ষ্য করা যায়নি।

লা লিগার অন্য ম্যাচে আতলেতিকো মাদ্রিদ পয়েন্ট টেবিলে ১৬ নম্বরে থাকা এলচের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছে। এই নিয়ে লিগে টানা চার ম্যাচ হারল দিয়েগো সিমিওনের দল। ৩২ ম্যাচে ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে আছে তারা। আগামী ২৯ এপ্রিল চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে সেমিফাইনালের প্রথম লেগের লড়াইয়ে নামবে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

সবার প্রচেষ্টায় হাম কন্ট্রোলে আসছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ইয়ামালের চোটে ম্লান বার্সার জয়

পুষ্টির অভাবে শিশুদের মধ্যে হামের প্রভাব বাড়ছে, তবে সবার প্রচেষ্টায় হাম কন্ট্রোলে আসছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ (বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল) সকালে জাতীয় বার্ন ইন্সটিটিউটে ‘জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ২০২৬’ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন কী অবস্থা ছিল। সবার প্রচেষ্টায় আমরা হাম মোটামুটি একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে সক্ষম হচ্ছি। অনেক ডাক্তারদের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। একটা চীনা টিমের সঙ্গেও আলাপ হয়েছে। আমারও কিন্তু ছোটবেলায় হাম হয়েছে, আমার মনে আছে এবং তখনকার মায়েদের একটা কথা ছিল, জন্মের পরে একবার হাম হবেই। একবার জলবসন্ত হবেই।

শিশুদের মায়ের বুকের দুধের বিকল্প নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বলতে হয়, এখনকার মায়েরা ব্রেস্টফিডিংয়ে অভ্যস্ত না। দিন দিন কমে আসছে। একদিকে সিজারিয়ান অপারেশনে বেবি হওয়া, তার শারীরিক গঠন অত্যন্ত দুর্বল এবং মারাত্মক হুমকির মুখামুখি নিয়ে যায় শিশুকে। একটি বাচ্চা যখন মায়ের পেটে গড়ে ওঠে, যতক্ষণ না আল্লাহ নির্ধারিত সময়ে সে বের হবে, দুনিয়ার মুখ না দেখবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে মায়ের কাছ থেকে পেটে পুষ্টি নিতেই থাকে।

এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একটি জাতি গঠনে পুষ্টি সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান শিশুরা বাড়ির পুষ্টিকর খাবার বাদ দিয়ে বাইরের ফাস্টফুড খাবার খায়। এজন্য শিশুদের নিয়মিত কাউন্সেলিং করতে হবে।’

সমাজ থেকে মাদক দূর করতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন নির্বাচন করি, নেশার কথা অনেকে বলেছে। আমি বক্তব্যে বলতাম যে, ভালো কথা আমরা নেশা দূর করব, কিন্তু আপনারা যারা আপনাদের সন্তানদেরকে সন্ধ্যার পরে ঘরের বাইরে রাখেন; পাখিরা সব নীড়ে ফিরে, কিন্তু আমাদের বাচ্চারা বাইরে থাকে কী করে?

সংরক্ষিত নারী আসন: মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল

ইয়ামালের চোটে ম্লান বার্সার জয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আজ (বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল) মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর এ সিদ্ধান্ত দেন এই নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান। তিনি বলেন, ‘সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছর পার না হওয়ায় মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হলো।’

রিটার্নিং অফিসারের ‍সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিলের সুযোগ রয়েছে বলে জানান সহকারী রিটার্নিং ইসির উপসচিব মনির হোসেন। তিনি বলেন, ‘আসনটি শূন্য হওয়ার পরে সব দল/জোটের জন্য উন্মুক্ত হবে।’

ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটে জামায়াত জোটের ১৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। বুধবার বাছাইয়ে ১২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়। একজনের বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সিদ্ধান্ত আসে।

এর আগে, বুধবার আরপিও’র বিধান তুলে ধরে রিটার্নিং অফিসার বাছাইয়ে বলেছিলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার মধ্যে ডকুমেন্ট দিতে সময় দেয়া হয়েছে। মনিরা শারমিন যে কাগজপত্র দিয়েছে, তাতে সরকারি পে স্কেলের কথা উল্লেখ রয়েছে। এজন্য তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য বলা হয়েছে।’

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপনের পরও বাছাইয়ে বাদ পড়ার পর মনিরা শারমিন বলেন, ‘আমি আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবো।’

এসময় তার আইনজীবী নাজমুস সাকিব বলেন, ‘আগামী রোববার নির্বাচন কমিশনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করব। প্রার্থিতা ফিরে পাব আশা করি। আমরা বুঝেশুনেই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি।’

২০২৫ সালের মার্চে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান মনিরা শারমিন। তিনি ২০২৩ সালে নভেম্বরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে অফিসার জেনারেল হিসেবে যোগ দেন, দুই বছর পর গেল ডিসেম্বর চাকরি ছাড়েন এনসিপি নেত্রী।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ (১) (চ) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য হবেন যদি তিনি প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কোনো চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন বা অবসর নিয়েছেন এবং এই পদত্যাগ ও অবসরগ্রহণ যদি তিন বছর অতিবাহিত না হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর ৮ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী আসনের তপশিল দেন এএমএম নাসির উদ্দীন নেতৃত্বাধীন ইসি। ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, ২১ বুধবার ও বৃহস্পতিবার বাছাই করা হবে; ২৬ এপ্রিল আপিল করার সুযোগ রয়েছে নির্বাচন কমিশনে। ২৭ এপ্রিল ও ২৮ এপ্রিল আপিল নিষ্পত্তি হবে। ২৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ আর ভোট ১২ মে।

বিচারপতি আব্দুল মান্নানকে বিচারিক ক্ষমতা থেকে সরালেন প্রধান বিচারপতি

ইয়ামালের চোটে ম্লান বার্সার জয়

অসৌজন্যমূলক আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার প্রেক্ষাপটে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি আব্দুল মান্নানকে বিচারিক ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রধান বিচারপতির দপ্তর থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় তাকে কোনো বিচারিক দায়িত্ব দেওয়া হয়নি এবং কার্যতালিকা বা কজলিস্ট থেকেও তার নাম বাদ রাখা হয়েছে। বিচারিক পরিভাষায় ক্ষমতা প্রত্যাহারের এই প্রক্রিয়াকে প্রশাসনিক দৃষ্টিতে ‘ওএসডি’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৩ এপ্রিল সকালে কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে। সেখানে এপেক্স বাংলাদেশের জাতীয় বোর্ডের নির্বাচন এবং কনফারেন্স চলাকালে বিচারপতি আব্দুল মান্নান পুলিশসহ উপস্থিত হন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি ঢাকার নিম্ন আদালতের একটি সমন দেখিয়ে নির্বাচন বন্ধের জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন। তবে নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা আদালতের কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ পাননি বলে জানালে উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুই মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানস্থলে বিচারপতি উপস্থিত সদস্যদের সঙ্গে উচ্চৈঃস্বরে তর্কে লিপ্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উপস্থিত ব্যক্তিরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।

উত্তেজনা বাড়তে থাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা বিচারপতিকে ঘিরে রাখেন এবং বিক্ষোভের মুখে তিনি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন। বিচারিক পদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার এমন ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো।

×