দেশের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী,টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই।
বাংলাদেশের বরেণ্য কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশের পাপেট শিল্পের পথিকৃৎ এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আজ সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তাঁর মৃত্যুতে দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
আজ সকালে মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণা। কেউ মনে করেছেন ‘নতুন কুঁড়ি’র নির্মাতাকে, কেউ ‘বাংলাদেশের পাপেটম্যান’কে, কেউবা শিশুদের প্রিয় ‘মীনা’ চরিত্রের স্রষ্ঠা মানুষটিকে।
তাঁর এক ছাত্র অনজন রহমান বলেন, ২০১৯ সালের ১সেপ্টেম্বর মুস্তাফা মনোয়ার স্যার তাঁর জন্মদিনে চ্যানেল আইয়ের ‘তারকা কথন’ অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে বলেছিলেন, ‘বয়সটাদুই রকম। একটা অঙ্কের ব্যাপার, আরেকটা মনের তৃপ্তির ব্যাপার। পৃথিবীকে দেখার ব্যাপার, পৃথিবীকে ভালোবাসার ব্যাপার। সেইখানে বয়স বাড়ে না।’
অনজন রহমান বলেন, মুস্তাফা মনোয়ার স্যার কলকাতা আর্ট কলেজে পড়ার সময় তাঁর জলরঙ কাজের প্রশংসা করেছিলেন কিংবদন্তি নির্মাতা সত্যজিৎ রায়। তাঁর মন্তব্য ছিল, মুস্তাফা মনোয়ারের ছবি খুব অল্প রেখায় অনেক কথা বলতে পারে। অথচ নিজের কাজ নিয়ে তিনি কখনো উচ্চকণ্ঠ ছিলেন না ।
অনজন আরও বলেন, মুস্তাফা মনোয়ার স্যার ক্লাশে আমাদের এমন ভাবে বোঝাতেন যে সেই বিষয়গুলো আর আমাদের দ্বিতীয়বার পরতে হোত না। বিশেষ করে নন্দন তত্বের বিশালতাকে খুব সাবলিল ভাবে ছাত্রদের সামনে হাজির করতেন।
হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতার পাশাপাশি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়।
মাঝখানে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে চিকিৎসকেরা তাঁর ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নিয়েছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; রোববার পুনরায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে আবারও লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। আজ সকালে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি স্ত্রী মেরী মনোয়ার, ছেলে সাদাত মনোয়ার ও মেয়ে নন্দিনী মনোয়ারসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভাকাক্সক্ষী রেখে গেছেন।

সার্ককে কার্যকর করতে একমত ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ও নেপালের রাষ্ট্রদূত








