শিরোনাম:

টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে পিএসজি

টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে পিএসজি

২০২৫ সালের এপ্রিলের পর থেকে প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকা কোনো ম্যাচে হারেনি প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি)। বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের ফিরতি লেগেও সেই ধারার কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ম্যাচটি ১-১ ব্যবধানে ড্র হলেও দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফরাসি জায়ান্টরা। এর মাধ্যমে বিরতিতে এগিয়ে থাকা ম্যাচে নিজেদের অপরাজিত থাকার রেকর্ডটিকে ৩৮ ম্যাচে উন্নীত করল লুইস এনরিকের দল।

লিগের প্রথম সেমিফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদকে দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে আর্সেনাল। এই জয়ে ২০ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠেছে মিকেল আরতেতার দল। ফলে আগামী ৩০ মে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে পুসকাস স্টেডিয়ামে পিএসজির বিপক্ষে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি গানারররা।

আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে এদিন পিএসজি ও বায়ার্নের দুই গোলকিপার সেভ করেছেন মোট ৯টি নিশ্চিত থাকা গোল। দুই গোলকিপার একটি করে গোল কনসিভ করেছে ঠিকই, তবে ম্যাচজুড়ে আক্রমণের পসরা বিপরীতে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল তারা। ম্যাচে ১৮টি শট নিয়ে ৬টি লক্ষ্যে রাখে বাভারিয়ানরা। ১৫টি শটের ৭টি লক্ষ্যে রাখে পিএসজি। ম্যানুয়েল নয়্যার ও সাফোনভ বীরত্ব দেখালেও ফার্স্ট লেগের ফলে ফাইনালে পৌঁছেছে পিএসজি।

বাংলাদশ সময় রাত একটায় শুরু হওয়া ম্যাচের তৃতীয় মিনিট পিএসজিকে লিড উপহার দেন উসমান দেম্বেলে। মাইকেল ওলিসের আক্রমণ পরাস্ত করে পাল্টা আক্রমণ গড়ে তোলে প্যারিস সেন্ট জার্মেই। ফাবিয়ান রুইজ ও খিচা কাভারাস্কেইয়ার মধ্যে ওয়ান-টু পাসের পর বল চলে যায় কাভারাস্কেইয়ার পায়ে। জর্জিয়া লেফট-ব্যাক বাঁ প্রান্ত দিয়ে বাইলাইন পর্যন্ত পৌঁছান এবং ডি-বক্সে নিচু ক্রস করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই দৌড়ে এসে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেকের পর থেকে কাভারাস্কেইয়া সর্বোচ্চ সংখ্যক গোলে সরাসরি অবদান রাখা খেলোয়াড়দের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন। ১৩টি গোল এবং আটটি অ্যাসিস্টসহ মোট ২১টি গোলে অবদান রেখেছেন তিনি। যা হ্যারি কেইনের সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। আর চ্যাম্পিয়ন লিগে অষ্টম গোলের দেখা পেলেন দেম্বেলে।

২৭তম মিনিটে ওলিসের বাম পায়ের দৃষ্টিনন্দন শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। মিডফিল্ড থেকে কেইনের ক্রস রিসিভ করেন ওলিসে। তারপর ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে থাকা নুনেসকে ড্রিবলিং করে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন বায়ার্ন উইঙ্গার। এরপর নেন বুলেট গতির শট। তার কার্ল শট ব্রেক করে চলে যায় বারের ওপর দিয়ে।

তার ঠিক দুই মিনিট পর হ্যান্ডবল বিতর্ক তৈরি হয়। লাইমারের ফ্লিক থেকে আসা বলটি পিএসজির লেফট-ব্যাক মেন্দেসের হাতে স্পষ্টভাবে আঘাত করে। তবে রেফারি তাকে পেনাল্টি দেওয়া কিংবা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর পরিবর্তে উল্টো লাইমারের বিরুদ্ধেই ফাউলের বাঁশি বাজিয়ে ফ্রি-কিক দিয়েছেন! এতে ক্ষিপ্ত হতে দেখা যায় ভিনসেন্ট কোম্পানিকে।

হ্যান্ডবল বিতর্কের রেষ না কাটতেই ৩১তম মিনিটে একটি ঘটনা ঘটে। লুইস দিয়াস মার্কিনিয়োস থেকে বল বাগিয়ে ডি-বক্সে পাস দেওয়ার চেষ্টা করলে বলটি ডিফ্লেক্টেড হয়। এরপর পাভলোভিচ জাইরে-এমেরিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন। স্তানিসিচের পাঠানো ক্রসটি গোলমুখে অগোছালোভাবে ক্লিয়ার করেন গোলরক্ষক সাফোনভ। কিন্তু এরপর ভিতিনিয়ার ক্লিয়ারেন্সটি জোয়াও নেভেসের হাতে লাগে বলে মনে হয়। এই ঘটনায় বায়ার্নের খেলোয়াড় ও কোচ পেনাল্টির দাবিতে চিৎকার করতে থাকেন।

৪২তম মিনিটে ডান প্রান্তে ফাঁকা জায়গায় অবস্থান বানিয়ে নেন মুসিয়ালা এবং ভিতিনিয়াকে পরাস্ত করে ডি-বক্সের মাঝখানে একটি নিচু কাটব্যাক করেন। কিন্তু সাফোনভ মাটিতে ঝাঁপিয়ে বল পাঞ্চ করেন এবং ক্লিয়ার করে বিপদমুক্ত করেন রুইজ।

বিরতির পর খেলা শুরু না হতেই হ্যারি কেইনের বুটের আঘাতে পাচো মাথায় আঘাত পান এবং মাটিতেই লুটিয়ে পড়েন পিএসজি সেন্টার-ব্যাক। কিছুক্ষণ সময়ক্ষেপন করে তাঁকে মাঠেই চিকিৎসা দিতে হয়।

৬২তম মিনেট সাফোনভ পিএসজিকে বড় বিপদ থেকে বাঁচান। ডি-বক্সের ভেতর দারুণভাবে ঘুরে বলটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখেন পাভলোভিচ। এরপর কিমিখের কাছ থেকে বলটি ফেরত নিয়ে তিনি আড়াআড়ি পাস দেন। ২২ গজ দূর থেকে প্রথম সুযোগেই শট নেন স্তানিসিচ। কিন্তু বায়ার্ন রাইট-ব্যাকের নেওয়া সেই নিচু ও সাইড-ফুটেড শটটি সরাসরি গিয়ে জমা হয় গোলরক্ষক সাফোনভের হাতে।

ম্যাচের সময় যত পুরোনো হতে থাকে ততই গোলনেশায় বুঁদ হয়ে পড়ে বায়ার্ন। একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে কোম্পানির শিষ্যরা। বেশ কয়েকটি সুযোগও তৈরি হয় অল্প সময়ের ব্যবধানে। বিশেষ করে ৬৭-৬৯ মিনিটের মধ্যে গোলের উদ্দেশ্যে দুটি শট ঠেকিয়ে দেন সাফোনভ।

বিশেষ করে ৬৯তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই মুসিলার সাথে ওয়ান-টু পাস খেলে পিএসজির ডান দিকের ডিফেন্সের পেছনে ঢুকে পড়েন ডেভিস। এরপর কানাডিয়ান এই খেলোয়াড় মাঝমাঠের দিকে বল কাটব্যাক করেন লুইস দিয়াসের উদ্দেশ্যে। দিয়াসের প্রথম টাচ এবং শটটি একদম লক্ষ্যে ছিল, কিন্তু পিএসজি গোলকিপার অসাধারণ এক সেভ করে দলকে রক্ষা করেন!

৯১তম মিনেট আরও একবার কিমিখের ফ্রি-কিক থেকে বল বিপদমুক্ত করেন গোলরক্ষক সাফোনভ। এরপর কাভারাস্কেইয়া মাঝমাঠে বলের দখল নেন এবং উপামেকানোর পাসটি আটকে মেন্দেসকে বাড়ান। কিন্তু মেন্দেসের দূরপাল্লার শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পোস্টের বাইরে চলে যায়।

ম্যাচের যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে বাঁ পায়ের জাদু দেখান হ্যারি কেইন। আসরের সর্বোচ্চ এই স্কোরার যেন সব ধরণের নাটকীয়তা জমিয়ে দেন। তবে ফার্স্ট লেগের ফলে শেষটা সুন্দর হয়নি জার্মানি জায়ান্টদের।

শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে কাল থেকে: প্রধানমন্ত্রী

টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে পিএসজি

শিল্প-কারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ আগামীকাল মঙ্গলবার রাত থেকে দেড় মাস আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ২১টি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা দীর্ঘ এক বৈঠক শেষে ব্যবসায়ী নেতারা প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাসের কথা জানান।

সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে পূর্বের অবস্থার মতো ফিরবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অস্থিতিশীলতা না করে সরকারকে তাদের মেয়াদে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া উচিত।’

সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘এই সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।’

বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে।’ তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যাটি ইতিমধ্যে সমাধান করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ইনশাআল্লাহ, আগামীকাল সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক-দেড় মাস আগে যে অবস্থায় ছিল, সে রকম একটা অবস্থায় ফিরে আসবে।’

ঘাটতি মোকাবেলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘জিটুজি ভিত্তিতে গত এক মাসে আরেকটি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি মোটামুটি সম্পন্ন করা হয়েছে। দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে।’

বিদ্যুৎ খাতের সমস্যাও দীর্ঘদিনের বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সমস্যা পর্যালোচনা করেছে, সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসেছে এবং সেগুলো সমাধানে পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এখন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।’

সরকার আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন সরকার প্রধান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময় কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে সরকারের সামনে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা রয়েছে।’

ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসা ও শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সামগ্রিক প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ে। ফলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান শুধু ব্যবসায়ীদের স্বার্থের বিষয় নয়; এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সমস্যার ব্যাপ্তি ও জটিলতা সম্পর্কে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় আগে থেকেই অবগত। সরকার সমস্যাগুলো আড়াল না করে খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছে এবং কীভাবে সেগুলোর সমাধান করতে চায়, সেটিও জানিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এতটুকু আমরা আপনাদের জানাতে চেয়েছি যে আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। সে জন্য হতাশ হওয়ার মতো কারণ নেই।’

সরকারের পরিকল্পনা যৌক্তিক মনে হলে তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে শুধু ব্যবসায়ী সম্প্রদায় নয়, পুরো দেশ উপকৃত হবে।’

আলোচনায় গণমাধ্যমকর্মী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানোর কারণও ব্যাখ্যা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সরকারের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা গণমাধ্যমের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তা না হলে বিচ্ছিন্ন তথ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।’

গণমাধ্যম সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেলে তা দেশবাসীর কাছেও সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের সহযোগিতা করবেন, যাতে আমরা আপনাদের জন্য আরও ভালো কিছু করতে পারি।’

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ, জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হক।

ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে ছিলেন : এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান,বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ড্রাষ্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম,  বাংলাাদেশ জুট মিলস এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কামাল, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাষ্ট্রিজের সভাপতি আমিরুল হক, বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস এসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব আনাম প্রমুখ।

এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন : দৈনিক মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ইংরেজি দৈনিক ওয়াদা’র সম্পাদক শফিকুল আলম, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, মোস্তাফা ফিরোজ, আব্দুন নূর তুষার, আকবর হোসেন, শাহেদ আলম, রেজাউল করিম রনি, আজিজুর রহমান রিপন, তরিকুল ইসলাম সৌরভ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহরিন ইসলাম খান ও বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল।

মোশাররফ করিম আসছেন এবার অভিনয় প্রশিক্ষক হিসেবে

টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে পিএসজি

টেলিভিশন মিডিয়ায় ১৯৯৯ সালে ‘অতিথি’ নাটক দিয়ে পর্দায় কাজ শুরু মোশাররফ করিমের। ভিজ্যুয়াল মিডিয়ায় চরিত্র রূপায়ণে জুড়ি নেই তার। সেই মোশাররফ করিম এবার আসছেন অভিনয় প্রশিক্ষক হিসেবে। নিজের দীর্ঘ অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞতা এবার তরুণ অভিনয় শিল্পীদের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন মোশাররফ।

২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাডেমি অব ক্রিয়েটিভ প্রফেশনালস আয়োজিত দিনব্যাপী এক অভিনয় কর্মশালা। আর এই অভিনয় কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে থাকবেন মোশাররফ করিম। মোশাররফ ছাড়াও থাকবেন নাট্যকার, নির্দেশক ও শিক্ষক ইউসুফ হাসান অর্ক।

দুই ভাগে কর্মশালাটি ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ভাগে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ‘থিওরি অব অ্যাকটিং’ সেশনে ইউসুফ হাসান অর্ক । তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আলোচনা করবেন।

অর্কের আলোচনার বিষয়বস্তু—অভিনয় ও পারফরম্যান্সের মানসিক-শারীরিক প্রস্তুতি, ন্যাচারাল ও স্টাইলাইজড অভিনয়পদ্ধতি, চরিত্র নির্মাণ (স্তানিস্লাভস্কি), টেম্পো, রিদম ও শারীরিক অভিব্যক্তি এবং অভিনয়ে মিউজিক্যালিটির ভূমিকা।

অভিনয় প্রশিক্ষক মোশাররফ করিম। ছবি : সংগৃহীত

এরপর মোশাররফ করিমের মাস্টার ক্লাস শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা থেকে । ‘আর্ট অব অ্যাকটিং’ সেশনে নিজের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আলোচনা করবেন তিনি।

চরিত্রের জন্য মানসিক প্রস্তুতি, চরিত্র বোঝা ও চরিত্রের মধ্যে প্রবেশ করার পদ্ধতি, চরিত্রের আবেগকে সত্যিকারের অভিনয়ে রূপ দেওয়ার কৌশল, পরিচালকের নির্দেশনা বোঝা ও নিজের সঙ্গে সমন্বয় করার নিয়ম এবং একজন পেশাদার অভিনেতা হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তোলা নিয়ে কথা বলবেন মোশাররফ করিম।

এই কর্মশালায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন নিবন্ধনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫০ জন। আয়োজকেরা মনে করেন, অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত বা আগ্রহ আছে এমন যে কারও জন্য এই ওয়ার্কশপ আজীবনের অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।

এর আগে একাডেমি অব ক্রিয়েটিভ প্রফেশনালস আয়োজন করেছে নির্দেশনা, সাউন্ড ডিজাইন, লোকেশন, সিনেমাটোগ্রাফি, প্রযোজনাসহ নানা বিষয়ে কর্মশালার ।

মোশাররফ করিম এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশে এই ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আছে। বিশেষ করে নাটক, সিনেমায় যাঁরা কাজ করতে চান তাঁদের জন্য নানা কার্যক্রম এখানে আছে। মূলত এক দিনের ক্লাস। এই ক্লাসগুলো করলে নানা জটিল বিষয় সরল হয়ে যাবে।

একাডেমি অব ক্রিয়েটিভ প্রফেশনালস (ACP) ঢাকায় অবস্থিত একটি সৃজনশীল পেশাজীবী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, যা বিভিন্ন কর্মশালার আয়োজন করে থাকে। তাদের কাজ হলো অভিনয়, লোকেশন সাউন্ড এবং মিডিয়া সম্পর্কিত বিভিন্ন ব্যবহারিক কর্মশালা বা মাস্টারক্লাস আয়োজন করা।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা, ভোট হবে ৭ ধাপে

টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে পিএসজি

নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে সারাদেশে মোট ৭টি ধাপে স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রাথমিক পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে দেশের ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আইন পরিবর্তন না হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ীই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে ইসি।

সারাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে আগামী ১২ নভেম্বর ৮০টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ইসি জানিয়েছে, দেশের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়ন পরিষদে এই ভোটগ্রহণ করা হবে। বর্তমানে নির্বাচনের প্রাক-প্রস্তুতিমূলক আলোচনা চলছে এবং পরবর্তীতে কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচনের বিস্তারিত ও আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হবে। এছাড়া নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসি সংলাপে বসবে বলেও জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলার নির্বাচন হবে ১২ নভেম্বর। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপে আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি এবং পঞ্চম ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন—এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন করতে হবে। ইসির পরিকল্পনা হলো শুরুতে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করা।

নির্বাচন কমিশনের এ পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। ভোটের বিস্তারিত তফসিল ও অন্যান্য তথ্য পরবর্তী সময়ে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হবে।

×