প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের । ছবি : রয়টার্স
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যাওয়া এবং তা হোয়াইট হাউসের কাছে গোপন করার অভিযোগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মধ্যে তীব্র বাগ্যুদ্ধ বা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে বলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দি ওয়াশিংটন পোস্ট। তবে হোয়াইট হাউস এবং পেন্টাগন উভয়েই এই দাবিকে সম্পূর্ণ ’ভিত্তিহীন ও ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প নিজেও এসব প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে এবং যারা এর বিপরীত দাবি করছে, তাদের কারাদণ্ড দেওয়ার হুমকিও দেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘বিপুল পরিমাণে গোলাবারুদ রয়েছে, বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের গোলাবারুদ।’ তবে তিনি এর বিস্তারিত জানাননি।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সমস্যা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়লে হেগসেথ দায় তাঁর ডেপুটি স্টিফেন ফেইনবার্গের ওপর চাপিয়ে দেন। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট পুরো ঘটনাটিই অস্বীকার করেন। ওয়াশিংটন পোস্টকে তিনি বলেন, এটি ‘শতভাগ ভুয়া খবর। আক্ষরিক অর্থেই কখনো ঘটেনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের ওপর সর্বোচ্চ আস্থা রয়েছে।’
একইভাবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, ‘মন্ত্রী হেগসেথ আমাদের গোলাবারুদের অবস্থান সম্পর্কে কাউকে বিভ্রান্ত করেননি এবং তিনি ডেপুটি সেক্রেটারি ফেইনবার্গকে দায়ীও করেননি।’ তিনি আরও বলেন, ‘অস্ত্রের মজুত নিঃশেষ হয়ে যাওয়া, অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ, ইরান নিয়ে মন্ত্রীর অবস্থান—এসব দাবি সমানভাবে কাল্পনিক।’
ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকের একপর্যায়ে এই বাদানুবাদ হয়। প্রতিবেদনে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ট্রাম্প হেগসেথকে বলেন, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতির সমস্যাটি ‘সমাধান হয়ে গেছে’ বলেই তিনি মনে করেছিলেন।
আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বুধবার জানায়, মার্কিন সামরিক বাহিনী থাড ( THAAD ) ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টরগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ এবং প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার প্রায় ৫০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ইতোমধ্যে ব্যবহার করে ফেলেছে। ফলে এসব অস্ত্রের মজুত ‘বিপজ্জনকভাবে কমে গেছে।
তবে লেভিট ট্রাম্পের মেজাজ হারানো দাবি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এটি মিথ্যা। প্রেসিডেন্টের একটি দুর্দান্ত দল রয়েছে, যাদের তিনি বিশ্বাস করেন। আর দলের প্রত্যেকেই জানেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী তিনিই।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা ছাড়াই মার্কিন সামরিক বাহিনী নতুন করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা একের পর এক কৌশলগত সাফল্য অর্জন করেছি। কিন্তু স্পষ্ট নীতিগত নির্দেশনা বা এই যুদ্ধ কোথায় গিয়ে শেষ হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না থাকায় আমরা একটি কৌশলগত পরাজয়ের মুখোমুখি হচ্ছি।’
ট্রাম্প বারবার ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছেন। কিন্তু এরপর আবারও হামলা থেকে সরে এসেছেন এবং আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। সোমবার তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এমন আলোচনা চলছে, যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি আবার খুলে দেওয়া হতে পারে।
আলোচনা সম্পর্কে বুধবার একটি ফক্স অ্যাফিলিয়েট টেলিভিশন চ্যানেলের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি শুনছি, তারা খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘ইরান আমাকে ফোন করেছিল। তারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলাটি চায়নি। আর আমরা বলেছিলাম, ঠিক আছে, আমি বরং এভাবেই করতে চাই। আমি মানুষ হত্যা করতে এবং সবকিছু পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে চাই না। ” আমরা সেদিকেই এগোচ্ছিলাম। তারা আলোচনা করতে চেয়েছে এবং আমরা তা করছি। মনে হচ্ছে, বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া সর্বশেষ দফার লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশাধিকার। ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চলাচল বাধাগ্রস্ত করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি ছিল বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ।