জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ
যুক্তরাষ্ট্রে ‘জন্মসূত্রে’ নাগরিকত্ব প্রাপ্তির সুযোগ সীমিত করল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। গতকাল বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন ডোনল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড, জলসীমা এবং আকাশসীমায় যেসব শিশু জন্ম নেবে— তারা সবাই জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। ১৮৬৮ সালে দেশটির গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর গৃহীত হয়েছিল এই সংশোধনী।
নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের অভিবাসনবিরোধী প্রচারণার অংশ হিসেবে ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রথা বাতিলের প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দিয়েছিলেন। তবে গত ৩০ জুন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিদের মতে সিদ্ধান্ত দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রায় যেকোনো শিশুই নাগরিক অধিকারের যোগ্য।
সুপ্রিম কোর্টের সেই রায়কে “অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক” আখ্যা দিয়ে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত অন্যায় ছিল। তাই আমরা কিছু সমন্বয় বা পরিবর্তন আনছি। মানুষ জন্মসূত্রে নাগরিকত্বকে একটা তামাশায় পরিণত করেছে এবং একে কেন্দ্র করে ব্যবসা গড়ে তুলছে। আমরা এমনটা হতে দিতে পারি না।
হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ও ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির অন্যতম প্রধান রূপকার স্টিফেন মিলার জানান, নতুন নির্দেশের মাধ্যমে এই তালিকায় বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যের সন্তান ও বিদেশি সরকারের হয়ে লবিং বা প্রতিনিধিত্বকারীদের যুক্ত করা হয়েছে।
দ্বিতীয় নির্বাহী আদেশটি সরাসরি আক্রমণ করেছে “বার্থ ট্যুরিজম” বা সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে গর্ভবতী মায়েদের সফরকে। ট্রাম্প দাবি করেন, প্রতি বছর লাখ লাখ লোক এই সুবিধার অপব্যবহার করছে। উল্লেখ্য, পর্যটন ভিসার নামে সন্তান প্রসবের উদ্দেশ্যে ভ্রমণকে আগেই ভিসা জালিয়াতি হিসেবে গণ্য করা হতো, ফলে এই আদেশের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে সংশয় রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপকে আবারও সংবিধানের সরাসরি লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করেছে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন সহ দেশের শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
ইমিগ্র্যান্টস রাইটস প্রজেক্টের উপ-পরিচালক কোডি ওফসি বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে যে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সংবিধানের মূল কাঠামোর অংশ। নতুন করে কোনো নির্বাহী আদেশ তৈরি করে সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে না।
ট্রাম্পের এই আদেশও শেষ পর্যন্ত আদালতে আটকে যাবে।” সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে নাগরিকত্বের সুযোগ সীমিত করার এই সাম্প্রতিক প্রচেষ্টা আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

রোববার চট্টগ্রাম যাবেন প্রধানমন্ত্রী, থাকছে একাধিক কর্মসূচি


















